Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Wednesday, August 8, 2012

সফদার ডাক্তার

Leave a Comment
সফদার ডাক্তার মাথা ভরা টাক তার খিদে পেলে পানি খায় চিবিয়ে, চেয়ারেতে রাতদিন বসে গোনে দুই-তিন পড়ে বই আলোটারে নিবিয়ে। ইয়া বড় গোঁফ তার, নাই যার জুড়িদার শুলে তার ভুঁড়ি ঠেকে আকাশে, নুন দিয়ে খায় পান, সারাক্ষণ গায় গান বুদ্ধিতে অতি বড় পাকা সে। রোগী এলে ঘরে তার, খুশিতে সে চারবার কষে দেয় ডন আর কুস্তি, তারপর রোগীটারে গোটা দুই চাঁটি মারে যেন তার সাথে কত দুস্তি। ম্যালেরিয়া হলে কারো নাহি আর নিস্তার ধরে তারে কেঁচো দেয় গিলিয়ে, আমাশয় হলে পরে দুই হাতে কান ধরে পেটটারে ঠিক করে কিলিয়ে। কলেরার রোগী এলে, দুপুরের রোদে ফেলে দেয় তারে কুইনিন খাইয়ে, তারপর দুই টিন পচা জলে তারপিন ঢেলে তারে দেয় শুধু নাইয়ে। ডাক্তার সফদার, নাম ডাক খুব তার নামে গাঁও থরহরি কম্প, নাম শুনে রোগী সব করে জোর কলরব পিঠটান দিয়ে দেয় লম্ফ। একদিন সক্কালে ঘটল কি জঞ্জাল ডাক্তার ধরে এসে পুলিশে, হাত- কড়া দিয়ে হাতে নিয়ে যায় থানাতে তারিখটা আষাঢ়ের উনিশে।
Read More...

Sunday, August 5, 2012

ঈদ স্পেশাল।।টিংকু জিয়া

Leave a Comment
মন বলে আর নাই বলে ভাই
মার্কেটে তুই ক্যান যাবি?
যেইভাবে হোক
কিনতে হবে ঢিঙ্কা চিকা পাঞ্জাবি।
পাঞ্জাবির এ কেমন নাম হে?
প্রশ্ন বিঁধে অন্তরে, এত বুঝাই তবুও পারিনা বোঝাতে
ও মন তোরে।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে হাত ধরে,
ঢিঙ্কা চিকা ছাড়া এবার পাঞ্জাবী হয়
কি করে?
খুব পেরেশান মাথায় বাড়ি চিন্তিত খুব পাঙ্কু মিয়া,
গার্লফ্রেন্ড এবার
দাবি করেছে দিতে হবে টিঙ্কু জিয়া।
ঢিঙ্কা চিকা গায়ে দিয়ে যেতে হবে ঈদগাঁতে,
তা না হলে ঈদের দিন আর ঈদ
হবে না একসাথে। মার্কেটে গিয়ে পোশাক দেখে পাঙ্কু
মিয়া বাকহারা,
মাজাক্কালি, শিলা,
দাবাং আরো আছে আঁকশারা।
পাঙ্কু মিয়া ভাবে আহা কি কলিকাল আসলো রে,
দেশের পোশাক কৃষ্টি কালচার কোন অজানায় ভাসলো রে।
Read More...

Thursday, July 5, 2012

♦♦বর্ষার কবিতা♦♦

Leave a Comment


♂ কাগজ কলম লয়ে বসিয়াছি সদ্য,
আষাঢ়ে লিখিতে হবে বরষার পদ্য।
কি যে লিখি কি যে লিখি ভাবিয়া না পাই রে,
হতাশে বসিয়া তাই চেয়ে থাকি বাইরে।
সারাদিন ঘনঘটা কালো মেঘ আকাশে,
ভিজে ভিজে পৃথিবীর মুখখানা ফ্যাকাশে। বিনা কাজে ঘরে বাঁধা কেটে যায় বেলাটা,
মাটি হল ছেলেদের ফুটবল খেলাটা।
আপিসের বাবুদের মুখে নাই ফুর্তি,
ছাতা কাঁধে জুতা হাতে ভ্যাবাচ্যাকা মূর্তি।
কোনখানে হাঁটুজল, কোথা ঘন কর্দম---
চলিতে পিছল পথে পড়ে লোক হর্দম। ব্যাঙেদের মহাসভা আহ্লাদে গদ্গদ্,
গান করে সারারাত অতিশয় বদ্খদ।
Read More...

Wednesday, July 4, 2012

☼বিদ্রোহ☼কাজী নজরুল ইসলাম☼

Leave a Comment
☼বিদ্রোহ☼কাজী নজরুল ইসলাম☼

বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর
হিমাদ্রীর! বল বীর -
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
খোদার আসন "আরশ" ছেদিয়া
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব- বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-
রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর -
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন,
আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
আমি দুর্ব্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ'লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন
শৃংখল!
আমি মানি নাকো কোনো আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো,
আমি ভীম,
ভাসমান মাইন! আমি ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-
বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-
বিধাত্রীর!
বল বীর -
চির উন্নত মম শির! আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণী,
আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণী!
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত
জীবনানন্দ।
আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠুমকি' ছমকি'
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি'
ফিং দিয়া দিই তিন দোল্!
আমি চপলা-চপল হিন্দোল!
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা',
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উদ্দাম, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর।
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির-
অধীর।
বল বীর - আমি চির-উন্নত শির!
আমি চির-দুরন্ত-দুর্ম্মদ,
আমি দুর্দ্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দ্দম্
হ্যায়্ হর্দ্দম্
ভরপুর মদ।
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক, জমদগ্নি, আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি!
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়,
আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রাণি-সূত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য্য,
মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।
আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ
পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-
হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর - চির উন্নত মম শির।
আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক!
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনা ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার, আমি ইস্ত্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পাণির ডমরু-ত্রিশূল,
ধর্ম্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ-প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব! আমি প্রাণ-খোলা-হাসি উল্লাস, - আমি সৃষ্টি-
বৈরী মহাত্রাস,
আমি মহা-প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত, - কভু অশান্ত দারুণ
স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্প-হারী! আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির
মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল-ঊর্মির হিন্দোল্
দোল!
আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী- নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম-উদ্দাম,
আমি ধন্যি।
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধাতার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ
আমি হুতাশীর! আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত
পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা,
প্রিয়-লাঞ্ছিত
বুকে গতি ফের!
আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
চিত- চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম
পরশ কুমারীর!
আমি গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল
ক'রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা'র কাঁকন- চুড়ির কন্-কন্।
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর
কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল,
উদাসী পূরবী হাওয়া, আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-
বীনে গান গাওয়া!
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র রবি,
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর,
আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি! -
আমি তুরিয়ানন্দে ছুটে চলি এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার
খুলিয়া গিয়াছে
সব বাঁধ!
আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-
চিতে চেতন, আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব বিজয়
কেতন!
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
স্বর্গ-মর্ত্ত্য করতলে,
তাজি বোরবাক্ আর উচ্চৈস্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেস্বা হেঁকে চলে! আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্নি,
কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথর-কলরোল-
কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া,
দিয়া লম্ফ, আণি ত্রাস সঞ্চারি ভুবনে সহসা, সঞ্চরি'
ভূমি-কম্প!
ধরি বাসুকির ফনা জাপটি', -
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের
পাখা সাপটি'!
আমি দেব-শিশু, আমি চঞ্চল, আমি ধৃষ্ট আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের
অঞ্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুম্-ঘুম্
ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম্
মম বাঁশরী তানে পাশরি' আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠে' যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হারিয়া দোজখ
নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!
আমি প্লাবন-বন্যা, কভু ধরণীরে করি বরণিয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-
ধন্যা -
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল
কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণি! আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের
আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়, বিশ্বের আমি চির দুর্জ্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ-
পাতাল-মর্ত্ত্য
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে
সব বাঁধ!!
আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত
উদার!
আমি হল বলরাম স্কন্ধে, আমি উপাড়ি' ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব
সৃষ্টির মহানন্দে।
মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল,
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-
ভূমে রণিবে না -
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি আমি সেই দিন হব শান্ত!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-
চিহ্ন, আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-
হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব-ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান
বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি চির-বিদ্রোহী বীর - আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-
উন্নত শির!
Read More...

☼উমর ফারুক☼কাজী নজরুল ইসলাম☼

Leave a Comment
☼উমর ফারুক☼কাজী নজরুল ইসলাম☼

↓তিমির রাত্রি - 'এশা'র আযান শুনি দূর
মসজিদে।
প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো এ-
বুকে আসিয়ে বিঁধে!
আমির-উল-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।
তকবির শুনি,
শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর
শশী?
ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ও কি ও
তোমারি সে আহ্ববান?
আবার লুটায়ে পড়ি।
'সেদিন গিয়াছে' - শিয়রের
কাছে কহিছে কালের ঘড়ি। উমর! ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয় - রূপ ধরে এস - গ্রাসে অন্ধতা-
রাহু!
ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ
দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ।
শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের
ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!
ইসলাম - সে তো পরশ-মানিক
তাকে কে পেয়েছে খুঁজি?
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই
মোরা বুঝি।
আজ বুঝি - কেন বলিয়াছিলেন শেষ পয়গম্বর- 'মোরপরে যদি নবী হত কেউ, হত সে এক উমর।'
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি
খেজুরপাতার প্রাসাদ তোমার
বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'
নুয়ে, ঊর্ধ্বের যারা - পড়ছে তাহারা,
তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে।
শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব
ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমি ছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার,
আপনি রহিলে পিছে।
হেরি পশ্চাতে চাহি-
তুমি চলিয়াছ রৌদ্রদগ্ধ দূর মরুপথ বাহি
জেরুজালেমের কিল্লা যথায় আছে অবরোধ করি বীর মুসলিম সেনাদল তব বহু দিন মাস ধরি।
দুর্গের দ্বার খুলিবে তাহারা বলেছে শত্রু
শেষে-
উমর যদি গো সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করে এসে!
হায় রে, আধেক ধরার মালিক আমির-উল-
মুমেনিন শুনে সে খবর
একাকী উষ্ট্রে চলেছে বিরামহীন
সাহারা পারায়ে! ঝুলিতে দু
খানা শুকনো 'খবুজ' রুটি
একটি মশকে একটুকু পানি খোর্মা দু তিন মুঠি।
প্রহরীবিহীন সম্রাট চলে একা পথে উটে চড়ি চলেছে একটি মাত্র ভৃত্য উষ্ট্রের রশি ধরি!
মরুর সূর্য ঊর্ধ্ব আকাশে আগুন বৃষ্টি করে,
সে আগুন-তাতে খই সম ফোটে বালুকা মরুর পরে।
কিছুদূর যেতে উঠ হতে নামি কহিলে ভৃত্যে,
'ভাই
পেরেশান বড় হয়েছ চলিয়া! এইবার আমি যাই উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে, তুমি উঠে বস
উটে,
তপ্ত বালুতে চলি যে চরণে রক্ত উঠেছে ফুটে।'
...ভৃত্য দস্ত চুমি
কাঁদিয়া কহিল, 'উমর! কেমনে এ আদেশ কর
তুমি? উষ্ট্রের পিঠে আরাম করিয়া গোলাম
রহিবে বসি
আর হেঁটে যাবে খলিফা উমর ধরি সে উটের
রশি?'
খলিফা হাসিয়া বলে,
'তুমি জিতে গিয়ে বড় হতে চাও, ভাই রে, এমনি ছলে।
রোজ-কিয়ামতে আল্লাহ যে দিন কহিবে, 'উমর!
ওরে
করেনি খলিফা, মুসলিম-জাঁহা তোর সুখ
তরে তোরে।'
কি দিব জওয়াব, কি করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই।
আমি তোমাদের প্রতিনিধি শুধু, মোর অধিকার
নাই।
আরাম সুখের, -মানুষ হইয়া নিতে মানুষের
সেবা।
ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কেবা।
ভৃত্য চড়িল উটের পৃষ্ঠে উমর ধরিল রশি,
মানুষে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল
শশী।
জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্প বৃষ্টি হইল
কিনা, কি গান গাহিল মানুষে সেদিন বন্দী'
বিশ্ববীণা।
জানি না, সেদিন ফেরেশতা তব
করেছে কি না স্তব-
অনাগত কাল গেয়েছিল শুধু, 'জয় জয় হে মানব।'
তুমি নির্ভীক, এক খোদা ছাড়া করনি ক' কারে ভয়,
সত্যব্রত তোমায় তাইতে সবে উদ্ধত কয়।
মানুষ হইয়া মানুষের পূজা মানুষেরি অপমান,
তাই মহাবীর
খালদেরে তুমি পাঠাইলে ফরমান,
সিপাহ-সালারে ইঙ্গিতে তব করিলে মামুলি সেনা,
বিশ্ব-বিজয়ী বীরেরে শাসিতে এতটুকু
টলিলে না।
মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,
মনে পড়ে তব মহত্ত্ব-কথা - সেদিন
সে বিভাবরী নগর-
ভ্রমণে বাহিরিয়া তুমি দেখিতে পাইলে দূরে
মায়েরে ঘিরিয়া ক্ষুদাতুর দুটি শিশু সকরুণ
সুরে
কাঁদিতেছে আর
দুখিনী মাতা ছেলেরে ভুলাতে হায়, উনানে শূন্য
হাঁড়ি চড়াইয়া কাঁদিয়া অকুলে চায়।
শুনিয়া সকল -
কাঁদিতে কাঁদিতে ছুটে গেলে মদিনাতে
বায়তুল-মাল হইতে লইয়া ঘৃত আটা নিজ হাতে,
বলিলে, 'এসব চাপাইয়া দাও আমার পিঠের 'পরে,
আমি লয়ে যাব বহিয়া এ-সব দুখিনী মায়ের
ঘরে'।
কত লোক আসি আপনি চাহিল বহিতে তোমার
বোঝা,
বলিলে, 'বন্ধু, আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা!
রোজ-কিয়ামতে কে বহিবে বল আমার পাপের
ভার?
মম অপরাধে ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদিয়াছে,
আজি তার
প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি' - চলিলে নিশীথ রাতে
পৃষ্ঠে বহিয়া খাদ্যের বোঝা দুখিনীর
আঙিনাতে!
এত যে কোমল প্রাণ,
করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনি ক' অপমান!
মদ্যপানের অপরাধে প্রিয় পুত্রেরে নিজ করে মেরেছ দোররা, মরেছে পুত্রে তোমার চোখের
পরে!
ক্ষমা চাহিয়াছে পুত্র, বলেছ পাষাণে বক্ষ
বাঁধি-
'অপরাধ
করে তোরি মতো স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী।' আবু শাহমার গোরে
কাঁদিতে যাইয়া ফিরিয়া আসি গো তোমারে
সালাম করে।
খাস দরবার ভরিয়া গিয়াছে হাজার দেশের
লোকে,
'কোথায় খলিফা' কেবলি প্রশ্ন ভাসে উৎসুক চোখে,
একটি মাত্র পিরান
কাচিয়া শুকায়নি তাহা বলে,
রৌদ্রে ধরিয়া বসিয়া আছে গো খলিফা আঙিনা
-তলে।
হে খলিফাতুল-মুসলেমিন! হে চীরধারী সম্রাট!
অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ,
মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই
তোমারে এমন চোখের
পানিতে স্মরি গো সর্বদাই।
Read More...

Friday, June 29, 2012

সাম্যবাদী☼কাজী নজরুল ইসলাম

Leave a Comment
গাহি সাম্যের গান--
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-
ব্যবধান
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-
ক্রীশ্চান ।
গাহি সাম্যের গান ! কে তুমি ?-পার্সী ? জৈন ? ইহুদী ? সাঁওতাল,
ভীল, গারো ?
কনফুসিয়াস ? চার্বাক-চেলা ? বলে যাও, বল
আরো !
বন্ধু যা খুশি হও
পেটে-পিঠে, কাঁধে-মগজে যা-খুশী পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-
ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা গ্রন্থ সাহেব পড়ে যাও যত সখ,-
কিন্তু কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল ?
দোকানে কেন এ দর-কষাকষি ? - পথে ফুটে তাজা ফুল !
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের
জ্ঞান,
সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা খুলে দেখ নিজ
প্রাণ !
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম সকল যুগাবতার তোমার হৃদয় বিশ্ব-দেউল সকল দেবতার ।
কেন খুঁজে ফের দেবতা-ঠাকুর মৃত পুঁথি-
কঙ্কালে ?
হাসিছেন তিনি অমৃত হিয়ার নিভৃত অন্তরালে !
বন্ধু বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট । এই হৃদয়ই সে নীলচল, কাশী, মথুরা বৃন্দাবন,
বন্ধু-গয়া এ, জেরুজালেম এ, মদিনা, কাবা-ভবন
মসজিদ এই মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,
এইখানে বসে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয় । এই রণ-ভূমে বাঁশীর কিশোর গাহিলেন মহা-
গীতা
এই মাঠে হ'ল মেষের রাখাল নবীরা খোদার
মিতা ।
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি
ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার ডাক শুনি ।
এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন আহ্বান,
এইখানে বসি গাহিলেন তিনি কোরানের
সাম-গান !
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির- কাবা নাই ।
Read More...