Showing posts with label ইসলামিক. Show all posts
Showing posts with label ইসলামিক. Show all posts

Wednesday, August 22, 2012

হযরত উমর ফারুক (রাঃ)

Leave a Comment
উমর ইবনুল খাত্তাব যিনি সচরাচর হযরত উমর নামে অভিহিত, ইসলাম ধর্মের মহানবী মুহাম্মাদ এর ঘনিষ্ঠ সাহাবী। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কুরাইশ গোত্রের বনু আদি সম্প্রদায়ে তাঁর
জন্ম। তিনি উমর আল ফারুক নামেও পরিচিত। 'ফারুক' অর্থ সত্য-মিথ্যার
পার্থক্যকারী। তিনি খুলাফায়ে রাশেদীন এর দ্বিতীয় খলিফা হলেও শিয়া সম্প্রদায় তাঁকে ইসলামের খলিফা হিসেবে প্রাপ্য
মর্যাদা প্রদান করে না।
↔প্রাথমিক জীবন
উমর বর্তমান সৌদী আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম
খাত্তাব ইবনে নুফাইল। তাদের পরিবার
মূলত মধ্যবর্তী ধরনের ছিল।
তিনি শিক্ষিত ছিলেন যা তখনকার আরব
সমাজে অনেকটাই ব্যতিক্রম ছিল
এবং শিক্ষিতদের অন্যরকম সম্মান ছিল। সুস্বাস্থ্য, শক্তিশালী, সাহসী এবং বিশেষ
করে রাগী পুরুষ হিসেবেও তিনি সুপরিচিত
ছিলেন। যৌবনকালে একজন প্রথম শ্রেণীর
কুস্তীগীর হিসেবে প্রখ্যাত ছিলেন।
তথনকার আমলে মদ পান আরবে খুবই সাধারণ
বিষয় ছিল এবং অনেকের বর্ণনামতে উমর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মদ পান করতেন।
কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কখনও মদ্য স্পর্শ করেননি।
↔ইসলাম গ্রহণ
মুহাম্মদ যখন প্রথম ইসলামের বাণী প্রচার করেন তখন উমর তাঁর তীব্র
বিরোধিতা করেন এবং কুরাইশদের প্রথাগত
ধর্ম রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ইসলাম বিরোধী হিসেবে তিনি সুপরিচিত
ছিলেন। ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থ
অনুসারে উমর মুহাম্মদকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং একদিন
সে উদ্দেশ্যেই মুক্ত তরবারী হাতে ঘর
থেকে বের হন। পথিমধ্যে তিনি একজনের
সাক্ষাৎ লাভ করেন
যিনি ইতোমধ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
করেছিলেন। সেই ব্যক্তি তাঁকে নবীকে হত্যার
পূর্বে প্রথমে নিজের ঘর সামলানোর জন্য
বলেন। তাঁর কাছে উমর জানতে পারেন তাঁর
বোন ফাতিমা এবং ভগ্নীপতি ইসলাম গ্রহণ
করেছে। অগত্যা তিনি বোনের
বাড়িতে যান এবং বোন ও ভগ্নীপতিকে কুরআন পাঠরত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ভগ্নীপতিকে মারধর
করেন ; ফাতিমা তাঁর
স্বামীকে রক্ষা করতে এলে তাকেও
আঘাতের শিকার হতে হয়।
প্রচণ্ডভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও
তাঁরা কেউই ইসলাম ত্যাগ করতে ম,্,ত হন নি। বোনের শরীরে রক্ত দেখে তিনি শান্ত
হন এবং তাঁরা যা পাঠ
করছিলো তা দেখতে চান। পবিত্র
হয়ে কুরআনের একটি আয়াত তিনি পাঠ
করেন। আয়াতটি ছিল সূরা ত্বা-হা'র অংশ।
সেই আয়াতটি তাঁকে এতই অভিভূত করে যে তিনি সেদিনই মুহাম্মদের
কাছে যেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর ইসলাম
প্রসারে তিনি ততটাই
ভূমিকা রেখেছিলেন, গ্রহণের
পূর্বে ইসলামের বিরুদ্ধে যতটা ভূমিকা রাখতেন।
Read More...

Tuesday, August 21, 2012

«হযরত মোহাম্মাদ সাল্লালাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম»

Leave a Comment

জন্মঃ৫৭০ খ্রিঃ মক্কার কোরাইশ গোত্রের বনি হাশিম বংশে জন্ম গ্রহন করেন।
মাতাঃআমিনা
পিতাঃআব্দুল্লাহ

....................................................
শৈশব ও কৈশোর কাল:
তত্কালীন আরবের রীতি ছিল
যে তারা মরুভূমির মুক্ত আবহাওয়ায়
বেড়ে উঠার মাধ্যমে সন্তানদের সুস্থ দেহ
এবং সুঠাম গড়ন তৈরির জন্য জন্মের পরপরই
দুধ পান করানোর কাজে নিয়োজিত বেদুইন
মহিলাদের কাছে দিয়ে দিতেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর আবার ফেরত
নিতেন। এই রীতি অনুসারে মোহাম্মদকেও
হালিমা বিনতে আবু জুয়াইবের (অপর নাম
হালিমা সাদিয়া) হাতে দিয়ে দেয়া হয়।
এই শিশুকে ঘরে আনার পর দেখা যায়
হালিমার সচ্ছলতা ফিরে আসে এবং তারা শিশুপুত্রকে সঠিকভাবে লালনপালন
করতে সমর্থ হন। তখনকার
একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য - শিশু মোহাম্মদ
কেবল হালিমার একটি স্তনই পান করতেন
এবং অপরটি তার অপর দুধভাইয়ের জন্য
রেখে দিতেন। দুই বছর লালনপালনের পর হালিমা শিশু মোহাম্মদকে আমিনার
কাছে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু এর পরপরই
মক্কায় মহামারী দেখা দেয় এবং শিশু
মুহাম্মাদকে হালিমার
কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। হালিমাও
চাচ্ছিলেন শিশুটিকে ফিরে পেতে। এতে তার আশা পূর্ণ হল।
ইসলামী বিশ্বাসমতে এর কয়েকদিন পরই
একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে - একদিন শিশু
নবীর বুক চিরে কলিজার একটি অংশ বের
করে তা জমজম কূপের পানিতে ধুয়ে আবার
যথাস্থানে স্থাপন করে দেয়া হয়। এই ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসে সিনা চাকের ঘটনা হিসেবে খ্যাত। এই ঘটনার পরই
হালিমা মুহাম্মাদকে মা আমিনার
কাছে ফিরিয়ে দেন। ছয় বছর বয়স পূর্ণ
হওয়া পর্যন্ত তিনি মায়ের সাথে কাটান।
এই সময় একদিন আমিনার ইচ্ছা হয়
ছেলেকে নিয়ে মদীনায় যাবেন। সম্ভবত কোন আত্মীয়ের
সাথে দেখা করা এবং স্বামীর কবর
জিয়ারত করাই এর কারণ ছিল।
আমিনা ছেলে, শ্বশুর এবং দাসী
উম্মে আয়মনকে নিয়ে ৫০০ কিলোমিটার পথ
পাড়ি দিয়ে মদীনায় পৌঁছেন। তিনি মদীনায় একমাস সময় অতিবাহিত
করেন। একমাস পর মক্কায় ফেরার পথে আরওয়া নামক স্থানে এসে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ
করেন। মাতার মৃত্যুর পর দাদা আবদুল
মোত্তালেব শিশু মুহাম্মাদকে নিয়ে মক্কায়
পৌঁছেন। এর পর থেকে দাদাই মুহাম্মাদের
দেখাশোনা করতে থাকেন। মোহাম্মদের
বয়স যখন ৮ বছর ২ মাস ১০ দিন তখন তার দাদাও মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার
পুত্র আবু তালিবকে মোহাম্মদের দায়িত্ব
দিয়ে যান। আবু তালিব ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আরবদের
নিয়ম অনুযায়ী বছরে একবার
সিরিয়া সফরে যেতেন। মুহাম্মাদের বয়স
যখন ১২ ব্ছর তখন তিনি চাচার
সাথে সিরিয়া যাওয়ার জন্য
বায়না ধরলেন। প্রগাঢ় মমতার কারণে আবু তালিব আর নিষেধ করতে পারলেননা।
যাত্রাপথে বসরা পৌঁছার পর কাফেলাসহ
আবু তালিব তাঁবু ফেললেন। সে সময় আরব
উপদ্বীপের রোম অধিকৃত রাজ্যের
রাজধানী বসরা অনেক দিক
দিয়ে সেরা ছিল। কথিত আছে, শহরটিতে জারজিস সামে এক খ্রিস্টান পাদ্রী ছিলেন যিনি বুহাইরা বা বহিরা নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি তার
গীর্জা হতে বাইরে এসে কাফেলার
মুসাফিরদের মেহমানদারী করেন। এ সময়
তিনি বালক মুহাম্মাদকে দেখে শেষ
নবী হিসেবে চিহ্নিত করেন। ফুজ্জারের
যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন নবীর বয়স ১৫ বছর। এই যুদ্ধে তিনি স্বয়ং অংশগ্রহণ করেন।
যুদ্ধের নির্মমতায় তিনি অত্যন্ত ব্যথিত
হন। কিন্তু তাঁর কিছু করার ছিলনা। সে সময়
থেকেই তিনি কিছু একটি করার
চিন্তাভাবনা শুরু করেন।
...................................................
নবুয়ত-পূর্ব জীবন
আরবদের মধ্যে বিদ্যমান হিংস্রতা,
খেয়ানতপ্রবণতা এবং প্রতিশোধস্পৃহা দমনের
জন্যই হিলফুল ফুজুল নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহাম্মাদ এতে যোগদান
করেন এবং এই সংঘকে এগিয়ে নেয়ার
ক্ষেত্রে তিনি বিরাট ভূমিকা রাখেন।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় তরুণ
বয়সে মুহাম্মাদের তেমন কোন
পেশা ছিলনা। তবে তিনি বকরি চরাতেন বলে অনেকেই উল্লেখ করেছেন। সাধারণত
তিনি যে বকরিগুলো চরাতেন সেগুলো ছিল
বনি সা'দ গোত্রের। কয়েক কিরাত
পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি মক্কায়
বসবাসরত বিভিন্ন ব্যক্তির বকরিও
চরাতেন। এরপর তিনি ব্যবসায় শুরু করেন। মুহাম্মাদ অল্প সময়ের মধ্যেই
একাজে ব্যাপক সফলতা লাভ করেন। এতই
খ্যাতি তিনি লাভ করেন যে তার
উপাধি হয়ে যায় আল আমিন এবং আল সাদিক যেগুলোর বাংলা অর্থ হচ্ছে যথাক্রমে বিশ্বস্ত এবং সত্যবাদী । ব্যবসায় উপলক্ষ্যে তিনি সিরিয়া , বসরা, বাহরাইন এবং ইয়েমেনে বেশ কয়েকবার সফর করেন। মুহাম্মাদের সুখ্যাতি যখন
চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তখন
খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ তা অবহিত
হয়েই তাকে নিজের ব্যবসার জন্য
সফরে যাবার অনুরোধ জানান। মুহাম্মাদ
এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং খাদীজার পণ্য নিয়ে সিরিয়ার অন্তর্গত
বসরা পর্যন্ত যান। খাদীজা মাইছারার মুখে মুহাম্মাদের
সততা ও ন্যায়পরায়ণতার
ভূয়সী প্রশংশা শুনে অভিভূত হন।
এছাড়া ব্যবসায়ের
সফলতা দেখে তিনি তার
যোগ্যতা সম্বন্ধেও অবহিত হন। এক পর্যায়ে তিনি মুহাম্মাদকে বিবাহ করার
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি স্বীয়
বান্ধবী নাফিসা বিনতে মুনব্বিহরের কাছে বিয়ের ব্যাপরে তার মনের
কথা ব্যক্ত করেন। নাফিসার
কাছে শুনে মুহাম্মাদ বলেন যে তিনি তার
অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন জানাবেন।
মুহাম্মাদ তাঁর চাচাদের
সাথে কথা বলে বিয়ের সম্মতি জ্ঞাপন করেন। বিয়ের সময় খাদীজার বয়স ছিল ৪০
আর মুহাম্মাদের বয়স ছিল ২৫। খাদীজার
জীবদ্দশায় তিনি আর কোন বিয়ে করেননি।
খাদীজার গর্ভে মুহাম্মাদের ৬ জন সন্তান
জন্মগ্রহণ করে যার মধ্যে ৪ জন
মেয়ে এবং ২ জন ছেলে। তাদের নাম যথাক্রমে কাসেম, যয়নাব, রুকাইয়া,
উম্মে কুলসুম', ফাতিমা এবং আবদুল্লাহ। ছেলে সন্তান দুজনই শৈশবে মারা যায়।
মেয়েদের মধ্যে সবাই ইসলামী যুগ পায়
এবং ইসলাম গ্রহণ করে এবং একমাত্র
ফাতিমা ব্যতিত সবাই নবীর জীবদ্দশাতেই
মৃত্যুবরণ করে। মুহাম্মাদের বয়স যখন ৩৫ বছর তখন
কা'বা গৃহের পূনঃনির্মাণের
প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বেশ
কয়েকটি কারণে কাবা গৃহের সংস্কার কাজ
শুরু হয়। পুরনো ইমারত ভেঙে ফেলে নতুন
করে তৈরি করা শুরু হয়। এভাবে পুনঃনির্মানের সময় যখন
হাজরে আসওয়াদ (পবিত্র কালো পাথর)
পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয় তখনই
বিপত্তি দেখা দেয়। মূলত কোন গোত্রের
লোক এই কাজটি করবে তা নিয়েই ছিল
কোন্দল। নির্মাণকাজ সব গোত্রের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু
হাজরে আসওয়াদ স্থাপন ছিল একজনের
কাজ। কে স্থাপন করবে এ নিয়ে বিবাদ শুরু
হয় এবং চার-পাঁচ দিন যাবৎ এ বিবাদ
অব্যাহত থাকার এক পর্যায়ে এটি এমনই
মারাত্মক রূপ ধারণ করে যে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
এমতাবস্থায় আবু উমাইয়া মাখজুমি একটি সমাধান নির্ধারণ করে যে পরদিন
প্রত্যুষে মসজিদে হারামের
দরজা দিয়ে যে প্রথম প্রবেশ করবে তার
সিদ্ধান্তই সবাই মেনে নেবে। পরদিন
মুহাম্মাদ সবার প্রথমে কাবায় প্রবেশ
করেন। এতে সবাই বেশ সন্তুষ্ট হয় এবং তাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়।
আর তার প্রতি সবার সুগভীর আস্থাও ছিল।
যা হোক এই দায়িত্ব পেয়ে মুহাম্মাদ
অত্যন্ত সুচারুভাবে ফয়সালা করেন।
তিনি একটি চাদর বিছিয়ে তার উপর নিজ
হাতে হাজরে আসওয়াদ রাখেন এবং বিবদমান প্রত্যেক গোত্রের নেতাদের
ডেকে তাদেরকে চাদরের বিভিন্ন
কোণা ধরে যথাস্থানে নিয়ে যেতে বলেন
এবং তারা তা ই করে। এরপর তিনি পাথর
উঠিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করেন।
....................................................
নবুওয়ত প্রাপ্তি
চল্লিশ বছর বয়সে ইসলামের
নবী মুহাম্মাদ নবুওয়ত লাভ করেন, অর্থাৎ
এই সময়েই স্রষ্টা তার কাছে ওহী প্রেরণ
করেন। নবুওয়ত
সম্বন্ধে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য
পাওয়া যায় আজ-জুহরির বর্ণনায়। জুহরি বর্ণিত হাদীস অনুসারে নবী সত্য
দর্শনের মাধ্যমে ওহী লাভ করেন। ত্রিশ
বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর নবী প্রায়ই
মক্কার অদূরে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন
অবস্থায় কাটাতেন। তাঁর স্ত্রী খাদিজা নিয়মিত তাঁকে খাবার দিয়ে আসতেন।
এমনি এক ধ্যানের সময় ফেরেশতা জিব্রাইল তার কাছে আল্লাহ প্রেরিত ওহী
নিয়ে আসেন। জিব্রাইল তাঁকে এই
পংক্তি কটি পড়তে বলেন:
....
...
...
পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার
নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।
সৃষ্টি করেছেন
মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।
পাঠ করুন, আপনার
পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের
সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
শিক্ষা দিয়েছেন
মানুষকে যা সে জানত না।
...
...
...
উত্তরে নবী জানান যে তিনি পড়তে জানেন
না, এতে জিব্রাইল
তাকে জড়িয়ে ধরে প্রবল চাপ প্রয়োগ করেন
এবং আবার একই পংক্তি পড়তে বলেন। কিন্তু
এবারও মুহাম্মাদ নিজের অপারগতার
কথা প্রকাশ করেন। এভাবে তিনবার চাপ দেয়ার পর মুহাম্মাদ
পংক্তিটি পড়তে সমর্থ হন। অবর্তীর্ণ হয়
কুরআনের প্রথম আয়াত গুচ্ছ; সূরা আলাকের
প্রথম পাঁচ আয়াত। প্রথম অবতরণের পর
নবী এতই ভীত হয়ে পড়েন
যে কাঁপতে কাঁপতে নিজ গ্রহে প্রবেশ করেই খাদিজাকে কম্বল দিয়ে নিজের
গা জড়িয়ে দেয়ার জন্য বলেন। বারবার
বলতে থাবেন, "আমাকে আবৃত কর"।
খাদিজা নবীর সকল কথা সম্পূর্ণ বিশ্বাস
করেন এবং তাঁকে নবী হিসেবে মেনে নেন।
ভীতি দূর করার জন্য মুহাম্মাদকে নিয়ে খাদিজা নিজ
চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবন নওফেলের
কাছে যান। নওফেল তাঁকে শেষ
নবী হিসেবে আখ্যায়িত করে।
ধীরে ধীরে আত্মস্থ হন নবী। তারপর আবার
অপেক্ষা করতে থাকেন পরবর্তী প্রত্যাদেশের জন্য।
একটি লম্বা বিরতির পর তাঁর
কাছে দ্বিতীয় বারের মত ওহী আসে। এবার
অবতীর্ণ হয় সূরা মুদ্দাস্সির-এর
কয়েকটি আয়াত। এর পর
থেকে গোপনে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন মুহাম্মাদ। এই ইসলাম ছিল
জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়ার জন্য
প্রেরিত একটি আদর্শ ব্যবস্থা। তাই এর
প্রতিষ্ঠার পথ ছিল খুবই বন্ধুর। এই
প্রতিকূলততার মধ্যেই নবীর মক্কী জীবন
শুরু হয়।
....................................................আরো পড়ুন: http://bn.m.wikipedia.org/wiki/মুহাম্মাদ
Read More...

Friday, August 17, 2012

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ

Leave a Comment
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দশম হিজরি/৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে যে হজ পালন করেন, ইসলামের ইতিহাসে তা ‘হুজ্জাতুল বিদা’ বা ‘বিদায় হজ’ নামে খ্যাত। প্রায় এক লাখ ২৪ হাজার মতান্তরে এক লাখ ২৬ হাজার মুসলিম নরনারী তাঁর সফরসঙ্গী হয়ে হজ করতে মক্কা মোকাররমা গমন করেন। ৮ জিলহজ সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে নবী করিম (সা.) মিনায় চলে গেলেন। তারপর ৯ জিলহজ শুক্রবারের দিন ভোরে নামাজ পড়ে মিনা থেকে আরাফাতের দিকে রওনা হলেন। লাখো কণ্ঠের গগনবিদারী ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে দুই পাশের পর্বতমালা কেঁপে উঠল। ওই দিনটি ছিল ইসলামের গৌরবময় ও সুউচ্চ মর্যাদা বিকাশের দিন। এর ফলে প্রাক- ইসলামি অন্ধকার যুগের যাবতীয় কুসংস্কার ও অহেতুক কাজকর্ম বিলুপ্ত হয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফাতের ময়দানে পৌঁছে মসজিদে নামিরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দেন, যার সারকথা হলো, ‘হে আমার উম্মতগণ! আজ যে কথা তোমাদের বলব, মনোযোগ
দিয়ে শোনো। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তোমাদের সঙ্গে একত্রে হজ করার সুযোগ আমার আর ঘটবে না। ওহে মুসলমান! অন্ধকার যুগের সব ধ্যান-ধারণাকে ভুলে যাও, নতুন আলোয় পথ চলতে শেখো। জেনে রাখো! আজ থেকে অতীতের সব মিথ্যা সংস্কার, অনাচার, পাপাচার ও কুপ্রথা বাতিল হয়ে গেল।’ তারপর তিনি সর্বজনীন মানবাধিকারের কথা ঘোষণা করে বললেন, ‘মনে রেখো! প্রত্যেক মুসলমান একে অন্যের ভাই এবং সব মুসলমান ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ। কেউ কারও চেয়ে ছোট নও, কারও চেয়ে বড় নও। আল্লাহর চোখে সবাই সমান। নারীজাতির কথা ভুলে যেয়ো না। নারীর ওপর পুরুষের যেরূপ অধিকার আছে, পুরুষের ওপর নারীরও সেরূপ অধিকার আছে। তাদের প্রতি অত্যাচার কোরো না। মনে রেখো, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের গ্রহণ করেছ। সাবধান! ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি কোরো না। এ বাড়াবাড়ির কারণে অতীতে বহু জাতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রত্যেক মুসলমানের ধন-প্রাণ পবিত্র বলে জানবে। যেমন পবিত্র আজকের এদিন—ঠিক তেমনই পবিত্র তোমাদের পরস্পরের জীবন ও ধনসম্পদ। হে মুসলমানগণ! হুঁশিয়ার! নেতার আদেশ কখনো লঙ্ঘন কোরো না। যদি কোনো কর্তিত নাশা কাফ্রি ক্রীতদাসকেও তোমাদের আমির করে দেওয়া হয় এবং সে যদি আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালনা করে, তবে অবনত মস্তকে তার আদেশ মেনে চলবে। দাস-দাসীদের প্রতি সদা সদ্ব্যবহার কোরো। তাদের ওপর কোনো অত্যাচার কোরো না।’ অতঃপর রাসুলে করিম (সা.) দাস-দাসী ও শ্রমিকের অধিকার ঘোষণা করে বললেন, ‘হে লোকগণ! তোমাদের গোলাম; যা তোমরা নিজেরা ভক্ষণ করবে, তা তাদেরও খেতে দেবে। যা তোমরা পরিধান করবে, তা তাদেরও পরিধান করাবে। ভুলে যেয়ো না, তারাও তোমাদের মতো মানুষ। সাবধান! পৌত্তলিকতার পাপ যেন তোমাদের স্পর্শ না করে। শিরক কোরো না, চুরি কোরো না, মিথ্যা কথা বোলো না, ব্যভিচার কোরো না। সব ধরনের মলিনতা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে পবিত্রভাবে জীবন যাপন কোরো, চিরদিন সত্যাশ্রয়ী হয়ো।’
নবী করিম (সা.) নারীজাতির অধিকার ও মর্যাদা ঘোষণা করে বললেন, ‘তোমরা নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। অবশ্যই তাদের হক বা অধিকার তোমাদের ওপর
আছে এবং তোমাদের হকও তাদের ওপর আছে।’ আরবের জানমালের কোনো মূল্য ছিল না। তারা যাকে ইচ্ছা তাকে হত্যা করত এবং মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক ধনসম্পদ ছিনিয়ে নিত। তাই বিশ্বমানবতার শান্তি ও নিরাপত্তা প্রদানকারী রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা দুনিয়ার সামনে সন্ধি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান করলেন।’ নবী করিম (সা.) নেতার অনুসরণের তাগিদ দিয়ে বললেন, ‘হে আমার উম্মতগণ! আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, তা যদি তোমরা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, তাহলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। সেই গচ্ছিত সম্পদ হচ্ছে আল্লাহর কিতাব বা আল কোরআন ও আল হাদিস বা আমার সুন্নাহ।’ এরপর রাসুলে করিম (সা.) কতিপয় বিধান জারি করলেন। হুকুম করা হলো, আল্লাহ সব হকদারকে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য প্রদান করেছেন; সুতরাং এখন কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত করার দরকার নেই। জেনে রেখো! ছেলে ওই ব্যক্তির বলেই সাব্যস্ত হবে, যার শয্যায় সে জন্মলাভ করেছে। আর ব্যভিচারের শাস্তি হলো প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা এবং তার
হিসাব আল্লাহই গ্রহণ করবেন। আর যে ছেলে নিজের পিতার বদলে অন্য কারও ঔরসে জন্ম নিয়েছে বলে দাবি করে এবং গোলাম স্বীয় মনিব ছাড়া অন্য কারও মালিকানায় নিজেকে সংযুক্ত করে, তার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত অবধারিত। ধার করা বস্তু অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। উপহারের বদলে উপহার প্রদান করতে হবে এবং কোনো বস্তুর জিম্মাদার হলে এর পরিপূরণ অবশ্যই তাকে করতে হবে। এতটুকু বলার পর তিনি জনসমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি?’ সবাই সমস্বরে বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, আপনি দায়িত্ব পূর্ণ করেছেন।’ তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো।’ অতঃপর জনসমুদ্রকে লক্ষ করে বললেন, ‘যারা এখন এখানে উপস্থিত আছ, তারা এ ভাষণ অন্যদের কাছে পৌঁছে দেবে, যারা এখানে উপস্থিত নেই।’ খুতবার শেষ পর্যায়ে তিনি সব মুসলমানকে লক্ষ করে বললেন, ‘বিদায়, বিদায়!’
Read More...

Thursday, August 16, 2012

রহস্যময় অ্যাডাম পিক

1 comment
লাখ লাখ বছর ধরে যে চূড়াটি মানুষের
কাছে রহস্যময়তার স্বাক্ষর বহন করে চলেছে তার নাম অ্যাডাম পিক্ (Adam
peak) বা আদম চূড়া। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-
পশ্চিম সীমান্তের শ্রীপাডা নামক
প্রদেশে এই চূড়াটি অবস্থিত । খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম_ এই চার
ধর্মের অনুসারীদের কাছে অতি পবিত্র এই
চূড়াটি (পাহাড়টি)। এই চূড়াতেই মানুষের
আদি পিতা হজরত আদম (আ.) বেহেশত
থেকে সরাসরি পতিত হয়েছিলেন। চূড়াটির
চারদিকে সবুজের বিপুল সমারোহ, মাঝেমধ্যে পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা।
পাহাড়ি চূড়ার আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছো্ট
নদী ও পাহাড়ি ঝরনা। সব মিলে এক
মায়াবী নয়নাভিরাম দৃশ্য। হজরত আদম (আ.)
বেহেশত থেকে পতিত হন শ্রীলঙ্কায়, আর
আদি মাতা হজরত হওয়া (আ.) পতিত হন জেরুজালেমে। শ্রীলঙ্কা থেকে জেরুজালেমের
দূরত্ব কয়েকশ হাজার বর্গ কি.মি.। মহান প্রভুর
কাছে অনেক অনুতাপের পর উভয়ে মিলিত হন
মধ্যপ্রাচ্যে। সেই থেকে শুরু করে বর্তমান অবধি শ্রীলঙ্কার
এই চূড়াকে কেন্দ্র করে রহস্য রয়ে গেছে।
হজরত আদম (আ.) এই চূড়ায় পতিত হয়েছিলেন
বিধায় এই চূড়াটিকে বলা হয় আদম
চূড়া বা অ্যাডাম পিক্। এই চূড়ার উচ্চতা ৭৩৬২
ফুট বা ২২৪৩ মিটার। চূড়াটিতে আদম (আ.) এর পায়ের যে চিহ্ন রয়েছে তার পরিমাপ হচ্ছে ৫
ফুট ৭ ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হচ্ছে ২ ফুট ৬
ইঞ্চি। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩০০
অব্দে এই পদচিহ্ন আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কৃত
হওয়ার পরে পদচিহ্নের চতুর্দিকে ঘেরাও
দিয়ে রাখা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে শত শত পর্যটক পরিভ্রমণ করেছে চূড়াটিতে। বিশ্বের যেসব
নামকরা পর্যটক এই চূড়াটিতে পরিভ্রমণ
করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন
ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৬৪) ও
মাক্রো পলো (১২৫৪-১৩২৪)।
চূড়াটিতে যারা পরিভ্রমণ করেছেন তারা এর চতুর্দিকে পরিদর্শন করা ছাড়াও স্পর্শ
করে দেখেছেন আদম (আ.) এর পদচিহ্ন। বৌদ্ধ
ধর্মের অনুসারীরাই বেশি এই চূড়ায় যতায়াত
করে। এ ধর্মের অনুসারীরা মনে করে এই
চূড়াটি তাদের অস্তিত্বের আদি প্রতীক।
তবে চূড়াটিতে যাওয়া কোনো সহজ ব্যাপার নয়। প্রথমে নৌকা কিংবা পানিতে চলে এমন
ধরনের যানে আরোহণ, তারপর পায়ে হেঁটে উঁচু
পাহাড়ে উঠা, সেখান থেকে অনেক কষ্টের
মাধ্যমে চূড়ায় উঠতে হয়। তবে এরই
মধ্যে ঘটতে পারে নানা ধরনের বিপত্তি।
সাপ, বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে অনেকের। লাখ লাখ বছর
ধরে চলে আসা যে রহস্য ভেদ আজও মানুষ
জানতে পারেনি তা হলো_ চূড়ার
যে স্থানে আদম (আ.) এর পায়ের চিহ্ন সেই
স্থানে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যের
আলো, আর মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মেঘের ঘনঘটা বা বৃষ্টি পড়ে না। এমন আরও অনেক
রহস্য আছে এই চূড়াটিকে কেন্দ্র করে।
অতি চমৎকার এই চূড়াটি বছরের পর বছর
অবিকল রয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য এতটুকু হ্রাস
পায়নি। এ কারণে চূড়াটি বিশ্বের মানুষের
কাছে পবিত্র বলে পরিচিত।
Read More...

Wednesday, August 15, 2012

লাইলাতুল ক্বদর

Leave a Comment
ক্বদর শব্দের অর্থ : মহাত্ম বা সম্মান, এই
মহাত্ম ও সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল
ক্বদর, তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়।
বারটি মাসের মধ্যে ফযিলতপূর্ণ মাস হল
রমযান মাস। এই মাসের একটি রাত্র
হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। ক্বদরের রাত্রের ফযিলত ও
মহাত্ম সম্পর্কে কুরআনুল করিমে সূরাতুল ক্বদর
নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়েছে।
অর্থঃ (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্র কুরআনকে)
নাযিল করেছি শবে ক্বদরে। (২) শবে ক্বদর
সম্বন্ধে আপনি কি জানেন? (৩) শবে ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (৪) এই
রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ
ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার
নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের
উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা ক্বদর)
মহান আল্লাহ আরও বলেন, অবশ্যই আমি কুরআন নাযিল করেছি একটি বরকতপূর্ণ রাতে।
(সুরা দুখান: ৩)
ব্যাখ্যা : বরকতপূর্ণ রাতের দ্বারা বিভিন্ন
তাফসিরবিদগণ শবে ক্বদরকে বুঝিয়েছেন।
শবে ক্বদরের ফযিলত ও মহাত্ম সম্পর্কে কুরআন
পাকের এই বর্ণনাই যথেষ্ট। এ কারণে নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বদর রজনীর ফযিলত
সম্পর্কে তেমন কিছু বলেন নাই। তবে উহা কোন
মাসে কোন তারিখে হতে পারে এবং উহা কারও
নসীব হলে সে তখন আল্লাহর নিকট
কি চাইবে সে সম্পর্কে তিনি উপদেশ দিয়েছেন।
* আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের
সাথে এবং সওয়াব হাসিলের
উদ্দেশ্যে ক্বদরের রাতে ইবাদত করে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।
(বুখারী ও মুসলিম) * আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর। রমযানের শেষ
দশকের বে-জোড় রাত্রিতে। (বুখারী)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রমযানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারারাত
জাগতেন, নিজের পরিবারবর্গকেও জাগাতেন
এবং (আল্লাহর ইবাদতে) খুব বেশী সাধনা ও
পরিশ্রম করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)
* আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিন
এতেকাফ করতেন এবং বলতেন,
তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে শবে ক্বদর
সন্ধান কর। (বুখারী ও মুসলিম)
* আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একবার
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের প্রথম দশদিন
এতেকাফ করলেন। এ সময় একবার মাথা বের
করে বললেন, আমি ক্বদরের রাত্রি তালাশ
করতে গিয়ে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছি,
অতঃপর মধ্যম দশকেও এতেকাফ করেছি। অতঃপর
স্বপ্নে আমার নিকট কেউ এসে বললো ক্বদর রজনী শেষ দশকে। অতএব যে ব্যক্তি আমার
সাথে প্রথম দশকে এতেকাফ করেছে, সে যেন
শেষ দশকেও এতেকাফ করে। নিশ্চয়
উহা আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছিল। কিন্তু
পরে উহা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে মনে পড়ে আমি ঐ রাত্রির ফজরে নিজেকে পানি আর কাদার
মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। অতএব,
তোমরা উহা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতেই
তালাশ করবে। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, সেই
রাতেই আকাশ ভারিবর্ষণ করল। মসজিদ তখন
ছাপরা ছিল, অতএব, ছাদ থেকে পানি পড়ল। তখন আমার দুচোখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখল যে তাঁর
কপালে পানি ও কাদার দাগ লেগেছে। আর
তা ছিল একুশ তারিখের সকাল, তবে আবদুল্লাহ
ইবনে উনাইসের বর্ণনায় রয়েছে- তেইশ
তারিখের সকাল। (বুখারী ও মুসলিম) ব্যাখ্যা : উপরোক্ত হাদিসের দ্বারা বুঝা গেল
শবে ক্বদর প্রত্যেক বৎসর একই তারিখে হয়
না। তবে সকল বর্ণনাকারীর একমত রমযানের
শেষ দশকের বেজোড় রাতে হয়।
‘তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড়
রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর।’ এটা রমজানের ২৭ তারিখ রাতে হওয়ার
সম্ভাবনা বেশি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর
রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
যুগে কতক সাহাবি রমজানের শেষ ১০ রাতের
২৭ তারিখ রাতে লাইলাতুল কদর হিসেবে স্বপ্নে দেখেছিল। এ
কথা শ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও
তোমাদের মত ২৭ তারিখ রাতকেই লাইলাতুল
কদর হিসেবে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। অতএব
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরকে নির্দিষ্ট করতে চায় সে যেন ২৭
তারিখ রাতকে নির্বাচন করে নেয়।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল।
আমি যদি ক্বদরের রাত খুঁজে পাই,
তাহলে আমি ওই রাতে কি বলবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব
দিলেন, তুমি বলবে-
(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল
আফওয়া ফা’ফু আন্নী) অর্থ: হে আল্লাহ
তুমি অবশ্যই ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ করো,
কাজেই আমাকে ক্ষমা করো। (তিরমিযী)
Read More...

Sunday, August 12, 2012

এবার ভারতেরমুম্বাইয়ে পুলিশ-মুসলমানসংঘর্ষে নিহত ২

Leave a Comment
ভারতের বাণিজ্যিক
রাজধানী মুম্বাইয়ে পুলিশ ও
মুসলিম বিক্ষোভকারীদের
মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত দু'জন নিহত
ও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। কিছুদিন আগে ভারতের উত্তর-
পূর্বাঞ্চলীয় অসম
রাজ্যে মুসলিম-
বিরোধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার
প্রতিবাদে গতকাল (শনিবার)
মুম্বাই নগরীতে হাজার হাজার মুসলমান প্রতিবাদ-
বিক্ষোভে নামলে পুলিশের
সঙ্গে তাদের এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের হামলার
প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা ইট-
পাটকেল নিয়ে আইন-
শৃঙ্খলা বাহিনীর
বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়
এবং কয়েকটি বাস ও পুলিশের ভ্যান ভাংচুর করে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ
করতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড
গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। মুম্বাই পুলিশের কমিশনার অরুপ
পাটনায়েক দাবি করেন, আহত
হওয়ার পর ওই দুই মুসলিম
বিক্ষোভকারী মারা গেছেন;
পুলিশের গুলিতে নয়।
তিনি আরো দাবি করেন, অসম দাঙ্গায় গণমাধ্যমের মুসলিম-
বিরোধী পক্ষপাতমূলক ভূমিকার
কারণে বিক্ষোভকারীরা গতকালের
সংঘর্ষের সময় মিডিয়ার
তিনটি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন। গত মাসের শেষ দিকে ভারতের
অসম রাজ্যে উগ্র
বোড়োরা সংখ্যালঘু মুসলিম-
বিরোধী দাঙ্গা শুরু করে। এতে এ
পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন নিহত ও চার
লাখের বেশি মানুষ ঘর- বাড়ি ছাড়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগই
মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ।
Read More...

Thursday, August 9, 2012

ইসরাঈলী বৃদ্ধার আত্নহত্যার চেষ্টা

Leave a Comment
ইসরাইলে এবার গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার
চেষ্টা করেছেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা।
বার্তাসংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, গতকাল
(বুধবার) বিকেলে আল-কুদসে (জেরুজালেম) নিজ
বাসভবনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার
চেষ্টা চালিয়েছে ওই মহিলা। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শরীরের প্রায় ২০ ভাগ
মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
গত এক মাসে এ নিয়ে ইসরাইলে চার জন
গায়ে আগুন দিয়ে ইহুদিবাদী সরকারের
কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানালো। এর আগে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার
চেষ্টাকারী দুই
ইসরাইলি হাসপাতালে মারা গেছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইলে জীবনযাত্রার ব্যয়
বেড়ে যাওয়া এবং সব ধরনের সামাজিক
অবিচার ও বৈষম্যের প্রতিবাদে গত ২২ জুলাই ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলীয় ইয়েহুদ
শহরে আকিভা মাফি নামের সাবেক এক
সেনা গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার
চেষ্টা করেন। ঘটনার পর তাকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় তেল হাশোমার
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত এ সেনা সদস্যের শরীরের
৮০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল।
পরে তিনি মারা যান। এর আগে, ইসরাইলের রাজধানী তেল
আবিবে মোশে সিলম্যান নামে ৫৭ বছর
বয়সী এক ব্যক্তি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার
চেষ্টা চালান। গায়ে আগুন দেয়ার পর তিনিও
মারা গেছেন। ইসরাইলের অভ্যন্তরে গায়ে আগুন দিয়ে এ
ধরনের আত্মহত্যার ঘটনাকে খুবই বিপজ্জনক
প্রবণতা বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক সমাজ
বিজ্ঞানী মনে করছেন, এ প্রবণতা দিন দিন
যদি বাড়তে থাকে তাহলে তা অবৈধ এ
রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দেখা দেবে। এ ছাড়া, ইসরাইলের
অভ্যন্তরে যে মারাত্মক সামাজিক বৈষম্য
রয়েছে তার বিরুদ্ধেও জনগণ ব্যাপক মাত্রায়
বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। এতে শাসকগোষ্ঠীর
পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে।# ৯ আগস্ট (রেডিও তেহরান):তেহরান রেডিও/
এসএ/৯
Read More...

Tuesday, August 7, 2012

মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় ইসলামী চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েক

Leave a Comment
ডা. জাকির আব্দুল করিম নায়েক ১৯৬৫ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে জš§গ্রহণ করেন। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.বি.বি.এস ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে পেশায় একজন ডাক্তার হলেও ১৯৯১ সাল
থেকে তিনি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে ইসলাম
প্রচারে একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করার ফলে চিকিৎসা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে কুরআন ও সহীহ্ হাদীসের আলোকে বৈজ্ঞানিক, গঠনমূলক যুক্তি ও অন্যান্য
প্রমাণাদির মাধ্যমে তিনি ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে ব্যাখ্যা করার প্রয়াসী হন। এ সময়ে ইসলামের দাওয়াতের পাশাপাশি অমুসলিম ও অসচেতন মুসলিম বিশেষ করে শিক্ষিত মুসলিমদের মধ্য থেকে ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্তিপূর্ণ ধারণা ও বিশ্বাস দূরীকরণার্থে ভারতের মুম্বাইয়ে তিনি ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (আইআরএফ) নামক এক দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালু করেন। উল্লেখ্য যে, ইসলাম ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্মের ওপরে সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তথ্যাবলি ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সংগ্রহে রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁরই উদ্যোগে আইআরএফ ‘এডুকেশনাল ট্রাস্ট’ ও ‘ইসলামিক ডাইমেনসন’ নামক দু’টি সংস্থাও প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত। এজন্য আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল, ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (বিশেষত তাদের নিজস্ব টিভি নেটওয়ার্ক চবধপব ঞঠ, ইন্টারনেট এবং প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের কাছে এটি ইসলামের প্রকৃত রূপকে উপস্থাপনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গৌরবান্বিত আল-কুরআন ও সহীহ হাদীসের পাশাপাশি মানবীয় কারণ, যুক্তি ও
বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সাপেক্ষে এটি প্রকৃত সত্য সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষের বোধগম্যতা ও ইসলামের শিক্ষার শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করে। ডা. জাকির মূলত ইসলামের দাঈ’র অনন্য দৃষ্টান্ত। ‘ইমলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ গঠন ও তার পরিচালনার কঠিন সংগ্রামের পেছনে তিনিই প্রধান তদারককারী। আধুনিক ভাবধারার এই পণ্ডিতের ইসলাম ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্মের বিশ্লেষণে বিশ্ববিখ্যাত সুবক্তা ও বিশিষ্ট লেখক হিসেবেও জুড়ি নেই। তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ব্যাপকভাবে অক্ষরে অক্ষরে গৌরবান্বিত
আল-কুরআন, সহীহ হাদীস ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে তথ্য ও প্রমাণপঞ্জি, পৃষ্ঠা নম্বর, খণ্ড ইত্যাদিসহ উল্লেখ করার কারণে যে কেউ তাঁর
বক্তব্য বা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করুক বা তাঁর এ পর্ব শ্রবণ করুক না কেন, সে বিস্মিত ও অভিভূত না হয়ে পারে না। জনসমক্ষে আলোচনার সুতীক্ষœ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর প্রদানের জন্য তিনি সুপ্রসিদ্ধ। অন্যান্য ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা (বিতর্ক) ও সংলাপের সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় আল্লাহর রহমতে তিনি সফলতার সাথে বিজয়ী হয়েছেন। ২০০০ সালের ১ এপ্রিল আমেরিকার শিকাগো শহরের আই.সি.এন.এ.ই কনফারেন্স ‘বিজ্ঞানের আলোকে বাইবেল ও কুরআন’ বিষয়ে এক আমেরিকান চিকিৎসক ও খ্রিস্টানধর্ম প্রচারক ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল-এর সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ডা. ইউলিয়াম ক্যাম্পবেল হচ্ছেন সেই লেখক যিনি, তিন বছর ধরে গবেষণা করার পর ‘ইতিহাস ও বিজ্ঞানের আলোকে কুরআন ও বাইবেল’ (১৯৯২ সালে ১ম সংস্করণ এবং ২০০০ সালে ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়) নামক দুটি গ্রন্থ লিখতে সমর্থ হন, যে বইটিকে তিনি ১৯৭৬ সালে ডা. মরিস বুকাইলির লেখা ‘বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান’ নামক বইটির উত্থাপিত অভিযোগগুলোর
খণ্ডনকারী হিসেবে ধারণা করেন। শেখ আহমাদ দীদাত ১৯৯৪ সালে ডা. জাকির নায়েককে ইসলাম ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্ম বিষয়ে বিশ্ববিখ্যাত বক্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ২০০০ সালের মে মাসে দাওয়াহ্ ও তুলনামূলক অন্যান্য ধর্মের ওপর গবেষণার জন্য ‘হে তরুণ!
তুমি যা চার বছরে করেছ, তা করতে আমার চল্লিশ বছর ব্যয় হয়েছে’-“গু ঝড়হ যিধঃ ও পড়ঁষফ হড়ঃ ফড় ভড়ঁৎ বধৎংু” আলহামদুলিল্লাহ আর খোদাই করা একটি স্মারক প্রদান করেন। জনসমক্ষে আলোচনার জন্য ডা. জাকির বিশ্বের
সব খ্রিষ্টানদের নেতা পোপ বেনেডিক্টকে চ্যালেঞ্জ করেন, যা সারা বিশ্ব অবলোকন করেছে। বেনেডিক্ট নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)-এর বিরুদ্ধে অসম্মানজনক ও বিতর্কিত মন্তব্য করায় সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলছিল। তাই মুসলিমদের এ উদ্বেগ নিবারণ করতে পোপ বিশটি ইসলামিক দেশ থেকে কূটনীতিকদেরকে রোমের দক্ষিণে তার গ্রীষ্মকালীন বাসভবনে আলোচনার জন্য আহ্বান জানায়। কিন্তু ডা. জাকির তাকে একটি প্রকাশ্য সংলাপের জন্য আহ্বান করে বলেন যে, ‘ইসলাম সম্পর্কে তার এই বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে মুসলিম বিশ্বব্যাপী যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা শান্ত করতে এটি যৎসামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। মূলত ইসলাম সম্পর্কে পোপের এ মন্তব্য পূর্ব পরিকল্পিত। পোপ জার্মানির রিজেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা বলেছিলেন সে ব্যাপারে তিনি নিজেই ভালোভাবে অবগত। ডা. জাকির আরো বলেন, ‘পোপ যদি সত্যিই সঠিক সংলাপের মধ্যদিকে এ উত্তেজনা শান্ত করতে প্রয়াসী হন, তাহলে তার উচিত হবে জনসমক্ষে একটি প্রকাশ্য বিতর্ক অনুষ্ঠান করা। বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারের সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক টিভি নেটওয়ার্কের ক্যামেরার সামনে পোপ বেনেডিক্ট-এর সঙ্গে আমি জনসমক্ষে প্রকাশ্য
সংলাপ বা বিতর্কে অংশ নিতে দৃঢ়ভাবে ইচ্ছুক। এর ফলে সারা বিশ্বের ১ কোটি ৬০ লাখ মুসলমান ও ২ কোটিরও বেশি খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সেই বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখতে ও শুনতে পারবে। পোপের ইচ্ছেমতোই কুরআন ও বাইবেল-এর যেকোনো বিষয়ের ওপর সংলাপে বা বিতর্কে আমি রাজি। তাছাড়া এটা কেবল বিতর্ক অনুষ্ঠানই হবে না; বরং এখানে উপস্থিত ও অনুপস্থিত দর্শক-শ্রোতার জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বও থাকতে হবে। আর এটা পোপের ইচ্ছেমতো কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে না, যেমনটা তার পূর্বসূরি দ্বিতীয় পোপ জন পল দক্ষিণ আফ্রিকান ইসলামি পণ্ডিত আহমেদ দীদাতের খোলামেলা সংলাপের আহ্বানে চেয়েছিলেন। শেখ দীদাতকে পোপ জন পল তার নিজের কক্ষে এসে বিতর্ক করতে বলেছিলেন। তিনি আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সাউথ আফ্রিকা, মৌরিতানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড, ঘানা (দক্ষিণ আফ্রিকা) সহ আরো অনেক দেশে এ পর্যন্ত নয়শোরও বেশি বার জনসম্মুখে প্রকাশ্য আলোচনায় বিভিন্ন ধর্ম বিশেষ করে ইসলাম, খ্রিস্টান ও হিন্দু ধর্মের ওপর তুলনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। উপরন্তু ভারতেও তিনি অসংখ্য বার বক্তব্য প্রদান করেছেন। যার অধিকাংশ অডিও এবং ভিডিও আকারে এবং ইদানিং বিভিন্ন ভাষায় গ্রন্থাকারে পাওয়া যায়। বিশ্বের একশোর বেশি দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিভি ও স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে ডা. জাকিরকে প্রতিনিয়ত দেখা যায়। তিনি প্রায় প্রতিনিয়তই সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রিত হন। ভারতের মিডিয়া ছাড়াও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় রয়েছে তার প্রভাব। ভারতীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা যেমন:ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইনকিলাব, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য ডেইলি মিডডে, দ্য এশিয়ান এইজ ছাড়াও অন্যান্য পত্রিকা তার অনেক বক্তব্য প্রকাশ করেছে। বাহরাইন ট্রিবিউন, রিয়াদ ডেইলি, গালফ টাইমস, কুয়েত টাইমসসহ আরো অন্যান্য সংবাদপত্রে ইংরেজি ছাড়াও বিভিন্ন ভাষায় ডা. জাকির নায়েক সম্পর্কে অনেক প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও তার বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সাধারণত ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। তার দর্শক-শ্রোতার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের সম্মানিত রাষ্ট্রদূত, আর্মি জেনারেল,
রাজনৈতিক নেতা, নামকরা খেলোয়াড়, ধর্মীয়
পণ্ডিত, শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ মানুষ। তার অধিকাংশ বক্তব্য ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব নেটওয়ার্ক চবধপব ঞঠ’-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়। তাঁর বক্তব্যগুলোতে খুবই সাধারণ ভূমিকা রয়েছে এবং একজন আন্তর্জাতিক বক্তা হিসেবে তিনি তাঁর প্রায় সব বক্তব্যে কুরআন ও সহীহ হাদীসের বাণীগুলো বিজ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন। ফলে দর্শক ও শ্রোতারা সহজেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন। ধর্মগ্রন্থগুলো সম্পূর্ণভাবে মুখস্থ করার মতো অসাধারণ গুণটি তার সম্পর্কে বিশেষভাবে লক্ষণীয় একটি বিষয়। মনে হয় কুরআন, বাইবেলের বিভিন্ন সংস্করণ, তালমুদ, তাওরাত (ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ), মহাভারত, ম্যানুসম্যারিটি, ভগবতগীতা ও বেদসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের হাজার হাজার পৃষ্ঠা সম্পূর্ণভাবে তার মুখস্থ রয়েছে। তাছাড়াও বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক বিষয় এবং তত্ত্বেও রয়েছে তাঁর পূর্ণ দখল। কেননা তিনি কোনো তথ্য সূত্র উল্লেখ করলে তার পৃষ্ঠা, অধ্যায় ও খণ্ডসহ উল্লেখ করেন।
Read More...

আয়াতুল কুরসির গুণ

Leave a Comment
হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল
কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। (বায়হাকি) শয়তানের প্রভাব এবং ভূত-প্রেত থেকে বাঁচার জন্য আয়াতুল কুরসি পাঠ পরীক্ষিত।
হজরত ইমাম আহমাদ (রহ.) বর্ণনা করেন, আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা.) নবী করিমকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? রাসূল (সা.) বললেন, আয়াতুল কুরসি। (নাসায়ি) সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াতে (আমানার রাসূল থেকে শেষ পর্যন্ত) পাঠ করায়ও অনেক উপকারের কথা বর্ণিত আছে। শেষ আয়াতে অত্যন্ত জরুরি দোয়া রয়েছে। এসব দোয়া কবুল হওয়ার ওয়াদাও আছে। প্রিয় নবীজী (সা.) একদিন বললেন, এ সময় আকাশের একটি দরজা খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও এ দরজা খোলা হয়নি, এ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতরণ করছেন। এর আগে তিনি কখনও পৃথিবীতে অবতরণ করেননি। এ ফেরেশতা হুজুরকে (সা.) সালাম করে বলেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন আপাদমস্তক দুটি নূরের, যা আপনার আগে কোন নবীকে দেয়া হয়নিÑ ১. ফাতেহাতুন কিতাব; অর্থাৎ সুরা ফাতেহা এবং ২. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত। উভয় আয়াতে দোয়া আছে। আল্লাহর উসিলা করে, আপনি এসব দোয়ার যে অংশই পাঠ করবেন আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই রহমত দান করবেন। (মুসলিম) হজরত ইবনে আব্বাসের (রা.) বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা এ দুটি আয়াত জান্নাতের ভাণ্ডার থেকে অবতীর্ণ করেছেন। জগৎ সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে পরম দয়ালু আল্লাহতায়ালা নিজের হাতে তা লিখেছিলেন। এশার নামাজের পর এ দুটি আয়াত পাঠ করলে তা তাহাজ্জুদ নামাজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। মুস্তাদ্রাক, হাকেম ও বায়হাকির বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা এ দুটি আয়াতে সুরা বাকারা সমাপ্ত করেছেন। আরশের বিশেষ ভাণ্ডার থেকে এ দুটি আয়াত আমাকে দান করা হয়েছে। তোমরা বিশেষভাবে এ দুটি আয়াত শিক্ষা কর এবং নিজের স্ত্রী ও সন্তান- সন্ততিকে শিক্ষা দাও। এ কারণেই হজরত ফারুকে আজম ও আলী (রা.) বলেন, আমাদের মতে, যার সামান্যও বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা যাবে না। (মানাকিবুস সাহাবা) হজরত নোমান ইবনে বশিরের (রা.) বর্ণনায় আছে আল্লাহতায়ালা দুটি আয়াত নাজিল করে সুরা বাকারার সমাপ্তি টেনেছেন। যে ঘরে এ আয়াতগুলো তিন রাত পড়া হবে, শয়তান সে ঘরের কাছে আসবে না। (তিরমিজি,
দারেমি)
হজরত আবু মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত রাতে পাঠ করবে, তার জন্য এ দুটি আয়াত যথেষ্ট হবে; অর্থাৎ সারারাত সে জিন ও মানুষের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে এবং প্রতিটি অপ্রিয় বিষয় থেকে তাকে হেফাজত করা হবে। (বুখারি, মুসলিম) মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবাইকে পবিত্র কোরআন শরিফের এ বরকতময় সম্মানিত আয়াত পাঠ এবং আমল করার তাওফিক দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের সব মুসিবত, বিপদ-আপদ, রোগ-শোক অতিক্রম করে শান্তিময় ও সুখের জীবনলাভে ধন্য করুন। আমিন!
Read More...

Monday, August 6, 2012

রোজার জরুরি বিধিবিধান

Leave a Comment
ইসলামের অন্যতম রুকন পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা। পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াত এবং বহু হাদিসে এ মাসের মাহাত্ম্য ও রোজা আদায়ের আবশ্যকীয়তা এবং ফজিলতের কথা বিভিন্নভাবে বিবৃত হয়েছে। রোজা একটি বিধিবদ্ধ আমলের নাম। আরবিতে যাকে সওম বলা হয়। সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকে সংযমের যে পরাকাষ্ঠা একজন মুমিনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয় তাই রোজা। সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গভাবে রোজা পালনের জন্য জানা প্রয়োজন জরুরি মাসআলাগুলো। এখানে রোজা ভাঙা না ভাঙা মাকরুহ হওয়া এবং না হওয়ার সাধারণ কিছু কারণ ও মাসআলা তুলে ধরা হলো। রোজার মাকরুহ * মুখে থুথু জমিয়ে তা গিলে ফেলা। * ঘনঘন কুলি করা এবং অস্থিরতা প্রকাশ করা। * বিনা প্রয়োজনে কোনো বস্তু বা খাদ্য চিবানো (যদি গলার ভেতর না যায়)। * দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও রক্ত দান করা। * টুথপেস্ট, মাজন ব্যবহার করা (যদি গলার ভেতরে না যায়)। * গুল, তামাক ইত্যাদি মুখে রাখা এবং পরে ফেলে দেয়া। * কোমর পর্যন্ত পানিতে থেকে বায়ু নির্গত করা। * গিবত করা, মিথ্যা বলা, বদনজর বা অবৈধ কাজ করা। * ঝগড়া করা, গালিগালাজ করা। * বিবস্ত্র অবস্থায় স্ত্রীকে আলিঙ্গন করা। * খাদ্যের স্বাদ পরখ করে দেখা। তবে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তা মাকরুহ নয়। যেসব কারণে রোজা ভাঙে না এবং যা রোজা অবস্থায় মাকরুহও নয় * শরীর, মাথা, দাড়ি ও গায়ে তেল লাগানো। * চোখে সুরমা লাগানো। * চোখে ওষুধ দেয়া। * মেসওয়াক করা, * অনিচ্ছাকৃত বমি হওয়া। * থুথু না জমিয়ে অল্প অল্প থুথু গিলে নেয়া। * স্বপ্নদোষ হওয়া। * রোজা অবস্থায় পরীক্ষার জন্য রক্ত দেয়া। * ইঞ্জেকশন নেয়া। * কাপড় বা শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করা।
* অনিচ্ছাবশত গলায় মশা, পোকা বা ধোঁয়া প্রবেশ করা। * রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করা।
* কানে পানি বা কাঠি ইত্যাদি দেয়া। * কান পরিষ্কার করা।
* গোসল করা। * অজু ও গোসলের সময় অথবা অন্য কোনো কারণে কুলি করা। * প্রশ্রাবের রাস্তায় ওষুধ দেয়া। * নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে স্ত্রীকে চুমু দেয়া বা করমর্দন করা। * বিশুদ্ধ মতানুযায়ী পানিতে ডুব দেয়া মাকরুহ নয়। তবে না দেয়াই উত্তম। যেসব কারণে কাজা করতে হয় * ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করা।
* অনিচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত অল্প বা বেশি বমি গিলে নেয়া। * আগরবাতি, কয়েল ইত্যাদির ধোয়া ইচ্ছাকৃত নাকে প্রবেশ করানো। * কুলি করতে গিয়ে অনিচ্ছায় পানি গিলে ফেলা। * এমন বস্তু গিলে ফেলা যা সাধারণত খাওয়া হয় না। যেমন পাথর, কাগজ, মাটি (যে মাটি খেতে অভ্যস্ত নয়), গাছের যে পাতা খাওয়া হয় না, ঘাস ইত্যাদি।
* ভুলে পানাহারের পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃত পানাহার বা স্ত্রী সম্ভোগ করা।
* সুবেহ সাদিকের পর সময় আছে ভেবে পানাহার করা। * মাড়ি-দাঁত থেকে বের হওয়া রক্ত থুথুর সঙ্গে গিলে ফেলার পর গলায় রক্তের স্বাদ অনুভূত হওয়া। * মুখে পান বা খানা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে এবং এ অবস্থায় সুবেহ সাদিক হয়ে গেলে। * হস্তমৈথুন বা স্বেচ্ছায় কোনো কিছুর সাহায্যে উত্তেজনার সঙ্গে বীর্য বের করা। * ইফতারির সময় হয়নি, কিন্তু সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ইফতারি করে নেয়া। * স্ত্রী বা কোনো নারীকে স্পর্শ করার কারণে বীর্যপাত ঘটা। * জোরপূর্বক রোজা ভাঙতে বাধ্য করা। যেসব কারণে কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হয় * রোজা শুরু করার পর বিনা ওজরে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা বা সাধারণত খাওয়া হয় কিংবা অভ্যাস হিসেবে খাওয়া হয় এমন বস্তু খেয়ে ফেলা। * স্ত্রী সম্ভোগ করা। রোজা ভাঙা না ভাঙার প্রাথমিক ও মৌলিক কারণগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে পরিস্থিতি ও অবস্থার বিচারে আরও বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমাধান আসতে পারে। তবে মূল বিষয়টি হচ্ছে, রোজাকে কেবল না ভাঙার স্তর পর্যন্ত না নিয়ে রোজার অপূর্ণাঙ্গতা কিংবা মাকরুহ হওয়ার কারণগুলো থেকেও সংযত থাকা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য কর্তব্য। রোজার কষ্টকে সংযম ও আল্লাহতায়ালার বিধান পালনে আত্মসমর্পণ এবং ইহতিসাবের সঙ্গে গ্রহণ করা চাই। সর্বাবস্থায় রোজার ক্ষেত্রে যে কোনো বিচ্যুতি থেকে বেঁচে পরিপূর্ণ
উপকৃত হওয়ার চেষ্টাই রোজাদার মুমিনের জন্য সাফল্যের কারণ হতে পারে।
Read More...

Sunday, August 5, 2012

হিজড়াদের সম্পর্কে কি বলে ইসলাম

Leave a Comment
দেখতে পুরুষ কিন্তু স্বভাব চরিত্রে, বলা- কওয়ায়, ভাব-ভঙ্গিতে মেয়েলি ভাব এরা হিজড়া। আমাদের দেশে জš§গত হিজড়ার চেয়ে কৃত্রিম বা বানানো হিজড়ার সংখ্যাই বেশি। বাংলাদেশ মানবাধিকার সূত্রে জানা যায় সারাদেশে হিজড়ার সংখ্যা ৫০ হাজার। কৃত্রিম হিজড়া ২০ হাজার। একটি চক্র সরল সুন্দর সপ্তম-অষ্টম শ্রেণীর বারো-তেরো বছরের ছেলেদের ফুসলিয়ে প্রতারণায় ফেলে নিয়ে যায়। হাসপাতাল ক্লিনিকে শিক্ষিত ডিগ্রিধারী ডাক্তারের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ কেটে, ওষুধ খাইয়ে আকৃতি বিকৃত করে, ইনজেকশন দিয়ে বা অপারেশন করে স্তন বড় করে এদের হিজড়ার খাতায় নাম লেখায়। পরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তির
মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত হয় এরা। ইচ্ছে করলেও বাড়ি ঘরে ফিরে যেতে পারে না। ফ্যামিলি এবং সমাজ থেকে দূরে থেকে যাচ্ছেতাই করে বেড়ায়। সামাজিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হিজড়াদের দাবি সাধারণ মানুষের মতো কবর না দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে বা মাটির গর্তে পুঁতে রাখা হয় তাদের। কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগ পায় না তারা।
শান্তি এবং মানবতার ধর্ম ইসলাম সব মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। হিজড়াদের ইসলামে কীভাবে দেখা হয় এ প্রসঙ্গে কথা হয় দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে। এ সময়ের সচেতন ও বিচক্ষণ আলেম, বেশক’টি মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও বাংলাদেশ কওমি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুস সামাদ। হিজড়াদের ইসলামে কীভাবে দেখা হয়? জানতে চাইলে বলেন, ‘ইসলাম হিজড়াদের ওপর অবিচার করেনি। অন্যসব মানুষের মতো একজন মানুষ হিসেবে দেখেছে হিজড়াদের। পুরুষ হলে পুরুষের, নারী হলে নারীর বিধান মেনে চলতে হবে তাদের। একজন নারীর যেমন নামাজ, রোজা ও পর্দাসহ ইসলামের সব বিধান মানতে হয়, একজন নারী হিজড়াকেও এগুলো মেনে চলতে হয়। এভাবে পুরুষের মতো পুরুষ হিজড়াকেও। মৃত সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও কাফন, দাফন ও জানাজা দিয়ে কবর দেয়ার হুকুম। তারা এগুলো মানে না বলেই তো তাদের এ করুণ অবস্থা।’ একটি চক্র সুস্থ মানুষের অঙ্গহানি করে হিজড়া বানিয়ে ফেলছে। কেউ নিজের আগ্রহে হিজড়া হচ্ছে। এদের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অঙ্গহানি নাজায়েজ। মারাত্মক অপরাধ। কারও জটিল দুরারোগ্য ব্যথা হলেও ধার্মিক অভিজ্ঞ ডাক্টারের পরামর্শ ছাড়া অঙ্গ কাটার কোন সুযোগ ইসলাম
দেয়নি। এ ছাড়া একজন সুস্থ মানুষের অঙ্গহানি করে অসুস্থ বানানো, সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা অমার্জনীয় অপরাধ। কঠোর হস্তে দমন করা উচিত।’ চাঁদাবাজি, মাদক ও পতিতাবৃত্তির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত দেখা যায় হিজড়াদের, এর কারণ কী? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হিজড়া বানানো বা হওয়ার লক্ষ্য কিন্তু ইনকাম। হিজড়াদের কোন আইনি জটিলতা না থাকায় তারা অবাধে অপরাধ বিস্তার করে যাচ্ছে।’ হিজড়াদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কী করা উচিত? এমন প্রশ্নে মাওলানা সামাদ বলেন, ‘প্রথমত হিজড়াপ্রজনন কেন্দ্র বন্ধ এবং এর কারিগর ডিগ্রিধারী ডাক্টারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে এগুলো দমন করতে হবে। বিভিন্ন পত্রিকায় এদের চিহ্নিতও করা হয়েছে। তাতে হিজড়া উৎপাদন বন্ধ হবে। এরপর সামাজিকভাবে আড়চোখে না দেখে একজন মানুষের মতো সুবিধা দিতে হবে। এছাড়া মৌলিক হিজড়াদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
থেকে স্থায়ী ব্যবস্থা নিলে হিজড়ারা স্বাভাবিক
জীবনে ফিরে যাবে বলে আশা করা যায়।’ পুরুষাঙ্গ কেটে সুস্থ মানুষকে হিজড়া বানানো হয় একথা শুনে আঁতকে উঠলেন দেশ মাটি হাউজিং লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান, অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি আলহাজ মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘অভাব এবং অসচেতনতাই এ কাজকে ত্বরান্বিত
করেছে। মানুষের সম্মানের ভয় হিজড়াদের অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়েছে। তারা যেখানে সেখানে কাপড় উদাম করে ফেলে। হিজড়া, অসহায় এবং অভাবীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে অপরাধপ্রবণতা কমবে। তারা স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবন লাভে ধন্য হবে।’
Read More...

Friday, August 3, 2012

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদেরঅবদান

Leave a Comment
জ্ঞান অর্জন না করে নিজেকে জানা যায় না, সৃষ্টিতথ্য বোঝা যায় না, পরমস্রষ্টাকে চেনা যায় না, ক্ষমতাধর হওয়া যায় না এবং নেতৃত্ব দেয়া যায় না। খ্রিস্টিয় ৭ম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় মুসলমানেরা ছিল সর্বেসর্বা। আল-কোরআনের পাশাপাশি তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক সকল
প্রকার বই পড়েছেন, গবেষণা করেছেন। তারা মহান স্রষ্টার সৃষ্ট প্রকৃতির নির্দেশনাবলীর ওপর গবেষণার মাধ্যমে সত্য উপলব্ধি করেছেন। আত্মশুদ্ধি ঘটিয়েছেন। যাবতীয় জ্ঞান- বিজ্ঞানের বই পড়েছেন এবং বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার
শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ইবনে আল হাইসাম ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ একজন পদার্থ বিজ্ঞানী। তিনি সর্বপ্রথম জড়বস্তু ও আলোর প্রতিসরণ তত্ত্ব প্রদান করেন। পরবতর্ীতে যা নিউটনের হাতে পুনরাবিষ্কৃত হয়। জাবির বিন হাইয়ান রসায়ন শাস্ত্রের ভিত্তি রচনা করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইবনে সিনা, জাবির হাসান বিন হাইয়ান, আল রাজির নাম উলেস্নখযোগ্য। তাদের লিখিত বইয়ের ল্যাটিন অনুবাদ ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য ছিল। কম্পিউটারের আবিষ্কার কিন্তু অঙ্ক শাস্ত্রনির্ভর। বস্তুত ‘সংখ্যাতাত্তি্বক পরিমাণ’ আল খাওয়ারেযমীই প্রথম প্রণয়ন করেছিলেন। নিউটনের বহু আগে কবি ওমর খৈয়াম ‘বাইনোমিয়াল থিউরাম’ আবিষ্কার করেন। পৃথিবীর প্রথম সম্পূর্ণ মানচিত্র প্রণয়ন করেন মুসলিম ভুগোলবিদ ইবনে হাক্কল। আল ফারাবি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ও দার্শনিক। তিনি ৭০টি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। আল বিরুনি এবং ইবনে বতুতা প্রমুখ মুসলিম মনিষী ভূবিদ্যার প্রসারে অনেক অবদান রেখে গেছেন। ইবনে খালদুনকে বলা হয় ইতিহাস, দর্শন ও সমাজ বিজ্ঞানের জনক। বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন ইবনে জাবির তাবারি। ‘তারিখ আল রাসূল ওয়া আল মুলুক’, তাঁর এ গ্রন্থটি সারাবিশ্বে রেফারেন্স হিসেবে গঠিত হচ্ছে। আল কিন্দি গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ৩৬৯টি গ্রন্থ রচনা করেন। অতীতে জ্ঞান- বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে নয় বরং ব্যবসা- বাণিজ্যে, শিল্প, কল- কারখানাতে মুসলমানদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আব্বাসীয় খলিফা মামুন বাগদাদে ‘দারুল হিমাহ’ নামে যে বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন তাতে সে যুগে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। যখন খ্রিস্টীয় সমাজে বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছিল তখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে বহুসংখ্যক গবেষণা ও আবিষ্কার সাধিত হয়। কর্ডোভার রাজকীয় পাঠাগারে ৪ লাখ বই ছিল। ইবনে রুশদ তখন সেখানে গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য দেশীয় বিজ্ঞানে পাঠদান করতেন। যার কারণে সারা ইউরোপ থেকে পণ্ডিতরা কর্ডোভায় পড়তে যেতেন। যেমন আজকের দিনে মানুষ তাদের শিক্ষার পরিপূর্ণতার জন্য বৃটেনে, আমেরিকা যায়। ‘ইসলাম ও আরবি সভ্যতার ইতিহাস’ বইতে ওস্তাভলি বোঁ লিখেছেন, ‘ইউরোপে যখন বই ও পাঠাগারের কোনো অস্তিত্ব ছিল না, বহু মুসলিম দেশে তখন প্রচুর বই ও পাঠাগার ছিল। সত্যিকার অর্থে বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’য় ৪০ লাখ, কায়রোর সুলতানের পাঠাগারে ১০ লাখ, সিরিয়ার ত্রিপোলী পাঠাগারে ৩০ লাখ বই ছিল। অপরদিকে মুসলমানদের সময়ে শুধু স্পেনে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ হাজার বই প্রকাশিত হতো।মনব সভ্যতার ইতিহাসে, ও জ্ঞান বিজ্ঞানের
বিভিন্ন শাখায় মুসলিম মনীষীদের
অবদানকে চিরতরে মূছে দেয়ার
ষডযন্ত্রে তাদের নাম বিকৃত করা হয়েছে,
বিকৃ্তকৃ্ত এমন কিছু মহা মানবদের নাম
নিম্নে উল্লেখ করছিঃ প্রকৃ্ত নাম– বিকৃ্ত নাম
আবু ইসহাক নুরুদ্দীন আল বুতরুজী Albetragius
ইবনে রুশদ Averroes 1126-1198
মূসা ইবনে মাইমুন Maimonides
ইবনে বাজ্জাহ Avempace 1095-1138
ইবনে যুহার Avenzoar আল ফারাবী Alpharabius 870-950
জাবির বিন হাইয়্যান Geber
আল রাজী Rhazes
ইবনে সীনা Avicenna 980-1037
আবু ইসহাক ইব্রাহীম ইবনু ইয়াহিয়া আয
জারকালী Arzachel আবু মায়াশার Albumasar
আল খাওয়ারেজেমী Algorithm
আল ফারগানী Alfarganus
আল বাত্তানী Alpetegnius
আল মামুন Almanon
ইবনুল হাইসুম Alhazen 965-1040 হুনাইন ইবনু ইসহাক Johannitus
আস সুফী Azophi
আল গাজ্জালী Algazel 1058-19
December 1111
আব্বাস ইবনে ফরনাস Armen Firman
আল ইদ্রিসী Dreses আল কিন্দী Alkindus 801-873
আল মাসউদী Alboacen
আল জাহারাবী Albucasis
খালিদ ইবনে ইয়াযিদ Calid
আলী ইবনে আব্বাস আল মাজুসী (Haly Abbas)
ইবনে তোফাইল Abubacer 1105-1185 আল বাইরুনী Alberonius 5 September
973-13 December 1048
সাহাবুদ্দীন সোহওরদী Sohrevardi
1155-1191
Read More...

Tuesday, July 31, 2012

সুন্দর সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত ইনসাফ

Leave a Comment
ইসলাম নিছক কোনো ধর্ম নয়,
বরং এটা একটা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।
জীবনের
প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা কিভাবে চলবো সে বিষয়ে পবিত্র
কুরান ও হাদিসে সুস্পষ্ট বিধি-বিধান
আলোচনা করা হয়েছে। তেমনি এই দুনিয়ার জীবনে চলার জন্য অন্যতম একটা বিষয়
হচ্ছে ‘ইনসাফ’ বা ‘ন্যায়বিচার’। ইনসাফ বলতে মূলত যার যা প্রাপ্য
তাকে তা দেওয়া এবং হকের ওপর, সত্যের ওপর
অবিচল থাকাকে বুঝায়। মানুষের
স্বার্থপরতা, হিংসা, বিদ্বেষের মূল উৎপাটন
করতে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার
কোনো বিকল্প নেই। সে জন্যই পবিত্র কুরানে বেশ কয়েক জায়গায় আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়া তায়ালা ইনসাফের ওপর কায়েম
থাকতে বলেছেন। বিভিন্ন সময়ে রাসুলদের
পৃথিবীতে পাঠানোর একটা কারণ ছিল,
মানুষকে ইনসাফ শিক্ষা দেওয়া। আল্লাহ
সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন,
“আমরা নিশ্চয়ই আমাদের রাসুলদের কিছু
সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি; তাদের সাথে পাঠিয়েছি কিতাব এবং ন্যায়দণ্ড,
যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর কায়েম
হতে পারে।’’ (সুরা আল হাদীদ- আয়াত : ২৫) এর থেকে বোঝা যায় আল্লাহর কাছে ইনসাফের
গুরুত্ব কতখানি। সমাজে মানুষ ইনসাফের ওপর
অবিচল না থাকলে সমাজে দেখা দেয়
নানা অনিয়ম, হানাহানি, দুর্নীতি এবং চরম
অশান্তি। কারণ মানুষ যখন ন্যায়
পরায়ণতা থেকে দূরে সরে যায়, তখন তার মনুষত্ব ও বিবেকের বিসর্জন নিজের
অজান্তেই হয়ে যায়। তাই আল্লাহ তায়ালা ব্যক্তিগত চরিত্রেও
ইনসাফের প্রতিফলন ঘটাতে বলেছেন এভাবে,
‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য সত্য ও
ন্যায়ের ওপর
সাক্ষি হয়ে অবিচলভাবে দণ্ডায়মান থাকো।
কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের যেন ন্যায় আচরণ না করতে তোমাদের প্ররচিত
না করে। ইনসাফ রক্ষা করো, এটিই
হচ্ছে ধর্মভীরুতার নিকটবর্তী।
তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ
তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্পূর্ণ
ওয়াকিফহাল।’ (সুরা মায়িদা- আয়াত: ৮) অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করে হলেও কখনও
কাউকে ঠকানো যাবে না। আল্লাহ সব কিছু
শোনেন, দেখেন এবং জানেন। একান্ত
গোপনে করা কাজ সম্পর্কেও তিনি জানেন।
তাই সর্বদা আল্লাহকে ভয় করলে, ইনসাফের
ওপর থাকাটা অনেক সহজ কাজ। আল্লাহ তায়ালা সুরা নিসার ৫৮ নম্বর
আয়াতে আরো বলেছেন, “আল্লাহ তোমাদের এই
নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ
তাদের (যথার্থ) মালিকের কাছে সোপর্দ কর;
আর যখন মানুষের মধ্যে তাদের
কোনো ব্যাপারে বিচার ফয়সালা করো, তখন তা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে করো। আল্লাহ
তোমাদের যা কিছু উপদেশ দেন, তা অতীব
সুন্দর। আল্লাহ পাক সব কিছুই দেখেন
এবং শোনেন।” আমাদের সমাজের যত দুর্নীতি,
স্বজনপ্রীতি রয়েছে, সমাজের মানুষ
ইনসাফের সাথে কাজ করলে তা অনেকাংশেই
দূর হবে। আমাদের সবার
আগে আল্লাহকে খুশি করতে হবে, তাই ইনসাফ
করতে গিয়ে যদি কখনো খুব কাছের মানুষের বিপক্ষে যেতে হয়, তাহলে তাই-ই করতে হবে।
বৈরাগ্যবাদ নয়, বরং সমাজ
জীবনে এভাবে আল্লাহর দেওয়া বিধান
অনুযায়ী চলেই মুসলিমরা ইহকাল
এবং পরকালে সফলকাম হতে পারে, এটাই
তো ইসলামের অন্যতম আলোকিত একটি বৈশিষ্ট্য।
Read More...

Monday, July 30, 2012

রোহিঙ্গা তরুণীরা ভয়াবহযৌন নির্যাতনের শিকার,চলছে বাধ্যতামূলক শ্রম

Leave a Comment
মিয়ানমারের
রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর
বর্বর হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ
হয়নি।
সরকারি মদদে সেখানকার নির্যাতন-হত্যাকাণ্ডের
বর্ণনা দিয়েছেন ভারতে আশ্রয়
নেয়া উদ্বাস্তুরা।
তারা ইরানের ইংরেজি ভাষার
নিউজ চ্যানেল প্রেস
টিভিকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের
নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর
ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে।
তারা জানান, "আমরা ভয়াবহ
অবস্থার মধ্যে জীবনযাপন
করছি। তরুণীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর
সদস্যরা অকথ্য যৌন নির্যাতন
চালাচ্ছে। তাদের অনেককে জোর
করে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন
চালানোর পর আবার ফেরত
দিয়েছে যাতে আমরা এ অবমাননা নিয়ে চিরদিন বসবাস
করি।" এ ছাড়া, বিবাহিত
নারীদের ধরে অজানা জায়গায়
নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাদের
দিয়ে কয়েক সপ্তাহ
এমনকি মাসব্যাপী জোর করে কাজ করানো হচ্ছে কিন্তু
বিনিময়ে কোনো অর্থকড়ি দেয়া হচ্ছে না।
তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই
ধরে নিয়ে যাওয়া নারীদেরকে আর
ফেরত দেয়া হচ্ছে না।" পশ্চিম মিয়ানমার
থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানরা আরো জানিয়েছেন,
মিয়ানমার সরকার
রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর
হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জম্মু শরণার্থী শিবিরে আশ্রয়
নেয়া এক তরুণ জানান,
"আমরা যতই
লেখাপড়া করি না কেন
মিয়ানমারের
সরকারি চাকরিতে আমাদের কোনো স্থান নেই। শুধু
আমরা কৃষি ক্ষেতে কাজ
করতে পারি এবং কঠোর পরিশ্রম
করে ফসল ফলানোর পর সরকার
সেখান থেকে অর্ধেক ভাগ
নিয়ে নেয়। শুধুমাত্র তাই নয় সরকার
আমাদেরকে সেনাঘাঁটিতে জোর
করে ধরে নিয়ে কাজ করতে বাধ্য
করে। কিন্তু
বিনিময়ে কোনো অর্থকড়ি দেয়
না। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে পরক্ষণেই
তাকে হত্যা করা হয়।" মিয়ানমারের আরাকান
অঞ্চলে কয়েক
শতাব্দী ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বসবাস
করলেও সরকার তাদেরকে ওই
দেশের নাগরিক বলে স্বীকার
করে না। এসব মুসলমান বহুদিন ধরে সেখানকার মগ ও বার্মিজ
জাতিগোষ্ঠীর হাতে ব্যাপক
নির্যাতনের শিকার
হয়ে আসছেন। সম্প্রতি, এ
নির্যাতনের
মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে এবং সেখানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা শুরু হয়েছে। এ
অবস্থায় মিয়ানমারের
প্রেসিডেন্ট থিন সেইন
বলেছেন,
রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমার
ছেড়ে চলে গেলেই কেবল এ সমস্যার সমাধান হবে।
Read More...

Thursday, July 26, 2012

একটা ছবি পোস্ট

Leave a Comment
Read More...

Tuesday, July 24, 2012

ইফতারে খাদ্যাভ্যাস

1 comment
ঐতিহ্যগতভাবেই
আমরা ইফতারে ভাজাভুনা ও তেল
জাতীয় খাবার বেশি খেয়ে থাকি। শুধু
তাই নয়, ইফতারে পেট ভরে খাওয়ার
নিয়মও যেন চালু হয়ে গেছে। কিন্তু এ
সময় খাবার হতে হবে সুষম ও আদর্শ। ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার
এ সময় ভাজাপোড়া খাবারের আধিক্য
দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার পর
ঝাল বা ভাজাভুনা খেতে স্বাদ লাগে।
কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে, এ
খাবারগুলো যেন দোকানের বাসি-পচা ও ভেজালযুক্ত না হয়। এই খাবার উচ্চ
ক্যালরিসমৃদ্ধ বা ইমপ্রুভড ডায়েট,
যা রোজাদারদের শক্তি জোগান দেয়।
পক্ষান্তরে রোজা রাখার ফলে আমাদের
শরীরে মাংসপেশির ক্ষয়
থেকে রক্ষা করে। এজাতীয় খাবার। কিন্তু এ খাবারের খারাপ দিকটিই বেশি।
কারো এসিডিটি বা পেপটিক আলসার
ডিজিজ থাকলে এ খাবার
হজমে অসুবিধা হয়। ওজন বাড়ায় ডাল-
বিচি গ্রুপের এ জাতীয় খাবার।
ইফতারে সুষম খাবার পাঁচ গ্রুপের খাদ্য থেকে এ সময় খাবার
বেছে নিতে হয়। খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ
বয়স ও ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন হয়।
বিভিন্ন ফল দিয়ে তৈরি ড্রেজারট,
মিল্কসেক, ফলের রস, মিষ্টি জাতীয়
খাবার যেমন- সুজি, সেমাই খাওয়া এসময় আদর্শ। সারাদিন
রোজা রেখে শরবত পানিশূন্যতা দূর
করে। ইসবগুল ও তোকমার শরবত বেশ
ঠাণ্ডা। কাগজিলেবুর শরবত যে কেউ
খেতে পারেন।
Read More...

Monday, July 23, 2012

পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতি

Leave a Comment
হিজরি সালের শাবান মাসের সমাপ্তির পরই প্রতিবছর মানবজীবনের সব কালিমা দূর করার বিশেষত্ব নিয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের মাস পবিত্র রমজানুল মোবারক আসে। এ গুরুত্ববহ তাৎপর্যময় মাস সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায়। মুমিন বান্দার জীবনে বছরের মধ্যে রমজান মাসটিই এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয়। তাই এ পুণ্যময় মাসের গুরুত্ব এত বেশি। এ কারণেই বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকর, শোকর ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম। একদা নবী করিম (সা.) মাহে রমজানের প্রাক্কালে বলেন, ‘রমজান মাস আগতপ্রায়, এ মাস বড়ই বরকতের মাস, আল্লাহ তাআলা বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং খাছ রহমত বর্ষণ করেন, গুনাহ মাফ করেন ও দোয়া কবুল করেন।’
‘রামাদান’ শব্দটি আরবি ‘রাম্দ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন, প্রজ্বলন, জ্বালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনা তথা রোজাব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযম ও কৃচ্ছ্রপূর্ণ জীবন যাপন করে এবং ষড়িরপুকে দমন করে আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে। মাহে রমজান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় অহংকার, কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম ‘রমজান’। ইসলামের অনুসারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার বিরাট নিয়ামত রমজান মাস। এর প্রস্তুতি গ্রহণ করা না হলে মাহে রমজানের কোনো মূল্য বা মর্যাদা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় না।
ইসলামে শাবান মাসকে রমজান মাসের প্রস্তুতিমূলক মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবান মাসের সমাপনান্তে মাহে রমজানের এক ফালি রুপালি চাঁদ পশ্চিম আকাশে উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন একজন মুমিন মুসলমান
মনে ইস্পাত-কঠিন ঈমান, ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহভরে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্যে নিয়ত করেন এবং রোজা আদায়ে মশগুল হয়ে যান, তখনই তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের চাদর দ্বারা আবৃত হয়ে পড়েন। ফলে ইহজগতের শান্তি, পারলৌকিক কল্যাণ ও মুক্তির সনদ তাঁর জন্য ঘোষণা করা হয়। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে: ‘আদম সন্তানের প্রত্যেক ভালো কাজের সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে দেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘কিন্তু রোজার ব্যাপারে এর ব্যতিক্রম হবে। কেননা, বান্দা আমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছে এবং আমি নিজেই এর প্রতিফল দান করব। সে তো আমার জন্যই কামনা- বাসনা ও খাওয়া- দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।’ (মুসলিম)
মাহে রমজান এমনই এক বরকতময় মাস, যার আগমনে পুলকিত হয়ে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কিরামদের মোবারকবাদ পেশ করতেন। নবী করিম (সা.) সাহাবিদের এই মর্মে সুসংবাদ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সামনে রমজানের পবিত্র মাস এসেছে, যে মাসে আল্লাহ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন।’ (মুসলিম) এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমজান আমার উম্মতের মাস।’ তাই বলা হয়, ‘রজব মাসে শস্য বপন করা হয়, শাবান মাসে খেতে পানি সিঞ্চন করা হয় এবং রমজান মাসে ফসল কর্তন করা হয়।’ সুতরাং এ শ্রেষ্ঠতম মাসে নামাজ- রোজা পালন তথা আল্লাহর ইবাদত- বন্দেগি করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যপানে ধাবিত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্যকর্তব্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা শাবান মাসের শেষ দিনে সাহাবায়ে কিরামকে লক্ষ্য করে মাহে রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘হে মানবগণ! তোমাদের প্রতি একটি মহান মোবারক মাস ছায়া ফেলেছে। এই মাসে সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রজনী আছে। যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো নেক আমল দ্বারা আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য কামনা করে,
সে যেন অন্য সময়ে কোনো ফরজ আদায় করার মতো কাজ করল। আর এই মাসে যে ব্যক্তি কোনো ফরজ আদায় করে, সে যেন অন্য সময়ের ৭০টি ফরজ আদায়ের নেকি লাভ করার সমতুল্য কাজ করল। এটি সংযমের মাস আর সংযমের ফল হচ্ছে জান্নাত।’ (মিশকাত)
নৈতিক পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাস হিসেবে মাহে রমজানের আগমনে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমান নামাজ-রোজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নতুন পাঞ্জাবি, পাজামা ও টুপি কেনেন অথবা ধুয়ে-মুছে পাক-পবিত্র করে রাখেন। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পাদন করে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ রমজান মাসের বিশেষ খতমে তারাবিহ নামাজ জামাতে পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নফল ইবাদত, জিকর- আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-ইস্তেগফার,
দান-সাদ্কা করে তাঁরা বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য- সহযোগিতা করতে সচেষ্ট হন। তাঁদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে: ‘আর যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত প্রদান করে এবং যারা কৃতপ্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অর্থ-
সংকটে, দুঃখ-ক্লেশে ও সংগ্রাম-সংকটের সময়
ধৈর্য ধারণকারী, তারাই হলো সত্যপরায়ণ এবং তারাই মুত্তাকি।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৭৭)
প্রকৃতপক্ষে পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য একটি বার্ষিক প্রশিক্ষণ কোর্স, যার মাধ্যমে রোজাদারদের জীবন প্রভাবিত হয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাস ভালোভাবে যাপন করবে, তার সমগ্র বৎসর ভালোভাবে যাপিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার উম্মত যদি মাহে রমজানের গুরুত্ব বুঝত, তাহলে সারা বছর রমজান কামনা করত।’
তাই মাহে রমজানে রোজার প্রস্তুতির জন্য সহিহ-শুদ্ধভাবে আবশ্যকীয় বিধি-বিধান শরিয়তের মাসআলা অনুযায়ী রোজাদারদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা খুবই দরকার। এ ছাড়া আসন্ন মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে ইবাদত- বন্দেগি তথা সেহির, ইফতার, তারাবিহ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ইতিকাফ, তাহাজ্জুদ, জিকর-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-ইস্তেগফার, জাকাত-ফিতরা, দান- সাদ্কা প্রভৃতি সৃষ্টিকর্তার হক আদায়ের সামগ্রিক পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
Read More...

Thursday, July 19, 2012

বৃটিশ সাংবাদিক রেডলির ইসলাম গ্রহণ ওতার সাক্ষাৎকার

Leave a Comment
রেডলি একজন বৃটিশ মহিলা সাংবাদিক।
আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার মাত্র
কয়েকদিন
আগে তিনি ছদ্মবেশে আফগানিস্তানে প্রবেশ
করেন। কিন্তু তালেবানদের
হাতে সাথে সাথেই তিনি বন্দি হন। পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে তিনি ইসলাম
বিষয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেন এবং ইসলাম
ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর বিভিন্ন সংবাদ
মাধ্যম তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। তার
বন্দি জীবন এবং ইসলাম গ্রহণের
বিবরণভিত্তিক তিনটি সাক্ষাৎকার পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো। দুঃসাহসী বৃটিশ মহিলা সাংবাদিক ইভোন
রেডলির নামটি “ওয়ার অন টেরর”
বা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের
প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন
সৃষ্টিকারী একটি নাম। আফগানিস্তানের
গগনচুম্বী পর্বতশৃঙ্গকে যিনি নত করেছিলেন তার দুঃসাহসিক মনোবল দ্বারা। জাঁদরেল
পশ্চিমা সাংবাদিকরা যখন তালেবান-
আলকায়েদার স্বর্গরাজ্য আফগানিস্তানের
কথা ভেবে আতঙ্কে আঁতকে উঠত এবং নাইন
ইলেভেনের পর মার্কিন রণ হুঙ্কারের
পাল্টা প্রতিক্রিয়া স্বরূপ পাক-আফগান সীমান্ত জিহাদি আগ্নেয়গিরির সংকেত ঈষাণ
কোনে জমাট বেঁধে উঠছিল তখন একজন
মহিলা হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন
রেডলি। কিন্তু ভাগ্যিস! তালেবানের অদক্ষ
হাতেই ধরাশায়ী হলো বৃটিশ সাংবাদিকের
নায়ক সুলভ ও বীরত্বপূর্ণ সকল কৌশল। আফগান বোরকার মধ্যে তালেবানরা আবিষ্কার
করতে সক্ষম হলেন, ভিন্ন জাত ভিন্ন ধর্ম ভিন্ন
চামড়ার এক রমণীকে। গুপ্তচরবৃত্তির
অভিযোগে অবশেষে তার ঠাঁই হলো কারার
অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। পরে জানা গেল তিনি এক
বিখ্যাত বৃটিশ সাংবাদিক। কিন্তু পরিস্থিতি তালেবানদের বাধ্য করল
তাকে পর্যবেক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত
সন্দেহের বেড়াজালে আবদ্ধ রাখতে। আসুন
রেডলির মুখেই আমরা শুনি তার গ্রেপ্তার,
মুক্তি ও ইসলাম গ্রহণের কাহিনী।
মিসরে একান্ত সাক্ষাৎকারে রেডলি ২০০৬ সালে মিসরের
রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত (ডঅগণ) এর
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির আমন্ত্রণ
পেয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হলে সাংবাদিক
হাসুনা হাম্মাদ সম্মেলনের ফাঁকে তার কাছ
থেকে নিচের সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন। শুরুতেই আপনি কিভাবে ইসলামে প্রবেশ
করে ধন্য হলেন
সে সম্পর্কে আমরা জানতে চাই। রেডলি : আমি ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার
আগে “সানডে এক্সপ্রেস’’ পত্রিকার পক্ষ
থেকে আফগানিস্তানের
ইসলামি দলগুলো বিশেষ করে ক্ষমতাসীন
তালেবানদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের
কাজে নিয়োজিত ছিলাম। কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর
এবং আরো সুনির্দিষ্টভাবে
বলতে গেলে সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ
তালেবানের
হাতে আমি বেআইনিভাবে আফগানিস্তানে প্রবেশ
করার অভিযোগে গ্রেফতার হই। ১০ দিন আমি তাদের কাছে জিম্মি থাকি। প্রতিটি সময়
আমি তাদের হাতে নিহত হওয়ার ভয়ে আতংকিত
ছিলাম। ষষ্ঠ দিনে হঠাৎ তালেবানের এক
শাইখ এসে আমাকে ইসলামে প্রবেশ করার
দাওয়াত দিলেন। আমি বলে দিলাম এটা সম্ভব
নয়। তবে তারা আমাকে মুক্তি দেয়ার শর্তে এ প্রতিশ্রুতি প্রদান করি যে, লন্ডন
ফিরে গেলে আমি কোরআন নিয়ে গবেষণা করব।
আসলে এ প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আমার আসল
উদ্দেশ্য ছিল মুক্তির সুযোগ বের করা। কেননা,
আমি যে কোনো উপায়ে এ সংকট থেকে বের
হতে চাচ্ছিলাম। সত্যি বলতে কি, এ পথটি বা বলতে পারেন আমার এ কৌশলটি সফল
হয়। অতঃপর তারা আমাকে এবং আমার
সাথে অন্যান্যদেরও মুক্তি দিল। মোল্লা উমর
মানবিক কারণে আমাকে মুক্তি দেন। কিন্তু
ফিরে আসার পর আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি,
আমি কমিটমেন্ট রক্ষা করবো। আমি কোরআন শিখতে লাগলাম এবং দীর্ঘ ৩০ মাস ইসলাম
নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করি। বাস্তবিকই তখন
আমি অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করছিলাম। তালেবানের হাতে বন্দি থাকাকালে আপনার
সঙ্গে তাদের ব্যবহার কেমন ছিল?
রেডলি : আমি তাদের সাথে কথা বলা বন্ধ
করেছি। অনশন করি। আমি যতই তাদের
সাথে কঠোর আচরণ করতে থাকি ততই
তারা আমার সাথে নম্র ব্যবহার করতে থাকে। তারা আমাকে বলত তুমি আমাদের বোন। আমাদের
অতিথি। আমরা চাই তুমি খুব শান্তিতে থাক।
আমি মনে মনে ভাবতাম যে, যদি আমি তাদের
সাথে নম্রতা প্রদর্শন
করি তাহলে তারা আমার সাথে কঠোর
ব্যবহারে উদ্ধত হবে। বিদ্যুতের শক, ধর্ষণ ইত্যাদি দ্বারা তারা আমাকে নির্যাতন
করবে আমেরিকা যা মুসলমানদের
সাথে গোয়ান্তানামো এবং আবুগারীবের
কারাগারে করে আসছে। কিন্তু
আমি একজনকে পেলাম না যে,
আমাকে হয়রানি করেছে কিংবা আমার দিকে খারাপ দৃষ্টি দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর আপনি কি কোন অসুবিধার
সম্মুখীন হয়েছেন? রেডলি : ইসলাম গ্রহণের পর আমাকে হত্যার
হুমকি দেয়া হয়। বৃটিশ সরকারি বাহিনী আমার
ওপর নির্যাতন চালায় আমার ব্যক্তিগত
কারণে নয়। শুধু কেবল ইসলামের কারণে।
তবে আমি ব্লেয়ার সরকারের নিকট সম্মানিত
ছিলাম। আমার কাছে এমন সব পত্র আসে যেখানে বলা হয়, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ
করবে কিংবা হিজাব পরিধান
করবে সে পাশ্চাত্য সমাজে নিজেকে সংঘাতের
প্রথম কাতারে নেওয়ার শামিল। আর
বাস্তবিকই হিজাব পরিধানকারী মহিলারা এ
ধরনের চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার মুখোমুখী। দুঃখের বিষয় অনেক আরব ও মুসলিম দেশেও একই
অবস্থা। আপনি কি কোরআনের ভাষায় আরবিী শেখার
ব্যাপারে কোন চিন্তা-ভাবনা করেছেন? রেডলি : আমি আরবিতে শুধু একটি শব্দই জানি।
আর তা হলো, আল-হক্ব (সত্য) এবং এ
শব্দটি আমি আমার কথাবার্তা ও আলোচনায়
প্রায়ই উল্লেখ করে থাকি। আপনার পরিবারের প্রতিক্রিয় কেমন ছিল?
বৃটিশ প্রশাসনের ন্যায়?
রেডলি : আমার দুই বোন। বড় বোন বিশ বছর
ধরে এক মুসলিম পরিবারের প্রতিবেশী হওয়ায়
তিনি আমার ইসলাম গ্রহণের সংবাদে বিচলিত
হননি, স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। কিন্তু আমার দ্বিতীয় বোন আমাকে বিদ্রƒপ
করে বলেছিল, এবার তুমি আত্মঘাতি হামলার
কাজটিও সেরে ফেল আর আমার আম্মাও বিচলিত
হয়ে গীর্জায় আসা যাওয়া বাড়িয়ে দিলেন।
তিনি স্বভাবতই খুবই ধার্মিক। এ
বিষয়টি ইসলামের কাছাকছি। আর যখন আমি তাকে ইসলামের সুস্পষ্ট দাওয়াত দিলাম
তিনি বললেন, আমার বয়স ৭৯। এ অবস্থায় আমার
পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়। আপনি এখন কোথায় কর্মরত আছেন? রেডলি : ইসলাম গ্রহণ করার পর আমি বিভিন্ন
ইসলামি মিডিয়ায় ইংরেজি ভাষায় অনেক
আলোচনা উপস্থাপনা করেছি। পাশ্চাত্য
মিডিয়াতেও ইদানিং আমি লেখালেখি শুরু
করেছি। আমার সর্বশেষ প্রবন্ধটি ছিল
“হিজাব” যেটি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত হয়। অমুসলিম বন্ধুদের সাথেও আমার সুসম্পর্ক
বজায় আছে। বর্তমানে আমি আল-
জাযিরা ইংলিশ চ্যানেলে কর্মরত রয়েছি। মুক্তির পর আপনি যে ইসলাম নিয়ে গবেষণা শুরু
করেছেন; তার মধ্যে প্রথম বই/গ্রন্থ
কোনটি ছিল? রেডলি : এটি ছিল শহিদ সৈয়দ কুতুব রচিত
“মাআলীকিত্ তারীখ”। এ
কিতাবটি পড়ে আমি খুব প্রভাবিত হই।
যারা এটা পড়েননি আমি তাদের
সকলকে এটা পড়ার অনুরোধ করবো। বড় দুঃখের
বিষয় আমি যখন মিসর গিয়েছিলাম তখন লাইব্রেরিতে এই কিতাবগুলো পাইনি।
উসামা বিন লাদেনের ওপর আমি একটি বই
রচনা করেছি। কারণ তিনি সারা বিশ্বের
দৃষ্টি অর্জন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তি। উদ্দেশ্য উসামা বিন লাদেনের
প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন নয়। ডেনমার্কের ঘটনার পর মুসলিম ও পাশ্চাত্যের
সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার কী মূল্যায়ন? রেডলি : আমাদের শক্তি ঐক্যের মাঝে।
যা আমরা পশ্চিমা পণ্য বয়কটের
মাধ্যমে লক্ষ্য করেছি অর্থনৈতিক বয়কট
সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এ
ক্ষেত্রে আমি যায়নবাদী ইহুদি রাষ্ট্রের
সমর্থক সকল দেশে কোম্পানিগুলোর পণ্য বয়কট করা উচিত বলে মনে করি।
আমি তো এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে,
মুসলমানরা কীভাবে কোকাকোলা পান করে।
তারাতো কোকাকোলা নয় ফিলিস্তিনি ভাইয়ের
রক্ত পান করছে। অর্থনৈতিক বয়কট হল মত
প্রকাশের একটি শান্তিপূর্ণ পথ। পাশ্চাত্যের ইসলামভীতি সম্পর্কে আপনার
বক্তব্য কী? রেডলি : আমি মনে করি, অন্যের সাথে সম্পর্ক ও
কর্মপন্থা ঠিক করার আগে আমাদের নিজেদের
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।
বিশেষত মুসলিম সমাজে ঐ সব
লোকেরা যারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার
করে; মিসরের সাংস্কৃতিক মন্ত্রী ফারুক হোসনির মত লোকেরা। আল্লাহ তার
অন্তরকে রোগমুক্ত করুক। তার
ক্ষমা চাওয়া উচিত।
সে তো বুঝতে পারেনি তার এসব বক্তব্য
পাশ্চাত্যের মুসলিম নারীদের কত
ক্ষতি করেছে। বলুন আমরা শত্রুর মোকাবিলা কীভাবে করি? সমস্যা তো আমাদের
ভিতর থেকেই। আপনার দৃষ্টিতে এমন কোন মুসলিম
মহিলা ইসলাম গ্রহণের পর প্রভাবিত
হয়েছেন? রেডলি : অনেক মুসলিম আরব মহিলা দ্বারা;
তবে বিশেষ করে যায়নাব আল-গাযালী (রহ.)
এর কথা উল্লেখ করবো। তাঁর
আত্মজীবনী আমাকে মুগ্ধ করেছে। তুর্কি পত্রিকার সাক্ষাৎকারে রেডলি
“প্রেসিডেন্ট বুশ তালেবান
সরকারকে বিশ্বের সর্প
বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর
কৃতজ্ঞতা আদায় করি, আমি তালেবানদের
হাতে বন্দি হয়েছি। মার্কিনীদের হাতে নয়, আমি তাদের বন্দিশালায় যেন মেহমানখানায়
অবস্থান করছিলাম।
আমি কিভাবে তালেবানদের কৃতজ্ঞতা আদায়
করবো! কোন ভাষা পাচ্ছি না। আমি নিশ্চিত,
তালেবান
সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি তাই স্থির করে নিলাম, আমি তাদের ধর্ম
অধ্যয়ন করব। আর এ অধ্যয়ন ও গবেষণাই
আমাকে ইসলামের পথ দেখালো।” আপনি তালেবান যোদ্ধাদের হাতে কিছু দিন
বন্দি ছিলেন, তাদের ব্যাপারে আপনার
অনুভূতি কী? রেডলি : সত্যিই তারা উত্তম মানুষ।
ইউরোপে তো আমার অনেক মুসলিম বন্ধুরাও
রয়েছেন। কিন্তু তারা আমাকে ঐভাবে আকর্ষণ
করতে পারেনি যেভাবে তালেবানরা পেরেছে।
আমি ১০/১১ দিন এমন সব লোকের
সাথে কাটিয়েছি যাদেরকে হিংস্র ও বর্বর বলে গালি দেয়া হতো; কিন্তু
তারা তো কখনো সে রকম ছিলো না। তাদের
ভালোবাসা ও নিষ্ঠা আমার মাঝে গভীর
প্রভাব সৃষ্টি করেছে। -আপনার সাথে তাদের আচরণ কেমন ছিল? রেডলি : তারা খুবই সম্মান ও মানবিক ব্যবহার
করেছে। যদি একে আবু গারীব
বা গোয়ান্তানামোর সাথে তুলনা করেন
তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে,
আমার বন্দিত্ব ছিল একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত।
আমি তাদেরকে কথা দিয়েছি, ইসলাম সম্পর্কে পড়ালেখা করবো যদি তারা আমাকে মুক্তি দেয়।
আমি সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। আমি এ
ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত, বৃটিশ সরকার
যাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত
করছে তারা বরং স্বাধীনতার যোদ্ধাই বটে;
যারা নিজের দেশের জন্য মুক্তির লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আপনি ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার সিদ্ধান্ত
কীভাবে গ্রহণ করলেন? রেডলি : আমি দীর্ঘ ৩০ মাস ইসলাম
সম্পর্কে গবেষণা করেছি। আমি বিশেষত
কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রভাবিত হই।
আমি বিশ্বাস করি, একটি নতুন
দুনিয়া আমি আবিষ্কার করতে যাচ্ছি।
আমি অনুভব করতে লাগলাম, একটি নতুন তাড়না আমাকে স্বীয় স্থানে স্থির থাকার
ব্যাপারে বাধা দিচ্ছে।
আমি ধীরে ধীরে অনুভব করতে লাগলাম, ঈমান
আমার অন্তরকে প্রশান্ত করছে। মনে হচ্ছিল,
আল্লাহ নিজেই আমার অন্তরে ইসলামের বীজ
বপন করে চলছেন এবং আমাকে ঐ আধুনিক সভ্যতার পংকিলতা থেকে মুক্ত করছিলেন
যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি। আমার অন্তরে এক
চমৎকার প্রশান্তি ও স্বস্তিবোধ-এর
সূচনা হতে লাগল। এটা নিশ্চয়ই
আল্লাহপ্রদত্ত। আর তখনি আমি মনে করলাম,
ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণার সময় এসে গেছে। অমনি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলাম।
আমি হয়ে পড়লাম তখন থেকে মুসলিম।
আমি বিশ্বস করি, একমাত্র আল্লাহই
আমাকে তার হেদায়াত দান করেছেন। আজ
আমি ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করছি। আসলে ঈমান
হলো এ দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম অনুভূতি। আপনি কি নাম পরিবর্তন করেছেন?
রেডলি : হ্যাঁ, করেছি। - আমরা কি তা জানতে পারি? রেডলি : আমি এখন ঘোষণা করতে চাই না। কেন? রেডলি : আমি মনে করি, এটা তার জন্য উপযুক্ত
সময় নয়। যখন সময় হবে তখন অবশ্যই
ঘোষণা করবো। তবে এতটুকু বলব যে, তা এমন এক
মুসলিম মেয়ের নাম যাকে প্রত্যেক মুসলিম
ভালোবাসে। - ইসলাম গ্রহণের পর আপনার আশেপাশে কিরূপ
প্রতিক্রিয়া হয়? রেডলি : তারা প্রথমে ব্যথিত হয়। বিশেষত
আমার আম্মা। কেননা, পশ্চিমারা এমন আড়াল
তৈরি করে রেখেছিল; যা ইসলামকে দেখার
পথে প্রতিবন্ধক হয়েছিল। এ আড়াল দূর
করা গেলে অনেক পশ্চিমাই কিন্তু
ইসলামে প্রবেশ করবে। কারণ ইসলামের আত্মিক প্রশান্তির জন্য তারাই
সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী। -কিছু দিন আগ থেকে আপনি হিজাব পরা শুরু
করেছেন, এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কি? রেডলি : আমি নিজের জন্য মনে করি, হিজাব
হলো মুসলিম নারীর সর্বোত্তম প্রতীক। এই
হিজাবের বিরুদ্ধে অনেক সহিংসতা হয়েছে,
কিন্তু আমি মনে করি, কোন শক্তি আমার কাছ
থেকে তা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। হিজাব
পরিধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ এটি আল্লাহর নির্দেশ। আখেরাতের
চিরস্থায়ী জগতে আল্লাহর নির্দেশ পালন
ছাড়া সৌভাগ্য আশা করা যায় না। ইসলাম
গ্রহণ করার পর
যে বিষয়টি আমাকে চরমভাবে আলোড়িত করে,
তা হলো, হজের মৌসুমে হিজাব পরিহিতা হাজার হাজার নারীর দৃশ্য। আমার
তখনই মনে হলো যেন ফেরেশতাদের সৈন্যদের
মাঝে আমি অবস্থান করছি। সত্যিই এ
অনুভূতিটি ছিল খুবই চমৎকার। -তুরস্কের বিদ্যালয়গুলোতে হিজাবের ওপর
নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আপনার জানা আছে কি?
রেডলি : হ্যাঁ। -এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আপনার মতামত কি? রেডলি : এ নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে গর্হিত;
বিশেষ করে তা এমন এক দেশে যার
সাথে ইসলামের নামটি সম্পৃক্ত। বাস্তবিকই এ
বিষয়টি আমাকে চরমভাবে আশ্চর্যান্বিত
করেছে। -হিজাব পরিধানকারী একজন
নারী হিসেবে যদি আপনার ওপর এরূপ
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়
তা হলে আপনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন? রেডলি : আমি আমার অধিকার অর্জিত
না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবো। -এ দেশে হাজার হাজার মেয়ে এ
সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে, আপনি তাদের
ব্যাপারে কী বলেন? রেডলি : অধিকার অর্জনের
প্রয়াসে আমি তাদেরকে সমর্থন করি। আমার
ঐসব বোনদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই,
তোমরা শেষ পর্যন্ত স্বীয় ন্যায়সঙ্গত অধিকার
অর্জনের
প্রচেষ্টা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাও এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এ
সংগ্রামে লিপ্ত হও। বিজয়ের
ব্যাপারে তোমরা হতাশ হবে না। -পাশ্চাত্যরা দাবি করছে, ইসলাম নারীদের
অধিকার নষ্ট করেছে। ইসলামে নারীর
অবস্থান সম্পর্কে আপনার মতামত কি? রেডলি : আমি কখনো এ কথা বুঝতে পারি না,
পশ্চিমাদের এসব প্রপাগান্ডার
পিছনে কি কারণ রয়েছে? কেননা, ইসলাম
নারীদেরকে যে মূল্যায়ন করেছে সেটিই
তো আমাকে বেশি প্রভাবিত করেছে। রাসূল (স.)
বলেছেন, জান্নাত মায়ের পদতলে। পুরুষদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তোমাদের
মধ্যে উত্তম ব্যক্তি হলো যে, পরিবারের
সাথে সদাচরণকারী। এটি একটি চমৎকার
বিষয়। সন্তান প্রসবের জন্য ইসলাম নারীদের
বিশেষ মর্যাদা দান করেছে। মাকে সংসারের
গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভূষিত করেছে। আমার দৃষ্টিতে একজন সৎ মা-ই হলো মুসলিম নারীর
সর্বোৎকৃষ্ট গুণ। ইরাক, ফিলিস্তিন সংক্রান্ত
নানা কর্মসূচিতে আপনার ব্যাপক অংশ গ্রহণ
আমরা লক্ষ্য করি। ফিলিস্তিনে হামাসের
বিজয় সম্পর্কে আপনার মতামত কি? রেডলি : নির্বাচনে হামাসের বিজয়ের
সংবাদটি ছিল আমার জন্য সে সময়
সবচেয়ে আনন্দদায়ক বিষয়। এটি ছিল আমাদের
সিংহসার্দুল প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিজয়।
আমার দু’নয়ন দিয়ে পানি এসে যায়
এবং আমি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া স্বরূপ সিজদায় লুটে পড়ি। শেখ আহমদ ইয়াসিনের
দৃশ্যগুলো বরাবরই আমার
চোখে ফুটে উঠতে থাকে। প্রায় এক সপ্তাহ যাবত
পশ্চিমা পত্রিকাগুলো মহানবী (স.)-এর
ব্যঙ্গচিত্র ছাপিয়ে চলছে। এ ব্যপারে আপনার
অনুভূতি কি? রেডলি : পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে আমি আরেকবার
ক্রোধ লক্ষ্য করলাম। এ ধরনের ঘৃণ্য বিষয়
বরদাশত করা যায় না। পাশ্চাত্য অনুধাবন
করতে পারেনি, মুসলমানদের
হৃদয়গুলোতে মহানবী (স.)-এর বিশাল স্থান
রয়েছে। তিনিই তো আমাদের সবকিছু। যে প্রতিক্রিয়া আমার
ভায়েরা বিশ্বব্যাপী প্রদর্শন
করেছে তা আমাকে আনন্দিত করেছে। টিভির
পর্দায় যখন মুসলমানদের বিক্ষোভ
সমাবেশগুলোর দৃশ্য দেখি তখন আমার মনে হয়,
বিশ্বের প্রতিটি স্থানে আমার ভাইদের অস্তিত্ব রয়েছে। আমি মুসলমানদের
ভালোবাসি এবং অনুধাবন করি, আমার এই
অনুভূতিই হলো ঈমান। - তুর্কী জনগণের জন্য আপনার পয়গাম কী? রেডলি : তাদেরকে ইসলামি আবেগ ভরা সালাম
রইল আমার পক্ষ থেকে। মুসলমান
হিসেবে আমাদের অনেক কিছু করণীয়
রয়ে গেছে। ইসলামের বাণী সকলের নিকট
পৌঁছিয়ে দিতে হবে। মুসলমানদের
বিরুদ্ধে পরিচালিত নির্যাতন বন্ধেও আমাদের কাজ করতে হবে। আমি আপনাদের
দেশে এসেছি যাতে ইরাক ও
ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব অবসানে কিছু
করতে পারি। চুপ করে বসে থাকা ছাড়াও
আমাদের প্রত্যেকের অনেক কাজ রয়েছে।
আপনারা জাগ্রত হোন। ছড়িয়ে যান। নানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করুন। দখলদারদের
পণ্য বয়কট করুন। আল্লাহকে আহ্বান করুন।
আল্লাহু আকবার ধ্বনি তুলুন। এ আওয়াজ
দ্বারা দুনিয়াকে পরিপূর্ণ করে দিন। আল্লাহু
আকবর সর্বোৎকৃষ্ট শব্দ। আগামীকাল আমাদের
বিজয় সংবাদ আসবে। মক্কায় একান্ত সাক্ষাৎকারে রেডলি
আবরার আহমাদ : আফগানিস্তানে আপনার
প্রবেশ এবং অন্তরীণ থাকাকালীন
তালেবানদের সাথে আপনার সম্পর্কের
বিষয়ে কিছু বলুন। রেডলি : আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমার
ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার
ঘটনাটি ছিলো তালেবানদের নিকট
আমি বন্দি হওয়ার পর। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছিলো,
আমি বেআইনিভাবে আফগানিস্তানে প্রবেশ করি। এটি ছিলো ১১ সেপ্টেম্বরের পর। আসলেই
আমি পরিচয় গোপন করে বোরকা পরিধান
করে বেআইনিভাবে আফগানিস্তানে প্রবেশ
করি। দশ দিন আমি বন্দি ছিলাম।
মোল্লা ওমরের ব্যক্তিগত নির্দেশে পরে আমার
মুক্তি হয়। এ অন্তরীন থাকাকালীন পুরো সময়টি জুড়ে আমার ভবিষ্যতের
ব্যাপারে এক প্রচ- ভীতি আমার উপর
চেপে বসেছিলো। অথচ বরাবর
তালেবানরা আমার সাথে ন্যায় ও সৎ ব্যবহার
করে যাচ্ছিলো। বিশ্ববাসীকে আমি এ
কথা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, বন্দি থাকাকালীন আমি কোন প্রকার লাঞ্ছনা,
দুর্ব্যবহার এবং নির্যাতনের সম্মুখীন হইনি।
আমাকে কোন যৌন হয়রানি করা হয়নি।
বিশ্ববাসীর কাছে আমি এটাও স্বীকার
করতে চাই, আমি আল্লাহর কাছে এ জন্য কৃতজ্ঞ
যে, আমার গ্রেফতারি ছিলো একটি ‘বর্বর ও হিংস্র’ গোষ্ঠীর হাতে; মার্কিনীদের
হাতে নয়। মুক্তির কিছুদিন পরেই আমি কোরআন
শরিফ পড়তে শুরু করলাম। জনৈক তালেবান
মোল্লা আমাকে এই
কোরআনটি হাদিয়া দিয়েছিলেন।
জালালাবাদের বন্দিশালায় তিনি আমার সাথে দেখা করেন।
আমি তাকে চিনতে পারছি না এবং আমার
মনে হয় তিনি কোন সাধারণ কোন আফগানি নয়।
কেউ যদি আমাকে এখনো সেই ভদ্রলোকের
পরিচয়
দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করতে পারে তাহলে আমি কৃতজ্ঞ হবো। কেননা, এটি এমনি অনেকগুলো বাস্তব
বিষয়ের অংশ যা এখনো পরিপূর্ণ হয়নি।
যা হোক, সমস্ত আশা ও প্রত্যাশার
বিপরীতে তালেবানরা আমাকে মুক্তি দিলো।
এটি ছিলো ঐ সকালে যার আগের রাতে ইঙ্গ-
মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে এবং সে হামলায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ
প্রাণ ত্যাগ করে।
আমি বিরামহীনভাবে কোরআন শরিফ অধ্যয়ন
এবং গবেষণা চালিয়ে গেলাম। এই
দিনগুলি ছিলো আমার জীবনে চমৎকার
আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের সূচনা। আর এখন তো আমি মক্কায় হজ করতে এসেছি, ঐ পোশাকেই
যে পোশাক আমি আফগানিস্তানের
রাজধানী কাবুলের বন্দিশালায় পরিহিত
ছিলাম। কেননা, এ ধরনের পোশাক
(ইসলামি পোশাক) এক বিশেষ প্রতীকের
প্রতিনিধিত্ব করে; যার পটভূমি ও ফলাফল আমি পরে অনুধাবন করতে পেরেছি। আবরার আহমাদ : এখন আপনার অনুভূতি কেমন?
এবং এই আধ্যাত্মিক
ভ্রমণকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? রেডলি : আমি আপনাকে সবচেয়ে গভীর আবেগময়
এক অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারি। এক দিন
আমি পবিত্র কাবার পথে চলছিলাম, কিন্তু
মানুষের চাপে প্রচ- ভিড়ের
কারণে আমি হেরেম শরিফে প্রবেশ
করতে পারছিলাম না। এ ছিলো এক অস্বস্তিকর অবস্থা। হঠাৎ নামাজের জন্য আজানের
ধ্বনি শুরু হলো। আর অমনি কয়েক মিনিটের
মধ্যে এই উপচে পড়া মানব ভিড়
কাতারে কাতারে সুশৃঙ্খল হয়ে পড়লো পূর্ণ
শান্তভাবেই। আমি মনে করি, দুনিয়ার কোন
বিশাল সামরিক বাহিনীও এই ডিসিপ্লিন দেখাতে পারবে না। আমি মনে মনে যেন
চিৎকার করে বলতে লাগলাম, আল্লাহর
বাহিনীর চেয়ে কোন বাহিনীই অধিক
আনুগত্যশীল ও শক্তিশালী ডিসিপ্লিনের
অধিকারী হতে পারবে না। তবে দুঃখের বিষয়,
উপাসনালয়ের বাইরে এমন ধরনের ঐক্যের প্রতিকৃতি আঁকতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।
আমরা ব্যর্থ হয়েছি আমাদের শক্তি প্রদর্শন
করতে। আমরা যদি ঐক্যের
শক্তি দ্বারা একতাবদ্ধ হতাম
তাহলে দুনিয়াতে কেউ আমাদের ভূ-খ-ণ্ড
আগ্রাসন অথবা আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করার দুঃসাহস দেখাতো না। আমাদের
জনগণকে সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হতো।
দুঃখের বিষয় মসজিদের বাইরে আমরা এই
শক্তিকে হারিয়ে ফেলেছি। যাই হোক, হেরেম
শরিফের এই সময়গুলো আমার জন্য আলোকিত
মুহূর্ত ছিলো; যা বিশ্বে একটি বৃহত্তম ও সর্বোত্তম পরিবারের সাথে আমার সম্পৃক্ততার
কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমি গর্বের
সাথে এটাও অনুধাবন করি, কোনো একদিন ঐসব
ভাই-বোনের
সাথে কোনো না কোনো স্থানে দেখা হবে যখন
নূরের পথে চলার জন্য তারা আমার সাহায্যে এগিয়ে আসবে। আমি দৃঢ় বিশ্বাস
করি, তারা অতি দ্রুত আমার
ডাকে সাড়া দিয়ে আসবেন। আমি এটাও অনুভব
করছি, মুসলমান ভাইদের যে কোন
কাজে সমানভাবে আমিও এগিয়ে যাবো। আবরার আহমাদ : আপনার বর্তমান
কর্মব্যস্ততা কী? রেডলি : আমি বর্তমানে একটি সংগঠনের
সাথে জড়িত। যার নাম স্টপ পলিটিক্যাল
টেরর। সংস্থাটি বৃটিশের বিভিন্ন
কারাগারে বন্দি মুসলমানদের
সাহায্যার্থে রাজনৈতিক কর্মকা-
চালিয়ে যাচ্ছে। বৃটিশের এই কারাগারটি গুয়ান্তানামোর মতোই;
যেখানে বিনা বিচারে কোনো অভিযোগ ছাড়াই
মুসলমানদেরকে বন্দি রাখা হয়েছে।
আমরা তাদের মানবাধিকার রক্ষায় ও
লজ্জাজনকভাবে বন্দি করে রাখার
বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। এভাবে আমি আরেকটি সংস্থার সাথে জড়িত
যার নেতৃত্বে রয়েছেন জর্জ জালাবি।
এটি রাজনৈতিক সংস্থা।
আগামী ইলেকশনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিত
া করতে ইচ্ছুক। যদি আমি এই নির্বাচনে সফল
হতে পারি তাহলে আমি হবো প্রথম বৃটিশ নারী যিনি হিজাব ধারণ
করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করবেন। আবরার আহমাদ : কোন
এলাকা থেকে আপনি নির্বাচন করবেন? রেডলি : লেস্টার শহরের দক্ষিণাঞ্চল থেকে।
যেখানে ব্যাপক সংখ্যক হিন্দি ও গুজরাটিদের
বসবাস রয়েছে। তারা আমাকে ভালো করেই
চিনে এবং আশা করি আমি তাদের আস্থা অর্জন
করতে পারবো; যা আমাকে তাদের
পক্ষে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এনে দিবে। আবরার আহমাদ : কী কারণগুলো আপনাকে ইসলাম
গ্রহণের দিকে উদ্বুদ্ধ করেছে? তালেবানদের
সদ্ব্যবহার না কোরআন শরিফ অধ্যয়ন? রেডলি : বন্দিত্বের ষষ্ঠ
দিনে জালালাবাদে জনৈক শায়খ
আমাকে ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ
আছে কি না জিজ্ঞেস করলে আমি তাকে উত্তর
দিয়েছিলাম, তাড়াহুড়ো করে এই
মুহূর্তে আমি এমন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না, যা আমার জীবনে রাজনৈতিক
পটপরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। আর
আমিতো কারাগারের মধ্যেই। কিন্তু
তোমরা আমাকে মুক্তি দিলে আমি তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি,
আমি গভীরভাবে কোরআন অধ্যয়ন
এবং ব্যাপকভাবে ইসলাম নিয়ে গবেষণা করবো। এই সাক্ষাতের
আধা ঘণ্টার মধ্যেই
আমাকে রাজধানী কাবুলে নিয়ে যাওয়া হয়
এবং আমাকে একটি অস্বস্তিকর
কারাগারে রাখা হয়। এর কারণ
প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি। পরে আমি জানতে পেরেছি, মোল্লা ওমর
আমাকে প্রথমে পুরুষ মনে করেছিলেন। তাঁকে শুধু
এতটুকু সংবাদ দেয়া হয়েছিলো, একজন
পশ্চিমা সাংবাদিক আটক হয়েছে। শুধু এতটুকু
জেনেই তিনি আমার বিষয়টা নিয়ে নিয়মিত
খোঁজ-খবর রাখছিলেন। পরে তার এক উপদেষ্টা তাকে এ কথা অবগত করেন, আমি একজন
মহিলা, পুুরুষ নই।
এটা জানতে পেরে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন এ
কারণে যে, আমি এমন একজন মহিলা যার
সাথে কোন নিকটাত্মীয় বা মহিলা সাথী নেই।
তাই তিনি তৎক্ষণাৎ আমাকে কাবুলের মহিলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মনে হয় এই ধরনের বিষয়টি (পুরুষদের
মাঝে একা মহিলার অবস্থান) তালেবানদের
চিন্তাধারা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমার জন্য
মোল্লা ওমরের সিদ্ধান্তের অর্থ ছিলো জালালাবাদের অতি আরামদায়ক
কারাগার থেকে কাবুলের
নোংরা কারাগারে অবস্থান। মোল্লা ওমর এ
জন্য চিন্তিত ছিলেন নারীসঙ্গী ব্যতীত
আমি অসহায়ের মতো। আর এটি শরিয়তের
পরিপন্থী। আবরার আহমাদ: আপনার
দৃষ্টিকোণে আপনি মনে করছেন যে,
তালেবানরা শরঈ কারণেই কাবুলের
কারাগারে স্থানান্তর করে আপনার
প্রতি ইনসাফ করেছে। তবে আপনি কোরআন শরিফ
অধ্যয়ন করার ব্যাপারে তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,
সে ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? রেডলি : ভালো কথা। আমি যখন
লন্ডনে নিরাপদে কোন আঘাত ছাড়াই
ফিরে যাই, তখন আমি বিশ্বাস করলাম
আমাকে মুক্তি দিয়ে তালেবানরা তাদের
কথা ও প্রতিশ্রুতি রেখেছে পরিস্থিতির
সর্বরকম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও। বিশেষ করে যখন তালেবানদের সাথে যুদ্ধ শুরু
হয়ে যাচ্ছিলো, তখন তো কেউ আমাকে জীবিত
দেখবে তা কল্পনাও করেনি।
তালেবানরা ওয়াদা রক্ষা করেছে। এবার
আমি অনুভব করলাম, এখন ওয়াদা রক্ষার
পালা আমার। অতঃপর আমি কোরআন পড়তে শুরু করলাম। আমাকে একজন শায়খ আব্দুল্লাহ ইউসুফ
আলীর কোরআনের একটি চমৎকার অনুবাদ
কপি উপহার দেন। আমি তৎক্ষণাতই কোরআন
শরিফের ওইসব আয়াত খুঁজতে লাগলাম
যেগুলো নারীদের সংশ্লিষ্ট। কেননা, ইসলাম
নারীদেরকে পশ্চাদপদ রেখেছে এই ধারণাটির বাস্তবতা সম্পর্কে জানার জন্য
আমি দারুণভাবে পিপাসিত ছিলাম। কোরআনের
দুই মলাটের মাঝে আমি তো এই ধারণার কোন
অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। আমি তাই
পেয়েছি যা আমি এতদিন শুনিনি। শিক্ষা,
বিয়ে, উত্তরাধিকার সম্পদ এবং অন্যান্য অধিকারসমূহ আমি এটাও জানতে পেরেছি যে,
যিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি ছিলেন
একজন নারী। ইসলামের প্রথম শহীদও ছিলেন
একজন নারী। আরো জানি, আল্লাহ
তো জান্নাতকে মায়েদের পদতলে করেছেন।
রাসূলের এই হাদীস সম্পর্কে অবগত হই যেখানে তিনি জনৈক ব্যক্তির এই প্রশ্ন
“আমি কার সাথে উত্তম ব্যবহার করবো”-এর
উত্তরে রাসূল (স.) বলেন, “তোমার মায়ের
সাথে”। আবরার আহমাদ : আপনার বর্তমান কর্মসূচি কী? রেডলি : আমি বর্তমানে ‘ইসলামিক চ্যানেল’
নামে একটি টিভি চ্যানেলে কর্মরত আছি,
ইউরোপের সর্বত্র তার পরিধি বি¯তৃত। আপাতত
আমাদের প্রোগ্রাম সীমিত হলেও
ভবিষ্যতে আমাদের রয়েছে বড় পরিকল্পনা।
আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের প্রোগ্রাম বি¯তৃত করতে সচেষ্ট।
সেখানে ইউরোপের বাইরের দেশগুলোও
অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অতিশীঘ্রই
আমরা ইংরেজি ভাষায় সংবাদ প্রচারের জন্য
কাজ শুরু করবো। তবে চ্যানেলটিতে আমার কাজ
হল, সপ্তাহব্যাপী প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম উপস্থাপন করা,
যেখানে আমি বিশেষভাবে বৃটিশ মুসলমানদের
সাথে সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের ওপর আলোকপাত
করে থাকি; যার লক্ষ্য হল, মুসলমানদের
উন্নয়নের পথে সহায়ক বিষয়গুলো তুলে ধারা।
চ্যানেলটির এক অধিবেশনে দেখা যায়, সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের
জনৈক মহিলা তার ইসলাম গ্রহণের
কথা ঘোষণা দিয়েছেন। আর স্টুডিওতে যে শায়খ
আমাদের সাথে উপবিষ্ট ছিলেন তিনি ঐ ভদ্র
মহিলাকে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করালেন
আর ঐ মুহূর্তগুলো ছিল চমৎকার ও ঐতিহাসিক। এটি ছিল আমাদের টিভি প্রোগ্রামের
মাধ্যমে কালেমায়ে শাহাদাতের প্রথম
ঘোষণা। সত্যিই আমি যা চাচ্ছি তা হল, মুসলিম
সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা;
যা তারা ১১ সেপ্টেম্বরের
পরে হারিয়ে ফেলে। আমি বলতে চাই, আমাদের
উচিৎ ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার বিষয়ে এত
বেশি ব্যাখ্যার আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই। কেননা, কোনো অবস্থাতেই আমরা তার জন্য
দায়ী নই। আর এটি শেষ ঘটনাও নয়। বলুন তো,
ফিলিস্তিনের বর্বরতার জন্য সকল ইহুদির
কি সমানভাবে দোষারোপ করা যাবে?
তেমনি ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার ব্যাপারেও
সব মুসলমানকে অভিযুক্ত করা যাবে না। শায়খুল আজহার ও মিসরি মন্ত্রীর সমালোচনায়
রেডলি ইসলাম গ্রহণের পর বিভিন্ন আরব দেশের
অসংখ্য সেমিনারে তিনি যোগ দান করেন;
ভ্রমণ করেন বিভিন্ন মুসলিম দেশ। মুসলিম
দেশে তার সেই ভ্রমণের
প্রাক্কালে অতি কৌতূহলপূর্ণ
একটি অভিজ্ঞতা তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনাটি মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ মুসলিম
ব্যক্তিত্ব শেখ সৈয়দ
আলী তানতাভী সম্পর্কিত, যিনি বর্তমান
শাইখুল আযহার পদটি অলংকৃত করে আছেন। ইভন
রেডলি যখন সাক্ষাত করতে গেলেন তখন হাত
বাড়িয়ে করমর্দন করে অভ্যর্থনা জানাতে শাইখুল আজহার উদ্যত
হলে রেডলি নিজেকে তা থেকে বিরত রাখেন।
উত্তরে শাইখ বলে উঠলেন, তুমি মৌলবাদী।
আজহারের রেক্টর তার আশেপাশের লোকদের
উদ্দেশ করে আরো বলেন, এ ধরনের (রেডলি)
যারা নতুন ইসলামের দাওয়াত দ্বারা মুসলিম সমাজে অন্তর্ভুক্ত হন তারা কেবল
মৌলবাদী বক্তব্য ও কণ্ঠ ছাড়া অন্য
কারো অনুকরণ করে না। রেডলি শাইখুল আজহারের এসব বাজে উক্তির
সমালোচনা করে বলেন, আমি কোনো বিশেষ দল
বা শাইখের আনুগত্য জরুরি মনে করি না,
আমি শুধু কেবল সরাসরি কোরআন-সুন্নাহর কথাই
বুঝি। ২০০৬ সালে মিসরের
রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত মুসলিম
সংস্থা (ডঅগণ) এর দশম সম্মেলনে মিসরের
মন্ত্রী ফারুক হাসানের
কড়া সমালোচনা করে তাকে বহিষ্কারের
দাবি করেন। উক্ত সম্মেলনে রেডলি বলেন, আমি মিসরের বিভিন্ন পত্র-
পত্রিকা দ্বারা জানতে পেরেছি, এ
মন্ত্রী মুসলিম নারীদের
হিজাবকে পশ্চাদপদতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামীর
চিহ্ন বলে আখ্যা দিয়েছেন। মিসরের
জনগণকে আমি জিজ্ঞাসা করবো; তারা কেন এমন লোককে স্তব্ধ করতে পারলেন না, যে হিজাব
ধারণকারী প্রতিটি নারীর মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত
করেছে। তার এসব উক্তি অত্যন্ত কদর্য ও ঘৃণ্য।
এসব লোক যারা পশ্চিমাদের চেয়েও
বেশি পশ্চিমা হতে চাইছে তাদের মুসলিম
দেশের মন্ত্রীত্বের পদে থাকার কোন যোগ্যতা নেই। তাদেরকে স্বীয় পদ
থেকে বহিষ্কার করা উচিৎ। তিনি আরো বলেন, হিজাব পাশ্চাত্যের
নেতিবাচক জীবন যাপনকে প্রত্যাখ্যানের
প্রতীক। এটি পশ্চিমাদের জন্য একটি নৈতিক
বার্তা। অর্থাৎ আমরা তোমাদের মত জীবন
ধারণ করতে চাই না। মিসরীয় মন্ত্রীর মত
যেসব লোক পাশ্চাত্যদের চেয়েও বেশি নিজেদের পাশ্চাত্য প্রমাণ করতে চায়;
তারা সর্বদা অন্যের প্রতি বিদ্রƒপ
ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। উক্ত সম্মেলনে তিনি দেশে দেশে মুসলিম
নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে এর জন্য
মুসলমান শাসকদেরকেও অভিযুক্ত করেন।
সূত্র : ইন্টারনেট আল্লাহ যেন তাকে সঠিক পথে চলার তৌফিক
দান করেন।আমীন। আপনার সকল বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
জাজাকাল্লাহু খাইর।
Read More...

Thursday, July 5, 2012

বাবরি মসজিদ ধ্বংসে নরসীমা সম্পৃক্ত!

1 comment
ভারতের উত্তর প্রদেশের
অযোধ্যায়
বাবরি মসজিদ ধ্বংসে দেশটির
সাবেক প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসীমা রাওয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ে পূজায় বসেছিলেন কংগ্রেসের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। আর বাবরি মসজিদ ভাঙার কাজ শেষ হলেই তিনি পূজা শেষ করেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, মসজিদ ধ্বংসে নরসীমাকে জড়িয়ে এসব তথ্যের সন্নিবেশ করা হয়েছে ‘বিয়ন্ড দ্য লাইনস’ নামে আত্মজীবনীমূলক একটি বইয়ে। রলি বুকস থেকে শিগগিরই বইটি প্রকাশিত হবে। বইটি লিখেছেন ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার। বইয়ে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার দিন ও এর পরের নানা ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
বইয়ে ‘নরসীমা রাও’স গভর্নমেন্ট’ নামে একটি অধ্যায়ে কুলদীপ নায়ার জানান, বাবরি মসজিদ ধ্বংসে সমর্থন ছিল নরসীমার। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ যখন মসজিদ ভাঙতে শুরু করেন তখন তিনি (নরসীমা) পূজায় বসেন। আর ভাঙার কাজ শেষ হলে উঠে যান। প্রয়াত সমাজতন্ত্রী নেতা মধু লিমাই তাঁকে এসব তথ্য
দেন বলে জানান কুলদীপ।
এদিকে বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অসত্য ও অসমর্থনযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন নরসীমার ছেলে পি ভি রাঙ্গা রাও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই আমার বাবা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। তিনি বাবরি মসজিদ ভাঙার খবর শুনে মর্মাহত হয়েছিলেন। কারণ, মুসলমানদের প্রতি তাঁর যথেষ্ট দরদ ও সমর্থন
ছিল। উপরন্তু বাবা আমাদের অনেকবারই বলেছেন এটি (বাবরি মসজিদ ধ্বংস) ঘটতে পারে না।’
কুলদীপ নায়ারের মতো একজন স্বনামখ্যাত সাংবাদিক এ ধরনের বই লেখায় দুঃখ প্রকাশ করে রাঙ্গা বলেন, ‘কায়েমি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই বাবাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি তিনি।’
বিপরীতে কুলদীপ বলেছেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময়ে দাঙ্গা বাঁধলে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ বাসায় আমন্ত্রণ জানান নরসীমা। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বাবরি মসজিদ ধ্বংস চেষ্টা বন্ধ করতে তাঁর সরকারের উদ্বেগের কথা জানান তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী। কল্যাণ
সিংয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ভেঙে তখন এমনিতেই আলোচনায় ছিল কেন্দ্রীয় সরকার। নরসীমা বলেন, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং তাঁকে অসহযোগিতা করেন। এরপর রাতারাতি বাবরি মসজিদের স্থলে একটি মন্দির স্থাপনের ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ রিজার্ভ পুলিশের
(সিআরপিএফ)
একটি দলকে লক্ষে�ৗতে পাঠানোর ইচ্ছা থাকলেও বাজে আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
কুলদীপ জানান, নরসীমা তাঁকে অযোধ্যার কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিষ্ক্রিয় থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেননি। তবে তৈরি করা মন্দির বেশিদিন থাকবে না বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, রাওয়ের সরকারকে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য সব সময়ই দায়ী করা হয়েছে। উত্সাহব্যঞ্জক বিষয় হলো, পুরো বিষয়টি সম্বন্ধে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী সচেতন থাকলেও দৃশ্যত কিছুই করেননি তিনি। উপরন্তু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিষ্পত্তির কথা বললেও তিনি ‘সামান্য’ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান। এর মানে দাঁড়ায় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী ছিলেন না তিনি। তা ছাড়া বাবরি মসজিদ রক্ষা পায়, এমনটি চাননি বিজেপি নেতা ও উত্তর প্রদেশের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংও। ফলে ধ্বংস হয়েছিল বাবরি মসজিদ যা ছিল হিন্দুত্ববাদী দুটি দল—ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘের (আরএসএস) যৌথ প্রচেষ্টা। আর এর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার
ওপর সর্বশেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হয়েছিল।
Read More...

শবে বরাত::সম্বন্ধে কিছু কথা! না দেখলে মিস করবেন।

Leave a Comment

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম শবে বরাত ও প্রাসংগিক কিছু কথা শবে বরাত শব্দের অর্থঃ 'শব' শব্দটি ফারসী শব্দ যার অর্থ রাত
বা রজনী। আর 'বরাত' শব্দটিও ফারসী শব্দ যার অর্থ
ভাগ্য। তাই দু'শব্দের অর্থ হলো: ভাগ্য
রজনী। অনেকে বরাত
শব্দটিকে আরবী মনে করে থাকেন।
যা সম্পূর্ণ ভূল; কারণ বরাত
বলতে আরবী ভাষায় কোন বাক্য নেই। আর যদি বরাত শব্দটি আরবী ভাষার
বারা'আত শব্দটির অপভ্রংশ ধরা হয়
তবে তার অর্থ হবেঃ সম্পর্কচ্ছেদ
বা বিমুক্তিকরণ। কিন্তু কয়েকটি কারণে এ
অর্থ গ্রহণ করা যায়না; ১. এর আগের শব্দটি ফারসী হওয়াতে তাও
ফারসী শব্দ হিসাবে নেয়াই স্বাভাবিক। ২. আরবী ভাষায় শা'বানের
মধ্যরাত্রিকে কেউই বারা'আতের
রাত্রি হিসাবে ঘোষনা করেনি। ৩. রমযান মাসের লাইলাতুল কাদরকে কেউ
কেউ লাইলাতুল বারা'আত হিসাবে নামকরণ
করেছেন, শা'বানের মধ্য রাত্রিকে নয়। আরবী ভাষায় এ রাতটিকে কি বলা হয়? আরবী ভাষায় এ রাতটিকে 'লাইলাতুন নিছফ
মিন শা'বান' বা শাবান মাসের মধ্য
রাত্রি হিসাবে অভিহিত করা হয়। {mospagebreak title= শাবানের মধ্য রাত্রির কি কোন ফযীলত
বর্ণিত হয়েছে? } শাবানের মধ্য রাত্রির কি কোন ফযীলত
বর্ণিত হয়েছে? শাবান মাসের মধ্য রাত্রির ফযীলত
সম্পর্কে কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে: ১) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: এক
রাতে আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কে খুজে না পেয়ে তাকে খুজতে বের হলাম,
আমি তাকে বাকী গোরস্তানে পেলাম। তখন
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন:
'তুমি কি মনে কর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল
তোমার উপর জুলুম করবে?' আমি বললাম:
'হে আল্লাহর রাসূল!
আমি ধারণা করেছিলাম যে আপনি আপনার
অপর কোন স্ত্রীর নিকট চলে গেছেন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'মহান
আল্লাহ তা'লা শা'বানের মধ্য
রাত্রিতে নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন
এবং কালব গোত্রের ছাগলের পালের
পশমের চেয়ে বেশী লোকদের ক্ষমা করেন। হাদীসটি ইমাম আহমাদ তার
মুসনাদে বর্ণনা করেন (৬/২৩৮),
তিরমিঝি তার সুনানে (২/১২১,১২২),
বর্ণনা করে বলেন, এ হাদীসটিকে ইমাম
বুখারী দুর্বল বলতে শুনেছি।
অনুরূপভাবে হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৪৪, হাদীস নং ১৩৮৯)
বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদ দূর্বল
বলে সমস্ত মুহাদ্দিসগণ একমত। ২) আবু মূসা আল আশ'আরী (রাদিয়াল্লাহু
আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ 'আল্লাহ
তা'আলা শাবানের মধ্য রাত্রিতে আগমণ
করে মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যতীত তাঁর সমস্ত
সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন।
হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার
সুনানে (১/৪৫৫, হাদীস নং ১৩৯০),
এবং তাবরানী তার মু'জামুল কাবীর
(২০/১০৭,১০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল্লামা বূছীরি বলেন: ইবনে মাজাহ
বর্ণিত হাদীসটির সনদ দুর্বল।
তাবরানী বর্ণিত হাদীস
সম্পর্কে আল্লামা হাইসামী (
রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) মাজমা' আয
যাওয়ায়েদ (৮/৬৫) গ্রন্থে বলেনঃ ত্বাবরানী বর্ণিত
হাদীসটির সনদের সমস্ত
বর্ণনাকারী শক্তিশালী।
হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তার
সহীহতে বর্ণনা করেছেন। এ
ব্যাপারে দেখুন, মাওয়ারেদুজ জাম'আন, হাদীস নং (১৯৮০), পৃঃ (৪৮৬)। ৩) আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু
আনহু) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "যখন
শা'বানের মধ্য রাত্রি আসবে তখন
তোমরা সে রাতের কিয়াম তথা রাতভর নামায পড়বে, আর সে দিনের রোযা রাখবে;
কেননা সে দিন সুর্য ডোবার
সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার
আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন:
ক্ষমা চাওয়ার কেউ
কি আছে যাকে আমি ক্ষমা করে দেব। রিযিক চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি রিযিক
দেব। সমস্যাগ্রস্থ কেউ কি আছে যে আমার
কাছে বিমুক্তি চাইবে আর
আমি তাকে উদ্ধার করব। এমন এমন কেউ
কি আছে? এমন এমন কেউ কি আছে? ফজর
পর্যন্ত তিনি এ ভাবে বলতে থাকেন"। হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার
সুনানে (১/৪৪৪, হাদীস নং ১৩৮৮)
বর্ণনা করেছেন।
আল্লামা বূছীরি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
তার যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ (২/১০)
গ্রন্থে বলেনঃ হাদীসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে আবি সুবরাহ
হাদীস বানাতো। তাই
হাদীসটি বানোয়াট। এখন
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, শা'বানের মধ্য
রাত্রির ফযীলত বর্ণনা করে যে সমস্ত
হাদীস বর্ণিত হয়েছে তার সবগুলিই দুর্বল অথবা বানোয়াট। আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, দুর্বল
হাদীস দ্বারা কোন প্রকার আহকাম
সাব্যস্ত করা যায় না। তারা দুর্বল
হাদীসের উপর আমল করার জন্য
কয়েকটি শর্ত দিয়েছেনঃ ১. হাদীসটির মূল বক্তব্য অন্য কোন সহীহ
হাদীসের বিরোধীতা করবেনা, বরং কোন
ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ২. হাদীসটি খুব দূর্বল বা বানোয়াট
হতে পারবেনা। ৩. হাদীসটির উপর আমল করার সময়
এটা রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত
বলে বিশ্বাস করতে পারবে না। কারণ
রাসূল থেকে প্রমাণিত বিশ্বাস
করলে রাসূলের উপর মিথ্যা হাদীস বর্ণনার গুনাহ তথা জাহান্নাম অবধারিত
হয়ে পড়ে। ৪. হাদীসটি ফাদায়িল বা কোন আমলের
ফযীলত বর্ণনা করছে এমন হাদীস হবে।
আহকাম (ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হারাম,
মাকরূহ) সাব্যস্তকারী হবেনা। ৫. হাদীসটি ব্যক্তি ও তার প্রভূর
মধ্যে একান্ত ব্যক্তিগতভাবে আমল
করা যাবে। এ হাদীসের উপর আমল করার
জন্য কেউ অপরকে আহবান করতে পারবে না। এ শর্তাবলীর আলোকে যদি আমরা উপরোক্ত
হাদীস সমূহের দিকে তাকাই
তাহলে দেখতে পাব যে, উপরোক্ত
হাদীসসমূহের মধ্যে শেষোক্ত
আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত
হাদীসটি বানোয়াট। সুতরাং তার উপর আমল করা উম্মাতের আলেমদের
ঐক্যমতে জায়েয নেই। প্রথম হাদীসটি দুর্বল, দ্বিতীয়
হাদীসটিও অধিকাংশ আলেমের মতে দুর্বল,
যদিও কোন কোন আলেম এর
বর্ণনাকারীগণকে শক্তিশালী বলে মত
প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কেবলমাত্র
বর্ণনাকারী শক্তিশালী হলেই হাদীস বিশুদ্ধ হওয়া সাব্যস্ত হয়না। মোট কথাঃ প্রথম ও দ্বিতীয় হাদীসদ্বয়
দুর্বল। খুব দুর্বল বা বানোয়াট নয়। আর তাই
প্রমাণিত হচ্ছে যে, এ রাত্রির ফযীলত
রয়েছে। আর তাই এ রাত্রির ফযীলত
রয়েছে বলে অনেক মুহাদ্দিস মত প্রকাশ
করেছেন, তম্মধ্যে রয়েছেনঃ  ইমাম আহমাদ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
থেকে বর্নিত। (ইবনে তাইমিয়া তার
ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীমে (২/৬২৬)
তা উল্লেখ করেছেন)।  ইমাম আওযায়ী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
। (ইমাম ইবনে রাজাব তার 'লাতায়েফুল
মা'আরিফ' গ্রন্থে (পৃঃ১৪৪) তার
থেকে তা বর্ণনা করেছেন)।  শাইখুল ইসলাম
ইবনে তাইমিয়া (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
। (ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীম
২/৬২৬,৬২৭, মাজমু' ফাতাওয়া ২৩/১২৩,
১৩১,১৩৩,১৩৪)।  ইমাম ইবনে রাজাব আল
হাম্বলী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)। (তার
লাতায়েফুল মা'আরিফ পৃঃ১৪৪ দ্রষ্টব্য)।  প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা নাসিরুদ্দিন
আল-আলবানী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
(ছিলছিলাতুল আহাদীস
আস্সাহীহা ৩/১৩৫-১৩৯)। উপরোক্ত মুহাদ্দিসগনসহ আরো অনেকে এ
রাত্রিকে ফযীলতের রাত বলে মত প্রকাশ
করেছেন। কিন্তু আমরা যদি উপরোক্ত প্রথম ও দ্বিতীয়
হাদীসদ্বয়ের দিকে তাকাই
তাহলে দেখতে পাব হাদীসদ্বয়ে বর্ণিত
হয়েছে যে, আল্লাহ
তা'আলা নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ
হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানাতে থাকেন। মুলতঃ সহীহ
হাদীসে সুস্পষ্ট এসেছে যেঃ "আল্লাহ
তা'আলা প্রতি রাত্রেই রাতের শেষ
তৃতীয়াংশে নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ
হয়ে আহবান জানাতে থাকেন "এমন কেউ
কি আছে যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব? এমন কেউ
কি আছে যে আমার কাছে কিছু চাইবে আর
আমি তাকে তা দেব? আমার
কাছে ক্ষমা চাইবে আর
আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?" (বুখারী,
হাদীস নং ১১৪৫, মুসলিম হাদীস নং ৭৫৮)। সুতরাং আমরা এ হাদীসদ্বয়ে অতিরিক্ত
কোন কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা। সুতরাং এ
রাত্রির বিশেষ কোন বিশেষত্ব আমাদের
নজরে পড়ছেনা। এজন্যই শাইখ আব্দুল আজীজ
ইবনে বায (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) সহ
আরো অনেকে এ রাত্রির অতিরিক্ত ফযীলত অস্বীকার করেছেন। {mospagebreak title= মাসআলা এক-দুই } এ রাত্রি উদযাপন ও এতদসংক্রান্ত
বিভিন্ন মাসআলার উত্তরঃ প্রথম প্রশ্নঃ এ রাত্রি কি ভাগ্য রজনী? উত্তরঃ না, এ রাত্রি ভাগ্য রজনী নয়,
মূলতঃ এ রাত্রিকে ভাগ্য রজনী বলার
পেছনে কাজ করছে সূরা আদ-দুখানের ৩ ও ৪
আয়াত দু'টির ভূল ব্যাখ্যা । তা হলোঃ আয়াতদ্বয়ের অর্থ হলোঃ "অবশ্যই
আমরা তা (কোরআন) এক মুবারক
রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি, অবশ্যই
আমরা সতর্ককারী, এ রাত্রিতে যাবতীয়
প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়"। এ আয়াতদ্বয়ের তাফসীরে অধিকাংশ
মুফাসসির বলেনঃ এ আয়াত
দ্বারা রামাযানের লাইলাতুল ক্বাদরকেই
বুঝানো হয়েছে। যে লাইলাতুল কাদরের
চারটি নাম রয়েছে: ১. লাইলাতুল কাদর। ২. লাইলাতুল বারা'আত। ৩. লাইলাতুচ্ছফ। ৪.লাইলাতুল মুবারাকাহ। শুধুমাত্র
ইকরিমা (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, এ আয়াত
দ্বারা শা'বানের মধ্য
রাত্রিকে বুঝানো হয়েছে।
এটা একটি অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা। আল্লামা ইবনে কাসীর
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আলোচ্য
আয়াতে 'মুবারক রাত্রি' বলতে 'লাইলাতুল
ক্বাদর বুঝানো হয়েছে, যেমন আল্লাহ
তা'আলা বলেছেনঃ "আমরা এ কোরআনকে ক্বাদরের
রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি"। (সূরা আল-
কাদরঃ১)। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেনঃ "রমযান এমন একটি মাস যাতে কোরআন
অবতীর্ণ করা হয়েছে"।
(সূরা আলবাকারাহঃ১৮৫)। যে ব্যক্তি এ রাত্রিকে শা'বানের
মধ্যবর্তী রাত বলে মত প্রকাশ
করেছে যেমনটি ইকরিমা থেকে বর্ণিত
হয়েছে সে অনেক দূরবর্তী মত গ্রহণ
করেছে; কেননা কোরআনের সুস্পষ্ট
বাণী তা রমযান মাস বলে ঘোষণা দিয়েছে'।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর (৪/১৩৭)।
অনুরূপভাবে আল্লামা শাওকানীও এ মত
প্রকাশ করেছেন। (তাফসীরে ফাতহুল
ক্বাদীর (৪/৭০৯)। সুতরাং ভাগ্য রজনী হলোঃ লাইলাতুল
ক্বাদর যা রামাযানের শেষ দশদিনের
বেজোড় রাত্রিগুলোকে বুঝায়। আর
এতে করে এও সাব্যস্ত হলো যে, এ আয়াতের
তাফসীরে ইকরিমা (রাহমাতুল্লাহি
আলাইহি) মতভেদ করলেও তিনি শা'বানের মধ্য তারিখের রাত্রিকে লাইলাতুল
বারা'আত নামকরণ করেননি; কারণ ভাগ্য
রজনী বা লাইলাতুল কদরেরই অপর নাম
লাইলাতুল বারা'আত। কোন মুফাসসিরই
লাইলাতুল বারা'আতকে লাইলাতুল ক্বাদর
থেকে আলাদা কোন দিন সাব্যস্ত করেননি। দ্বিতীয় প্রশ্নঃ শা'বানের মধ্য
রাত্রি উদযাপন করা যাবে কিনা? উত্তরঃ শা'বানের মধ্যরাত্রি পালন করার
কি হুকুম এ নিয়ে আলেমদের
মধ্যে তিনটি মত রয়েছে: একঃ শা'বানের মধ্য
রাত্রিতে মাসজিদে জামাতের
সাথে নামায ও অন্যান্য ইবাদত
করা জায়েযঃ প্রসিদ্ধ তাবেয়ী খালেদ ইবনে মি'দান,
লুকমান ইবনে আমের এ রাত্রটিতে সুন্দর
পোষাক-পরিচ্ছেদ পরে, আতর খোশবু,
শুরমা ব্যবহার
করে মাসজিদে গিয়ে মানুষদের নিয়ে এ
রাত্রিতে নামায আদায় করতেন। এ মতটি ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়ীয়াহ
থেকেও বর্ণিত হয়েছে। (লাতায়েফুল
মা'আরেফ পৃঃ১৪৪)। তারা তাদের মতের
সপক্ষে কোন দলীল পেশ করেননি।
আল্লামা ইবনে রাজাব
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাদের মতের সপক্ষে দলীল হিসাবে বলেনঃ তাদের
কাছে এ
ব্যাপারে ইসরাইলী তথা পূর্ববর্তী
উম্মাতদের থেকে বিভিন্ন
বর্ণনা এসেছিল, সে অনুসারে তারা আমল
করেছিল। তবে পূর্বে বর্ণিত বিভিন্ন দুর্বল হাদীস তাদের দলীল
হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকবে। দুইঃ শা'বানের মধ্য
রাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে সে রাত্রিতে
ইবাদত বন্দেগী করা জায়েযঃ ইমাম আওযা'য়ী, শাইখুল ইসলাম
ইবনে তাইমিয়া, এবং আল্লামা ইবনে রজব
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম) এ মত পোষণ
করেন। তাদের মতের
সপক্ষে তারা যে সমস্ত হাদীস দ্বারা এ
রাত্রির ফযীলত বর্ণিত হয়েছে সে সমস্ত সাধারণ হাদীসের উপর
ভিত্তি করে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত
করাকে জায়েয মনে করেন। তিনঃ এ ধরণের ইবাদাত (চাই
তা ব্যক্তিগতভাবে হোক
বা সামষ্টিকভাবেই হোক)
সম্পূর্ণরূপে বিদ'আতঃ ইমাম 'আতা ইবনে আবি রাবাহ,
ইবনে আবি মুলাইকা, মদীনার ফুকাহাগণ,
ইমাম মালেকের ছাত্রগণ, ও অন্যান্য
আরো অনেকেই এ মত পোষণ করেছেন।
এমনকি ইমাম আওযায়ী যিনি শাম
তথা সিরিয়াবাসীদের ইমাম বলে প্রসিদ্ধ তিনিও এ ধরনের
ঘটা করে মাসজিদে ইবাদত পালন
করাকে বিদ'আত বলে ঘোষণা করেছেন।
তাদের মতের সপক্ষে যুক্তি হলোঃ ১. এ রাত্রির ফযীলত সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন
দলীল নেই। রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ রাত্রিতে কোন
সুনির্দিষ্ট ইবাদত করেছেন বলে সহীহ
হাদীসে প্রমাণিত হয়নি। অনুরূপভাবে তার
কোন সাহাবী থেকেও কিছু বর্ণিত হয়নি। তাবেয়ীনদের মধ্যে তিনজন ব্যতীত আর
কারো থেকে বর্ণিত হয়নি। আল্লামা ইবনে রজব
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
বলেনঃ শা'বানের রাত্রিতে রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অথবা তার সাহাবাদের থেকে কোন নামায
পড়া সাব্যস্ত হয়নি। যদিও শামদেশীয় সুনির্দিষ্ট কোন কোন তাবেয়ীন
থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। (লাতায়েফুল
মা'আরিফঃ১৪৫)। শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ 'এ
রাত্রির ফযীলত বর্ণনায় কিছু দুর্বল
হাদীস এসেছে যার উপর
ভিত্তি করা জায়েয নেই, আর এ
রাত্রিতে নামায আদায়ে বর্ণিত যাবতীয় হাদীসই বানোয়াট, আলেমগণ এ
ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন'। ২. হাফেজ ইবনে রজব
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) যিনি কোন কোন
তাবেয়ীনদের থেকে এ রাত্রির ফযীলত
রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেছেনঃ ঐ সমস্ত তাবেয়ীনদের
কাছে দলীল হলো যে তাদের কাছে এ ব্যাপারে ইসরাইলী কিছু বর্ণনা এসেছে।
তা হলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, যারা এ
রাত পালন করেছেন তাদের দলীল হলো,
যে তাদের কাছে ইসরাইলী বর্ণনা এসেছে,
আমাদের প্রশ্নঃ ইসরাইলী বর্ণনা এ
উম্মাতের জন্য কিভাবে দলীল হতে পারে? ৩. যে সমস্ত তাবেয়ীনগণ থেকে এ রাত
উদযাপনের সংবাদ এসেছে তাদের
সমসাময়িক প্রখ্যাত ফুকাহা ও
মুহাদ্দিসীনগণ তাদের এ সব কর্মকান্ডের
নিন্দা করেছেন। যারা তাদের
নিন্দা করেছেন তাদের মধ্যে প্রখ্যাত হলেনঃ ইমাম আতা ইবনে আবি রাবাহ,
যিনি তার যুগের সর্বশ্রেষ্ট মুফতি ছিলেন,
আর যার সম্পর্কে সাহাবী আব্দুল্লাহ
ইবনে উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)
বলেছিলেনঃ তোমরা আমার কাছে প্রশ্নের
জন্য একত্রিত হও, অথচ তোমাদের কাছে ইবনে আবি রাবাহ রয়েছে।
সুতরাং যদি ঐ রাত্রি উদযাপনকারীদের
সপক্ষে কোন দলীল থাকত,
তাহলে তারা 'আতা ইবনে আবি রাবাহর
বিপক্ষে তা অবশ্যই পেশ করে তাদের
কর্মকান্ডের যথার্থতা প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন, অথচ এরকম করেছেন
বলে প্রমাণিত হয়নি। ৪. পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, যে সমস্ত
দুর্বল হাদীসে ঐ রাত্রির ফযীলত বর্ণিত
হয়েছে, তাতে শুধুমাত্র
সে রাত্রিতে আল্লাহর অবর্তীর্ণ
হওয়া এবং ক্ষমা করা প্রমাণিত হয়েছে,
এর বাইরে কিছুই বর্ণিত হয়নি। মুলতঃ এ অবতীর্ণ হওয়া ও ক্ষমা চাওয়ার আহবান
প্রতি রাতেই আল্লাহ তা'আলা করে থাকেন।
যা সুনির্দিষ্ট কোন রাত বা রাতসমূহের
সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এর বাইরে দুর্বল
হাদীসেও অতিরিক্ত কোন ইবাদত করার
নির্দেশ নেই। ৫. আর যারা এ
রাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে আমল করা জায়েয
বলে মন্তব্য করেছেন তাদের মতের
পক্ষে কোন দলীল নেই, কেননা এ
রাত্রিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বা তার সাহাবা কারো থেকেই ব্যক্তিগত
কিংবা সামষ্টিক কোন ভাবেই কোন প্রকার
ইবাদত করেছেন বলে বর্ণিত হয়নি। এর বিপরীতে শরীয়তের সাধারণ অনেক
দলীল এ রাত্রিকে ইবাদতের জন্য
নির্দিষ্ট করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছে,
তম্মধ্যে রয়েছেঃ আল্লাহ বলেনঃ "আজকের
দিনে আমি তোমাদের জন্য তোমাদের
দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম"। (সূরা আল-
মায়েদাহঃ ৩)। রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বলেছেনঃ (যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাবে যা এর
মধ্যে নেই, তা তার উপর নিক্ষিপ্ত হবে)।
(বুখারী, হাদীস নং ২৬৯৭)।
তিনি আরো বলেছেনঃ (যে ব্যক্তি এমন কোন
কাজ করবে যার উপর আমাদের দ্বীনের
মধ্যে নেই তা অগ্রহণযোগ্য হবে)। (মুসলিম, হাদীস নং ১৭১৮)। শাইখ আব্দুল আজীজ ইবনে বায
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ আর
ইমাম আওযা'য়ী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
যে এ রাতে ব্যক্তিগত ইবাদত করা ভাল
মনে করেছেন, আর যা হাফেয ইবনে রাজাব
পছন্দ করেছেন, তাদের এ মত অত্যন্ত আশ্চার্যজনক বরং দুর্বল; কেননা কোন কিছু
যতক্ষন পর্যন্ত শরীয়তের দলীলের
মাধ্যমে জায়েয বলে সাব্যস্ত
হবেনা ততক্ষন পর্যন্ত কোন মুসলিমের
পক্ষেই দ্বীনের মধ্যে তার অনুপ্রবেশ
ঘটাতে পারেনা। চাই তা ব্যক্তিগতভাবে করুক
বা সামষ্টিকভাবে দলবদ্ধভাবে জামাতের
সাথেই করুক। আর চাই গোপন বা প্রকাশ্য
যেভাবেই করা হোক। কারণ
বিদ'আতকে অস্বীকার
করে এবং তা থেকে সাবধান করে যে সমস্ত দলীল
প্রমাণাদি এসেছে সেগুলো সাধারণভাবে
তার বিপক্ষে মত দিচ্ছে। (আত্তাহযীর
মিনাল বিদ'আঃ১৩)। ৬. শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বায
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)
আরো বলেনঃ সহীহ মুসলিমে আবু
হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "তোমরা জুম'আর
রাত্রিকে অন্যান্য রাত্র থেকে কি্বয়াম/
নামাযের জন্য সুনির্দিষ্ট করে নিওনা, আর
জুম'আর দিনকেও অন্যান্য দিনের
থেকে আলাদা করে রোযার জন্য সুনির্দিষ্ট
করে নিওনা, তবে যদি কারো রোযার দিনে সে দিন ঘটনাচক্রে এসে যায়
সেটা ভিন্ন কথা"। (সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং ১১৪৪, ১৪৮)। যদি কোন
রাতকে ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট
করা জায়েয হতো তবে অবশ্যই জুম'আর
রাতকে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে সুনির্দিষ্ট করা জায়েয হতো;
কেননা জুম'আর দিনের ফযীলত
সম্পর্কে হাদীসে এসেছে যে, "সুর্য
যে দিনগুলোতে উদিত হয়
তম্মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ট দিন হলো জুম'আর
দিন"। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৪)। সুতরাং যেহেতু রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুম'আর
দিনকে বিশেষভাবে কিয়াম/নামাযের
জন্য সুনির্দিষ্ট করা থেকে নিষেধ
করেছেন সেহেতু অন্যান্য
রাতগুলোতে অবশ্যই ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে নেয়া জায়েয হবেনা।
তবে যদি কোন রাত্রের ব্যাপারে সুস্পষ্ট
কোন দলীল এসে যায় তবে সেটা ভিন্ন কথা।
আর যেহেতু লাইলাতুল কাদর এবং রমযানের
রাতের কিয়াম/নামায পড়া জায়েয সেহেতু
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ রাতগুলোর
ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীস এসেছে। ৭. যদি শা'বানের মধ্যরাত্রিকে উদযাপন
করা বা ঘটা করে পালন করা জায়েয
হতো তাহলে অবশ্যই রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ
ব্যাপারে আমাদের জানাতেন।
বা তিনি নিজেই তা করতেন। আর এমন কিছু তিনি করে থাকতেন তাহলে সাহাবাগণ
অবশ্যই তা উম্মাতের
কাছে বর্ণনা করতেন। তারা নবীদের
পরে জগতের শ্রেষ্টতম মানুষ,
সবচেয়ে বেশী নসীহতকারী, কোন কিছুই
তারা গোপন করেননি'। (আত্তহযীর মিনাল বিদাঃ ১৫, ১৬)। উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের
কাছে স্পষ্ট হলো যে, কুরআন, হাদীস ও
গ্রহণযোগ্য আলেমদের
বাণী থেকে আমরা জানতে পারলাম
শা'বানের মধ্য
রাত্রিকে ঘটা করে উদযাপন করা চাই তা নামায বা অন্য কিছু যাই হোক
অধিকাংশ আলেমদের মতে জগন্যতম
বিদ'আত। শরীয়তে যার কোন ভিত্তি নেই।
বরং তা' সাহাবাদের যুগের পরে প্রথম শুরু
হয়েছিল। যারা হক্কের অনুসরণ করতে চায়
তাদের জন্য দ্বীনের মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা করতে বলেছেন তাই যথেষ্ট। {mospagebreak title= মাসআলা তিন-চার } তৃতীয় প্রশ্নঃ শা'বানের মধ্য
রাত্রিতে হাজারী নামায পড়ার কি হুকুম? উত্তরঃ শা'বানের মধ্য রাত্রিতে একশত
রাকাত নামাজে প্রতি রাকাতে দশবার
সূরা কুল হুওয়াল্লাহ (সূরা ইখলাস)
দিয়ে নামাজ পড়ার যে নিয়ম প্রচলিত
হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে বিদ'আত। এ
নামাযের প্রথম প্রচলনঃ এ নামাযের প্রথম প্রচলন হয় হিজরী ৪৪৮
সনে। ফিলিস্তিনের নাবলুস শহরের
ইবনে আবিল হামরা নামীয় একলোক বায়তুল
মুকাদ্দাস আসেন। তার তিলাওয়াত ছিল খুব
সুন্দর। তিনি শা'বানের মধ্য
রাত্রিতে নামাজে দাড়ালে তার পিছনে এক লোক এসে দাঁড়ায়, তারপর তার
সাথে তৃতীয় জন এসে যোগ দেয়, তারপর
চতুর্থ জন। তিনি নামায শেষ করার আগেই
বিরাট একদল লোক এসে তার সাথে যুক্ত
হয়ে পড়ে। তারপর যখন পরবর্তী বছর আসল, তার
সাথে অনেকেই এসে নামায পড়ল। আর
এতে করে মাসজিদে আক্সাতে এ নামায
ছড়িয়ে পড়ল। তারপর এমনভাবে আদায়
হতে লাগল যে অনেকেই তা সুন্নাত
মনে করে নিল। (ত্বারতুসীঃ হাওয়াদেস ও বিদ'আ পৃঃ১২১, ১২২,
ইবনে কাসীরঃ বিদায়া ওয়ান
নিহায়া ১৪/২৪৭, ইবনুল কাইয়েমঃ আল-
মানারুল মুনিফ পৃঃ৯৯)। এ নামাযের পদ্ধতিঃ এ নামাযের
পদ্ধতি হলো প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার
পরে সূরা ইখলাস দশবার করে মোট একশত
রাকাত নামায পড়া।
যাতে করে সূরা ইখলাস ১০০০ বার পড়া হয়।
(এহইয়ায়ে উলুমুদ্দীন (১/২০৩)। এ ধরণের নামায সম্পূর্ণ বিদ'আত। কারণ এ ধরণের
নামাযের বর্ণনা কোন হাদীসের
কিতাবে আসেনি। কোন কোন বইতে এ
সম্পর্কে যে সমস্ত হাদীস উল্লেখ করা হয়
সেগুলো কোন হাদীসের কিতাবে আসেনি।
আর তাই আল্লামা ইবনুল জাওযী (মাওদু'আত ১/১২৭-১৩০), হাফেয ইরাকী (তাখরীজুল
এহইয়া), ইমাম নববী (আল-মাজমু' ৪/৫৬),
আল্লামা আবু শামাহ (আল-বা'য়েস
পৃঃ৩২-৩৬), শাইখুল ইসলাম
ইবনে তাইমিয়্যা, (ইকতিদায়ে ছিরাতুল
মুস্তাকীম ২/৬২৮), আল্লামা ইবনে 'আররাক (তানযীহুশ শরীয়াহ ২/৯২), ইবনে হাজার
আল-আসকালানী, আল্লামা সূয়ূতী (আল-আমর
বিল ইত্তেবা পৃঃ ৮১, আল-লাআলিল মাসনূ'আ
২/৫৭), আল্লামা শাওকানী (ফাওয়ায়েদুল
মাজমু'আ পৃঃ৫১) সহ আরো অনেকেই এ
গুলোকে "বানোয়াট হাদীস" বলে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। এ ধরণের নামাযের হুকুম সঠিক জ্ঞানের অধিকারী আলেমগণের
মতে এ ধরণের নামায বিদ'আত; কেননা এ
ধরনের নামায আল্লাহর রাসূলও পড়েননি।
তার কোন খলীফাও পড়েননি। সাহাবাগণও
পড়েননি। হেদায়াতের ইমাম তথা আবু
হানিফা, মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ, সাওরী, আওযায়ী, লাইস সহ অন্যান্যগণ কেউই এ
ধরণের নামায
পড়েননি বা পড়তে বলেননি। আর এ ধরণের নামাযের বর্ণনায়
যে হাদীসসমূহ কেউ কেউ উল্লেখ
করে থাকে তা উম্মাতের আলেমদের
সর্বসম্মত মতে বানোয়াট। (এর জন্য
দেখুনঃ ইবনে তাইমিয়ার মাজমু'
ফাতাওয়া ২৩/১৩১,১৩৩,১৩৪, ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীম ২/৬২৮, আবু
শামাহঃ আল-বা'য়েছ পৃঃ ৩২-৩৬, রশীদ
রিদাঃ ফাতাওয়া ১/২৮, আলী মাহফুজ,
ইবদা' পৃঃ২৮৬,২৮৮,
ইবনে বাযঃ আত্তাহযীর মিনাল বিদ'আ
পৃঃ১১-১৬)। চতুর্থ প্রশ্নঃ শা'বানের মধ্য রাত্রির
পরদিন কি রোযা রাখা যাবে? উত্তরঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বহু সহীহ
হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে,
তিনি শা'বান
মাসে সবচেয়ে বেশী রোযা রাখতেন। (এর
জন্য দেখুনঃ বুখারী, হাদীস নং ১৯৬৯, ১৯৭০, মুসলিম, হাদীস নং ১১৫৬, ১১৬১,
মুসনাদে আহমাদ ৬/১৮৮, সুনানে আবু দাউদ,
হাদীস নং ২৪৩১, সহীহ ইবনে খুযাইমা,
হাদীস নং ২০৭৭, সুনানে তিরমিঝি,
হাদীস নং ৬৫৭)। সে হিসাবে যদি কেউ
শা'বান মাসে রোযা রাখেন তবে তা হবে সুন্নাত। শাবান মাসের শেষ
দিন ছাড়া বাকী যে কোন দিন
রোযা রাখা জায়েয বা সওয়াবের কাজ।
তবে রোজা রাখার সময় মনে করতে হবে যে,
রাসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেহেতু শা'বান মাসে রোজা রেখেছিলেন তাকে অনুসরন
করে রোযা রাখছি। অথবা যদি কারও আইয়ামে বেদের নফল
রোযা তথা মাসের ১৩,১৪,১৫ এ তিনদিন
রোযা রাখার নিয়ম থাকে তিনিও
রোযা রাখতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র
শা'বানের পনের তারিখ
রোযা রাখা বিদ'আত হবে। কারণ শরীয়তে এ রোযার কোন ভিত্তি নেই। আল্লাহ
আমাদেরকে তাঁর রাসূলের পরিপূর্ণ পদাঙ্ক
অনুসরন করে চলার তৌফিক দিন। আমীন। (((সমাপ্ত)))
Read More...