Showing posts with label জীবনি. Show all posts
Showing posts with label জীবনি. Show all posts

Monday, August 13, 2012

রাজা রামমোহন রায়ের স্বলিখিত জীবনী

Leave a Comment
ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে কোনও এক ইংরেজ বন্ধুর উপরোধক্রমে রাজা রামমোহন রায় তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পত্রাকারে রচনা করেছিলেন। এই বৃত্তান্তটি প্রথমে সেদেশের এথিনিয়াম লিটারারি গেজেট ও পরে অন্যান্য পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়।প্রিয়বন্ধু, আমার জীবনের সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত
আপনাকে লিখিয়া দিবার জন্য
আপনি আমাকে সর্বদাই অনুরোধ করিয়াছেন।
তদনুসারে আমি আহ্লাদের সহিত আমার
জীবনের একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত
আপনাকে লিখিয়া দিতেছি। আমার পূর্ব্ব পুরুষেরা উচ্চশ্রেণীর ব্রাহ্মণ
ছিলেন। স্মরণাতীত কাল
হইতে তাঁহারা তাঁহাদিগের কৌলিকধর্ম্ম
সম্বন্ধীয় কর্ত্তব্যসাধনে নিযুক্ত ছিলেন।
পরে প্রায় একশত চল্লিশ বৎসর গত হইল, আমার
অতি বৃদ্ধ প্রপিতামহ ধর্ম্মসম্বন্ধীয় কার্য পরিত্যাগ করিয়া বৈষয়িক কার্য ও উন্নতির
অনুসরণ করেন। তাঁহার বংশধরেরা সেই
অবধি তাঁহারি দৃষ্টান্ত
অনুসারে চলিয়া আসিতেছেন। সভাসদদিগের
ভাগ্যে সচরাচর যেরূপ হইয়া থাকে,
তাঁহাদিগেরও সেইরূপ অবস্থার বৈপরীত্য হইয়া আসিয়াছিল; কখন সম্মানিত
হইয়া উন্নতিলাভ, কখনও বা পতন; কখনও ধনী,
কখন নির্ধন; কখন সফলতালাভে উৎফুল্ল, কখন
বা হতাশ্বাসে কাতর। কিন্তু আমার মাতামহ-
বংশীয়েরা কৌলিক
ধর্ম্মানুসারে ধর্ম্মযাজক-ব্যবসায়ী ; এবং উক্ত ব্যবসায়িগণের মধ্যে তাঁহাদিগের
পরিবারের অপেক্ষা উচ্চতর পদবীস্থ অপর
কেহই ছিলেন না। তাঁহারা বর্ত্তমান সময়
পর্য্যন্ত সমভাবে ধর্ম্মানুষ্ঠান ও
ধর্ম্মচিন্তাতে অনুরত ছিলেন। সাংসারিক
আড়ম্বরের প্রলোভন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার আগ্রহ অপেক্ষা, তাঁহারা মানসিক শান্তি শ্রেয়স্কর
জ্ঞান করিয়া আসিয়াছেন। আমার পিতৃবংশের প্রথা ও আমার পিতার
ইচ্ছানুসারে আমি পারস্য ও আরব্য
ভাষা শিক্ষা করিয়াছিলাম। মুসলমান-
রাজসরকারে কার্য্য করিতে হইলে উক্ত দুই
ভাষার জ্ঞান একান্ত প্রয়োজনীয়। আমার
মাতামহ-বংশের প্রথানুসারে আমি সংস্কৃত ও উক্ত ভাষায় লিখিত ধর্ম্মগ্রন্থ সকল
অধ্যয়নে নিযুক্ত হই ; হিন্দু সাহিত্য,
ব্যবস্থা ও ধর্ম্মশাস্ত্র সকলই উক্ত ভাষায়
লিখিত। ষোড়শ বৎসর বয়সে আমি হিন্দুদিগের
পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে একখানি পুস্তক
রচনা করিয়াছিলাম। উক্ত বিষয়ে আমার
মতামত এবং ঐ পুস্তকের কথা সকলে জ্ঞাত
হওয়াতে আমার একান্ত আত্মীয়দিগের সহিত
আমার মনান্তর উপস্থিত হইল। মনান্তর উপস্থিত হইলে আমি গৃহ পরিত্যাগপূর্বক
দেশভ্রমণে প্রবৃত্ত হইলাম। ভারতবর্ষের
অন্তর্গত অনেকগুলি প্রদেশ ভ্রমণ করি।
পরিশেষে বৃটিসশাসনের প্রতি অত্যন্ত
ঘৃণাবশতঃ আমি ভারতবর্ষের বহির্ভূত
কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করিয়াছিলাম। আমার বয়ঃক্রম বিংশতি বৎসর হইলে, আমার
পিতা আমাকে পুনর্বার আহ্বান করিলেন, –
আমি পুনর্বার তাঁহার স্নেহ লাভ করিলাম।
ইহার পর হইতেই আমি ইয়োরোপীয়দিগের
সহিত সাক্ষাৎ করিতে ও তাঁহাদিগের
সংসর্গে আসিতে আরম্ভ করিলাম। আমি শীঘ্রই তাঁহাদিগের আইন ও
শাসনপ্রণালী সম্বন্ধে এক প্রকার জ্ঞানলাভ
করিলাম। তাঁহাদিগকে সাধারণতঃ অধিকতর
বুদ্ধিমান, অধিকদৃঢ়তাসম্পন্ন
এবং মিতাচারী দেখিয়া তাঁহাদিগের
সম্বন্ধে আমার যে কুসংস্কার ছিল, তাহা আমি পরিত্যাগ করিলাম ; তাঁহাদিগের
প্রতি আকৃষ্ট হইলাম। আমার বিশ্বাস জন্মিল,
তাঁহাদিগের শাসন, বিদেশীয় শাসন হইলেও,
উহাদ্বারা শীঘ্র দেশবাসীগণের
অবস্থান্নোতি হইবে।আমি তাঁহাদিগের
মধ্যে অনেকেরই বিশ্বাসপাত্র ছিলাম। পৌত্তলিকতা ও অন্যান্য
কুসংস্কারবিষয়ে ব্রাহ্মণদিগের সহিত আমার
ক্রমাগত তর্কবিতর্ক হওয়াতে এবং সহমরণ ও
অন্যান্য অনিষ্টকর প্রথা নিবারণ
বিষয়ে আমি হস্তক্ষেপ করাতে, আমার
প্রতি তাঁহাদিগের বিদ্বেষ পুনরুদ্দীপিত ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল; এবং আমাদিগের
পরিবারের মধ্যে তাঁহাদিগের
ক্ষমতা থাকাতে, আমার
পিতা প্রকাশ্যরূপে আমার প্রতি পুনর্ব্বার
বিমুখ হইলেন। কিন্তু আমাকে কিছু কিছু
অর্থসাহায্য প্রদত্ত হইত। আমার পিতার মৃত্যুর পর আমি অধিকতর সাহসের সহিত
পৌত্তলিকতার পক্ষ
সমর্থনকারীদিগকে আক্রমণ করিলাম। এই
সময়ে ভারতবর্ষে মুদ্রাযন্ত্র সংস্থাপিত
হইয়াছে। আমি উহার সাহায্য
লইয়া তাঁহাদিগের ভ্রমাত্মক মত সকলের বিরুদ্ধে দেশীয় ও বিদেশীয় ভাষায় অনেক
প্রকার পুস্তক ও পুস্তিকা প্রচার করিলাম।
ইহাতে লোকে আমার প্রতি এরূপ ক্রুদ্ধ
হইয়া উঠিল যে, দুই তিন জন
স্কটল্যান্ডনিবাসী বন্ধু ব্যতীত আর সকলেই
আমাকে পরিত্যাগ করিলেন। সেই বন্ধুগণের প্রতি ও তাঁহারা যে জাতির অন্তর্গত
তাঁহাদিগের প্রতি আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ। আমার সমস্ত তর্ক বিতর্কে আমি কখন
হিন্দুধর্ম্মকে আক্রমণ করি নাই। উক্ত
নামে যে বিকৃত ধর্ম্ম এক্ষণে প্রচলিত,
তাহাই আমার আক্রমণের বিষয় ছিল।
আমি ইহাই প্রদর্শন
করিতে চেষ্টা করিয়াছিলাম যে, ব্রাহ্মণদিগের পৌত্তলিকতা, তাঁহাদিগের
পূর্ব্বপুরুষদিগের আচরণের ও যে সকল
শাস্ত্রকে তাঁহারা শ্রদ্ধা করেন ও
যদনুসারে তাঁহারা চলেন বলিয়া স্বীকার
পান, তাহার মতবিরুদ্ধ। আমার মতের
প্রতি অত্যন্ত আক্রমণ ও বিরোধ সত্ত্বেও, আমার জ্ঞাতিবর্গের ও অপরাপর লোকের
মধ্যে কয়েকজন অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত
ব্যক্তি আমার মত গ্রহণ করিতে আরম্ভ
করিলেন। এই সময়ে ইয়োরোপ দেখিতে আমার
বলবতী ইচ্ছা জন্মিল। তত্রত্য আচার ব্যবহার,
ধর্ম্ম ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্বন্ধে অধিকতর
জ্ঞানলাভ করিবার জন্য, স্বচক্ষে সকল
দেখিতে বাসনা করিলাম। যাহা হউক,
যে পর্য্যন্ত না আমার মতাবলম্বী বন্ধুগণের দলবল বৃদ্ধি হয়, সে পর্য্যন্ত আমার অভিপ্রায়
কার্য্যে পরিণত করিতে ক্ষান্ত থাকিলাম।
পরিশেষে আমার আশা পূর্ণ হইল। ইষ্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির নতুন সনন্দের
বিচারদ্বারা ভারতবর্ষের ভাবী রাজশাসন
ও ভারতবাসিগণের প্রতি গবর্ণমেন্টের ব্যবহার বহুবৎসরের জন্য স্থিরীকৃত হইবে, ও
সতীদাহ নিবারণের
বিরুদ্ধে প্রিভি কৌন্সলে আপিল
শুনা হইবে বলিয়া আমি ১৮৩০ সালের নবেম্বর
মাসে ইংলন্ড যাত্রা করিলাম। এতদ্ভিন্ন,
ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিল্লীর সম্রাটকে কয়েকটি বিষয়ে অধিকারচ্যুত
করাতে, ইংল্যন্ডের রাজকর্ম্মচারীদের
নিকট আবেদন করিবার জন্য, তিনি আমার
প্রতি ভারার্পণ করেন। আমি তদনুসারে, ১৮৩১
সালের এপ্রেল মাসে,
ইংলন্ডে আসিয়া উত্তীর্ণ হই। আমি আশা করি, এই বৃত্তান্তটি সংক্ষিপ্ত হইল
বলিয়া আপনি মার্জনা করিবেন ; কেননা এখন
বিশেষ বিবরণ সকল লিখিবার আমার অবকাশ
নাই। রামমোহন রায়।
Read More...

Monday, August 6, 2012

একজন হোমিওপ্যাথিক বিজ্ঞানী

Leave a Comment
১৭৫৫ সাল এপ্রিলের মধ্যরাতে জার্মানের
মিসেন শহরে দরিদ্র পরিবারে জন্মায় এক
শিশু। তখনও কেউ কল্পনা করতে পারেনি এই
শিশুই একদিন হয়ে উঠবে আধুনিক
চিকিৎসাবিজ্ঞান জগতে এক নতুন ধারার
জন্মদাতা। শিশুটির নাম দেওয়া হয় ক্রিশ্চিয়ান ফ্রিডরিখ সামুয়েল হানিমান্ ।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার
জন্মদাতা বলা হয় হানেমানকে।
হানিমান্ ছিলেন চার ভাইবোনের
মধ্যে তৃতীয়। পিতামাতার প্রথম পুত্র সন্তান।
বাবা গডফ্রিড ছিলেন চিত্রকর। তাই বাবার আশা ছিল হানেমান্ বড় হয়ে উঠলে তারই
সাথে ছবি আঁকার কাজ করবে।
বাবাকে সহযোগিতা করে পরিবারের দরিদ্র
অবস্থার উন্নতি করবে।
কিন্তু হানিমান্ -এর আগ্রহ পড়াশোনায়।
সে স্কুলে যেতে চায়। বারো বছর বয়সে হানিমান্ ভর্তি হলেন স্থানীয় টাউন
স্কুলে। অল্পদিনের মধ্যেই তার অসাধারণ
মেধার পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ তার স্কুলের
শিক্ষকরা।
টাউন স্কুলে শিক্ষা শেষ করে হানিমান
ভর্তি হলেন প্রিন্সেস স্কুলে। এদিকে সংসারে অভাব ক্রমশ বেড়েই চলছে।
বাবা গডফ্রিডের পক্ষে সংসার চালানো সম্ভব
হচ্ছিল না। নিরুপায় হয়ে ছেলে হানিমানকেও
কাজে লাগিয়ে দিতে হলো।
একটি মুদি দোকানে হানিমান্ কাজ শুরু করলেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় খুবই হতাশ হলেন। মেধাবী হানিমানের পড়া বন্ধ হোক
এটা তারা চাচ্ছিলেন না। তাই তার
পড়াশোনার সব খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ মওকুফ
করে দিল। শুরু হয় আবার পড়াশোনা।
যথাসময়ে স্কুলের শেষ পরীক্ষায় অসাধারণ
কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন হানিমান্ । পিতার অমতেই লিপজিক বিশ্ববিদ্যালয়ে
ভর্তি হবার জন্য বেরিয়ে পড়েন।
হানিমানের ইচ্ছে ছিল চিকিৎসাশাস্ত্রে
অধ্যয়ন করবেন। তখন কোন ডাক্তারের
অধীনে থেকে কাজ শিখতে হত। লিপজিকে কোন
ভালো হাসপাতাল ছিল না। তিনি ভিয়েনাতে ডাক্তার ফন কোয়ারিনের
কাছে কাজ করার সুযোগ পেলেন। তখন তার বয়স
মাত্র বাইশ বছর।এরই মধ্যে তিনি গ্রিক,
ল্যাটিন ইংরেজি, ইতালিয়ান, হিব্রু, আরবি,
স্প্যানিশ এবং জার্মান ভাষায় যথেষ্ট
পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এবার ভাষাতত্ত্ব ছেড়ে শুরু হলো চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন।
হাতে কিছু অর্থ সঞ্চয় হতেই তিনি ভর্তি হলেন
আরলাংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকেই
২৪ বছর বয়সে ‘ডক্টর অব মেডিসিন’
উপাধি অর্জন করেন। ডাক্তারি পাশ করে এক
বছর প্র্যাকটিস করার পর তিনি জার্মানির এক হাসপাতালে চাকরি পেলেন।
কিন্তু হানিমানের আগ্রহ পৃথিবীর বিভিন্ন
বিষয়ে। চিকিৎসা নিয়েই তিনি পড়ে নেই। হুট
করেই তিনি বিভিন্ন বই অনুবাদ করা শুরু
করলেন। এক
পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি অনুবাদক হয়ে উঠলেন।
একবার এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
ডাক্তার কালেনের একটি বই অ্যালোপ্যাথিক
মেটিরিয়া মেডিকা বইটি ইংরেজি থেকে জার্মান
ভাষায় অনুবাদ শুরু করেন।
সেখানে একটি অধ্যায়ে দেখতে পেলেন ম্যালেরিয়া জ্বরের ঔষধ কুইনাইন
যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রয়োগ
করা যায় তবে অল্পদিনের মধ্যেই তার
শরীরে ম্যালেরিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাবে।
কালেনের বই থেকে পাওয়া এই
বক্তব্যটি হানিমানের চিন্তার জগতে নাড়া দিল। তিনি পরীক্ষা শুরু করলেন।
প্রতিদিন ৪ ড্রাম করে দুবার সিঙ্কোনার রস
খেতে থাকলেন। তিন চারদিন পর লক্ষ্য করলেন
সত্যিই সত্যিই তিনি ম্যালিরিয়াতে আক্রান্ত
হলেন। এরপর পরিবারের প্রত্যেকের উপর এই
পরীক্ষা করলেন। প্রতিবারই একই ফলাফল পেলেন। এরপর থেকে মনে প্রশ্ন জাগলো।
এতদিন চিকিৎসকদের ধারণা ছিল মানুষের
দেহে অসুস্থ অবস্থায় যে সব লক্ষণ প্রকাশ পায়
তার বিপরীত ক্রিয়াশক্তি সম্পন্ন ঔষধেই রোগ
আরোগ্য হয়। এই প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে শুরু হল
তার গবেষণা। গোটার ডিউক মানসিক রোগের চিকিৎসালয়
খোলার জন্য তার
বাগানবাড়িটি হানিমানকে ছেড়ে দিলেন।
১৭৯৩ সালে হানিমান্ এখানে হাসপাতাল
গড়ে তুললেন। এবং একাধিক মানসিক
রোগীকে সুস্থ করে তোলেন। দীর্ঘ ছয় বছরের অক্লান্ত গবেষণার পর তিনি সিদ্ধান্তে এলেন
যথার্থই সদৃশকে সদৃশ আরোগ্য করে। তার এই
আবিষ্কার ১৭৯৬ সালে সে যুগের
একটি বিখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রবন্ধটির নাম দেওয়া হলো (An essay on a
new Principle for Ascertaining the curative Powers of Drugs and some
Examination of the previous principle.)
এই প্রবন্ধের মাধ্যমে আধুনিক হোমিওপ্যাথিক
চিকিৎসার ভিত্তি পত্তন করলেন হানিমান-
সেই কারণে ১৭৯৬ সালকে বলা হয়
হোমিওপ্যাথির জন্মবর্ষ। হোমিওপ্যাথি শব্দটির
উৎপত্তি হয়েছে গ্রিকশব্দ `হোমোস`
এবং `প্যাথোস` থেকে।হানিমানের এই
যুগান্তকারী প্রবন্ধ প্রকাশের
সাথে সাথে চিকিৎসা জগতে প্রায় সবাই এই
মতের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে গেল। তার বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় তীব্র সমালোচনামূলক
লেখা শুরু হলো। তাকে ‘হাতুড়ে চিকিৎসক’
উপাধি দেওয়া হলো। নিজের আবিষ্কৃত সত্যের
প্রতি তার এতখানি অবিচল আস্থা ছিল,
কোনো সমালোচনাতেই তিনি সামান্যতম
বিচলিত হলেন না।তার পড়াশোনা আরও বাড়তে থাকে। গবেষণাও চলতে থাকে।
পরে ১৮০৫ সালে ল্যাটিন ভাষায় প্রকাশ
করলেন ২৭টি ঔষধের বিবরণ সংক্রান্ত বই। এই
বইটি প্রথম হোমিওপ্যাথিক
মেটিরিয়া মেডিকা বা ভেষজ লক্ষণ সংগ্রহ।
এরপর থেকেই তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আরম্ভ করেন।লিপজিগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক
হানিমানের চিন্তাধারায় আকৃষ্ট
হয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
করতে চাইলেন। কিন্তু শিক্ষকদের একাংশ
এতে বাধা দিল। কিন্তু তাদের বাধা সত্ত্বেও হানিমান্ সুযোগ পেলেন।
এবং একটি বক্তৃতা দিলেন। তার
বক্তৃতা শুনে দলে দলে শিক্ষার্থীরা তার
মতের সঙ্গে একাত্ম হলো। কৌতূহলীও
হয়ে উঠলো। এ সময় ফরাসি সম্রাট
নেপোলিয়ানের সেনাবাহিনী রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন
করছিল। তাদের মধ্যে বহু সংখ্যক সৈন্য
টাইফাস রোগে আক্রান্ত। কোনো চিকিৎসাই
কাজে দিচ্ছে না। সেই সময়
ডাকা হলো হানিমানকে। তিনি বিরাট সংখ্যক
সৈন্যকে অল্পদিনের মধ্যেই সুস্থ করে তোলেন। এতে তার নাম ছড়িয়ে যেতে শুরু করলো।
তারপরও নিজের দেশে সংগ্রাম করেই কাজ
করতে হতো হানিমানকে। কিন্তু তার জীবনের
মোড় ঘুরে শেষ বয়সে। ১৮৩৪ সালে এক
সুন্দরী নারী মাদাম
মেলানি চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন হানিমানের কাছে।
মেলানি ছিলেন ফ্রান্সের প্রাক্তন
রাষ্ট্রপতির পালিত কন্যা। হানিমানের
সাথে সাক্ষাতের সময় তার বয়স ছিল ৩৫।
মেলানি ছিলেন শিল্পী-কবি। বয়েসের বিরাট
ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও দুজনের মধ্যে গড়ে উঠলো প্রেমের সম্পর্ক। বিয়েও
হলো। মেলানি ফ্রান্স নিয়ে গেলেন
হানিমানকে। সেখানেই প্রথম
সরকারিভাবে হানিম্যান ডাক্তারি পেশা শুরু
করেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে হানেমান্
পেলেন সব সংগ্রামের পুরস্কার, খ্যাতি, অর্থ। ৮৮ বছর বয়সে ১৮৪৩ সালে পৃথিবীর
মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নেন
হোমিওপ্যাথির জনক হানিমান্।
Read More...

Friday, July 27, 2012

একজন হিটলার ও কিছু কথা

Leave a Comment
অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ
অ্যাডলফ হিটলার ১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল
জার্মানির সীমান্তবর্তী ব্রাউনাউ-আম-ইন
গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবার নাম
ছিল Alois ও মায়ের নাম ছিল Klaaraa.
হিটলারের বাবা ছিলেন জারজ সন্তান। যতটুকু জানা যায়, আলোইসের
মা মারিয়া আন্না ও সিকেলগ্রাবার
প্রতিবেশি মিলশ্রমিক জোয়ান জর্জ
হিটলারের মিলিত ফসল এই আলোইস হিটলার।
সে হিসেবে হিটলারের দাদা ছিলেন
একজন ইহুদি। হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪
থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত জার্মানির ফিউরার
ছিলেন। বুদ্ধিজীবী, উন্নত সংস্কৃতি এবং শ্রমিক
আন্দোলনকে মনেপ্রাণে ঘৃণাকারী ব্যাক্তি ছিলেন
হিটলার। ছোটবেলা থেকেই হিটলার ছিলেন
ভীষণ রগচাটা, একগুঁয়ে ও জেদি।
মা মারা যাওয়ার পর সংসারের সব বন্ধন
ছিন্ন করে হিটলার চলে যান ভিয়েনায়। ভিয়েনায় থাকাকালিন সময়েই তার মনের
মধ্যে প্রথম জেগে উঠে ইহুদিবিদ্বেষ। ১৯১২ সালে ভিয়েনা ছেড়ে হিটলার
চলে আসেন মিউনিখে। সেখানে অনেক দুঃখ-
কষ্টে ২ বছর অতিবাহিত হয় হিটলারের।
১৯১৪ সালে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে হিটলার
সৈনিক হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেন। এরপর
তিনি যোগ দেন লেবার পার্টিতে। এক বছরের মধ্যেই তিনি এ পার্টির প্রধান হন। পার্টির
নাম পরিবর্তন করে রাখেন ন্যাশনাল
সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি।
পরবর্তীতে এই পার্টিকেই
বলা হত নাৎসি পার্টি। হিটলারের নাৎসি পার্টির
জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
হিটলার চেয়েছিলেন জার্মানিতে যেন আর
কোন রাজনৈতিক দল না থাকে। কিন্তু তার এ
ষড়যন্ত্র ধরা পড়লে কারাবন্দি হন হিটলার।
এক বছর পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মোহনীয় বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ,
ইহুদি বিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্র
বিরোধিতা ছড়াতে থাকেন। এভাবেই একসময়
জনপ্রিয় নেতায় পরিনত হন হিটলার। এক
বছরের মধ্যেই পুরো জার্মানি তিনি নিজের
নিয়ন্ত্রনে নেন। নাৎসিরা তাদের বিরোধীপক্ষের অনেককেই
হত্যা করেছিল, দেশের
অর্থনীতিকে ঢেলে সাজিয়েছিল, সামরিক
বাহিনীকে নতুন নতুন অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত
করেছিল
এবং সর্বোপরি একটি সমগ্রতাবাদি ও ফ্যাসিবাদি একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল।
হিটলার এমন একটি বৈদেশিক নীতি গ্রহন
করেছিলেন যাতে সকল জীবন্ত অঞ্চলকে দখল
করে নেয়ার কথা বলা হয়। ১৯৩৪ সালে হিটলার রাষ্ট্রপতির
পরিবর্তে নিজেকে জার্মানির ফুয়েরার
হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯৩৫ সালে নতুন আইন
চালু করে দেশের নাগরিকদের
দুটি ভাগে বিভক্ত করেন। এ
আইনে ইহুদিরা জার্মানিতে বসবাসের অধিকার পেলেও নাগরিকত্ব হারান। বিশ্বজয়ের স্বপ্নে মত্ত হয়ে ১৯৩৯ সালের ১
সেপ্টেম্বর জার্মান
বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমন করে। এই দিন
থেকেই শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বিশ্বজুড়ে গণহত্যার মধ্য দিয়ে একের পর এক
দেশ দখল করতে থাকেন হিটলার। ফ্রান্সের পতনের পর ১৯৪১ সালে হিটলার
বাহিনী রাশিয়া আক্রমন করে।
প্রথমদিকে জার্মান বাহিনী সর্বত্র জয়লাভ
করলেও মিত্রশক্তি যখন
সম্মিলিতভাবে অগ্রসর হতে শুরু করে তখন
হিটলার বাহিনী ধীরে ধীরে পিছু হটতে থাকে। অবশেষে মিত্র শক্তি বিজয় লাভ করে। ১৯৪৫
সালের মধ্যে জার্মানি ধ্বংসস্তূপে পরিনত
হয়। হিটলারের রাজ্যজয় ও
বর্ণবাদী আগ্রাসনের কারনে লক্ষ লক্ষ
মানুষকে প্রান হারাতে হয়। ৬০
লক্ষ ইহুদিকে পরিকল্পনামাফিক হত্যা করা হয়। হিটলার বাহিনী ৬০ লক্ষ ইহুদি ছাড়াও
সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী, কমিউনিস্ট,
রোমানি ভাষাগোষ্ঠীর (যাযাবর) জনগন,
অন্যান্য স্লাবিক ভাষাভাষী জনগন,
প্রতিবন্ধী, সমকামী পুরুষ এবং ভিন্ন
রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের মানুষদের উপর এই অমানবিক গণহত্যা পরিচালিত করে।
নাৎসি অত্যাচারের সকল
ঘটনা আমলে নিলে নিহতের
সংখ্যা দাড়াতে পারে নব্বই লক্ষ থেকে এক
কোটি দশ লক্ষের মত। ইহুদি নিধনের এই
ঘটনা ইতিহাসে "হলোকষ্ট" নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধের শেষ
দিনগুলিতে হিটলার বার্লিনে ছিলেন। রেড
আর্মি যখন বার্লিন প্রায় দখল করে নিচ্ছিল
সে রকম একটা সময়ে হিটলার তার
প্রেমিকা ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করেন।
ইভা হিটলারকে গভীরভাবে ভালবাসতেন। বিয়ের পর হিটলার তার সঙ্গীদের
সঙ্গে শ্যাম্পেন পান করেন। তারপর
দুটি চিঠি লিখেন। একটিতে সবকিছুর জন্য
তিনি ইহুদিদের দায়ি করেন
এবং অপরটিতে নিজের সব
সম্পত্তি তিনি পার্টিকে দান করে দেন। ৩০ এপ্রিল ১৯৪৫ সাল। বার্লিনের চারদিক
অবরোধ করে ফেলেছে লালফৌজ। হিটলার
বুঝতে পারেন যেকোনো মুহূর্তে তিনি লালফৌজ
বাহিনীর হাতে বন্দি হতে পারেন। এদিন
বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে তিনি বাঙ্কার
থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে তার সহযোগীদের সাথে শেষবারের মত
দেখা করে আসেন। এসময় তিনি তার
সহযোগীদের বলেন, তার মৃত্যুর পর যেন তার
লাশ এমনভাবে পোড়ান হয় যাতে তার দেহের
অংশের কোন চিহ্ন না থাকে। এর কিছুক্ষন
পরেই গুলির শব্দ শোনা যায়। হিটলার নিজের পিস্তল দিয়েই আত্মহত্যা করেন। এর আগে তার
সদ্য বিবাহিতা বউ
ইভা বিষপানে আত্মহত্যা করেন। চারদিক থেকে গোলা পড়ছে। তখন হিটলারের
দুই সৈন্য তার মৃতদেহ কম্বল
দিয়ে মুড়িয়ে বাগানে নিয়ে যান এবং এ
অবস্থাতেই তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন
লাগিয়ে দেন। গোটা বিশ্বধ্বংসের
খেলা শেষ করে নিজেই শেষ হয়ে যান অ্যাডলফ হিটলার। তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া, দৈনিক যুগান্তর ও কয়েকটি ওয়েবসাইট
Read More...